মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে ঘনিষ্ঠভাবে সহায়তা করতে চাই চীন

0 20

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   ::   রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হামলা-নির্যাতন-ধর্ষণের অভিযোগে সারা বিশ্বে সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার খাতিরে ‘ঘনিষ্ঠভাবে’ কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন চীনের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।

চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, তা খনিজ সম্পদ বিশেষত, তেল-গ্যাস খাতকে কেন্দ্র করে আরো দৃঢ় হচ্ছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন তাদের তিন দফা পরিকল্পনার কথাও পেশ করেছে।

চায়না সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লি জুচেং বেইজিংয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, জটিল ও চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীন আগ্রহী।

প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত বিষয়াদি ছাড়াও দুই সেনাবাহিনী নিজেদের মধ্যে থাকা অভিন্ন সীমান্ত সুরক্ষার কাজও করতে চায় বলেও জানান লি জুচেং।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের কাছে জাতিগত সহিংসতার কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের নাগরিকদের চীনে প্রবেশের বিষয়ে নিজেদের উদ্বিগ্নতার কথা জানান লি।

ভৌগোলিক দিক থেকে মিয়ানমারের অবস্থান এমন একটি জায়গায়, যার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রতিবেশী চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে।

বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে চীনা কোম্পানি দেশটির উত্তরের শান রাজ্যে কাঠশিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদ ও নৌপরিবহন খাতে বিনিয়োগ করে।

অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পের একটি হচ্ছে চীনের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস উত্তোলন ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানির বহুজাতিক পাইপলাইন নির্মাণ।

এটি রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতুর সঙ্গে চীনের কুনমিংকে সংযুক্ত করবে। এর কাজ শুরু হয়েছে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এটাও সবাই জানে যে, মিয়ানমারের সিয় গ্যাসফিল্ড থেকে তেল ও গ্যাস গানজুয়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চীন ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমান্তরাল আরেকটি পাইপলাইন স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল মিয়ানমারের কিওফিও বন্দর থেকে চীন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। গত ২৫ আগস্ট থেকে সহিংসতার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তাদের কক্সবাজারে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এতিম শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমার ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি পরিহার করার পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠীকে নিজেদের দেশের নাগরিক বা স্বতন্ত্র নৃগোষ্ঠী বলেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়।

এর মধ্যে গতকাল প্রথমবারের মতো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতায় জাতি নির্মূলের উপাদান পাওয়া গেছে।
সিটিজিনিউজ/এসএ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.