মানুষের মাথা প্রতিস্থাপন ইতালীয় চিকিৎসক দলের

0 90

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

একজন ইতালীয় নিউরোসার্জন দাবি করছেন তার চিকিৎসক দল পৃথিবীর প্রথম “সফল” মানুষের মাথা প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। চীনের দুইটি মরদেহের ওপর তারা এই অস্ত্রোপচার করেন বলে জানা যায়।

১৮ ঘন্টার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সার্জিও ক্যানাভারো জানান, এরপর তিনি জীবিত মানুষের ওপরে এই কাজটি করে দেখতে চান। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন ২০১৭ সাল নাগাদ এই কাজটি করে দেখাবেন।

এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা। এই প্রক্রিয়ায় এক শরীর থেকে মাথা আলাদা করে অন্য শরীরে প্রতিস্থাপন করা পর্যন্ত সেটাকে জীবিত রাখতে হবে। জীবিত মানুষের শরীরে এটা সম্ভব না বলেই তারা মনে করেন। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বায়োএথিকস এর অধ্যাপক আর্থার ক্যাপলান জানান, ক্যানাভারোর এই কাজ ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়। সফলভাবে মানুষের মাথা প্রতিস্থাপন সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির একটি ফেস ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম আছে, একজন মানুষের থেকে আরেকজন মানুষের শুধুমাত্র চেহারাটুকু প্রতিস্থাপন করাটাও প্রচন্ড কঠিন। অনেক বড় বড় ডোজে ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ব্যবহার করতে হয়, যাতে মানুষের শরীর এই ট্রান্সপ্লান্টকে নষ্ট না করে দেয়। মাথা প্রতিস্থাপন করতে গেলে আরো বড় ডোজ দরকার হবে। আর কয়েক বছরের মাঝে রিজেকশন বা ইনফেকশনের মাধ্যমে মারা যাবেন মানুষটি।

এটাও হতে পারে যে, মাথা এবং শরীর আলাদা মানুষের হওয়ায়, প্রতিস্থাপনের পর সেই মানুষটি কখনোই আর পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে পাবেন না।

“নতুন সকেটে একটা লাইট বাল্ব ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো সহজ কাজ নয় এটি,” জানান প্রফেসর ক্যাপলান। “আপনি যদি মাথা ও মস্তিষ্ক সরিয়ে ফেলেন, সে থাকবে নতুন একটা রাসায়নিক পরিবেশে আর নিউরোলজিক্যাল ইনপুটগুলোও নতুন হবে। মৃত্যুর আগে পাগল হয়ে যাবে সেই মানুষটি।”

শুধু তাই নয়, প্রতিস্থাপন সফল হবার জন্য সার্জনদের কাজ হবে প্রচুর স্নায়ু এবং রক্তনালী জোড়া দেওয়া। মেরুদন্ড এবং সুষুম্নাকান্ডও জোড়া দিতে হবে। ক্যানাভারো দাবি করেন তারা মেরুদন্ড, স্নায়ু এবং রক্তনালী জোড়া দেবার উপায় বের করেছেন। এই ব্যাপারটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাপলান।

“তিনি যদি জানতেন কীভাবে স্পাইনাল কর্ড মেরামত করতে হয়, জোড়া দিতে হয়, তাহলে তার উচিৎ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির রোগীদেরকে সাহায্য করা,” জানান ক্যাপলান। “এমন প্রচুর মানুষ আছে পৃথিবীতে। তারা হাঁটতে চায়, নিজের শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই কাজটা না করার তো কোনো কারণ নেই।“

চীনের হারবিন মেডিকেন ইউনিভার্সিটির ডঃ শাওপিং রেন এর সাথে ক্যানাভারো এই মাথা প্রতিস্থাপনের কাজটি করেন। কিন্তু তার কাজের বর্ণনা ভালো কোনো জার্নালে প্রকাশিত হয়নি বলে জানান ক্যাপলান।

ক্যাপলান এটাও বলেন, ক্যানাভারো অন্য প্রাণীদের ওপরে এই কাজ করে দেখেননি যে তা আসলেই সফল হবে কিনা। ২০১৬ সালে ক্যাপলান একটি জীবিত বানরের ওপর মাথা প্রতিস্থাপনের এই অস্ত্রোপচার করেন এবং বলা হয় তার কোনো নিউরোলজিক্যাল ক্ষতি হয়নি। কিন্তু সেই বানর মারা যায় ২০ ঘন্টা পরেই। ক্যাপলান জানান, এসব প্রাণীকে এক-দুই বছর জীবন্ত বা অন্তত সজ্ঞান রাখতে পারা দরকার ছিল।

১৯৭০ সালে হেড ট্রান্সপ্লান্টের অগ্রদূত রবার্ট হোয়াইটও একটি বানরের মাথা প্রতিস্থাপন করেছিলেন। বানরটি নয়দিন বেঁচে ছিল। শরীরটি প্রতিস্থাপন করা মাথাকে রিজেক্ট করার কারণে সে মারা যায়। ক্যাপলানের মতে, নাৎসি ফিজিশিয়ানরা যেমন অস্ট্রিয় বন্দীদের ওপর উদ্ভট সব পরীক্ষা করতেন, এই পরীক্ষাও তেমন অমানবিক এবং এতে সমস্যা হবেই।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.