মিশরে জুমার নামাজে হামলা,নিহত ২৩৫

0 21

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  :: মিশরের সিনাই প্রদেশের আল-রাওদাহ মসজিদে জুমার নামাজের সময় চালানো হামলায় নিহতদের শহীদ আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি। আধুনিক মিসরের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই হামলায় শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার দুপুরে মসজিদে চালানো ওই হামলায় কমপক্ষে ২৩৫ জন নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট এ হুঁশিয়ারি দেন।

সিসি বলেন, ‘এ হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই রুখে দেওয়ার একটি চেষ্টা। সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ আমাদের শহীদদের রক্তের বদলা নেবে এবং নিরাপত্তা ও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে।’বিবিসির খবরে বলা হয়, সিসির এ হুঁশিয়ারির পর ‘সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মিসরের সেনাবাহিনী।

কী হয়েছিল শুক্রবার  অন্য শুক্রবারগুলোর মতো গতকালও সিনাই প্রদেশের বির আল-আবেদ এলাকার আল রাওদাহ মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ছিলেন মুসল্লিরা। হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটানো হয় আগে থেকে মসজিদের ভেতরে রাখা বোমায়। বোমার আঘাতে নিহত হন বেশ কয়েক জন। বাকি মুসল্লিরা আতঙ্কে মসজিদের বিভিন্ন পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।তবে বিস্ফোরণের পর পরই কয়েকটি গাড়ি নিয়ে মসজিদটি ঘিরে ফেলে সন্ত্রাসীরা।

মসজিদের প্রবেশমুখগুলোর কাছাকাছি গাড়ি নিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানো হয় আতঙ্কিত মুসল্লিদের ওপর। এমনকি হতাহতদের উদ্ধারে আসা অ্যাম্বুলেন্সের ওপর গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুফি মতাদর্শের মুসলিমরা প্রায়ই ওই মসজিদে জমায়েত হতেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলো সুফি মতাদর্শের অনুসারীদের ইসলামের শত্রু বলে বিবেচনা করে থাকে।

কারা চালিয়েছে হামলা? হামলার ২৪ ঘণ্টা পার হতে চললেও এখনো এর দায় স্বীকার করেনি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন। তবে মিসরের বিভিন্ন রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদের উত্থান-পতনের অতীত বিশ্লেষণ করে হামলাকারী সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিবিসি।সংবাদ মাধ্যমটির খবরে বলা হয়, ২০১৩ সালে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই জঙ্গিবাদের উত্থান হয় দেশটিতে।

সে সময় থেকে বিভিন্ন হামলায় নিহত হয়েছে শত শত সাধারণ মানুষ, সেনা সদস্য ও পুলিশ।পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সাল থেকে চালানো এসব হামলার বেশির ভাগেরই পেছনে হাত রয়েছে ‘সিনাই প্রভিন্স’ নামের একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের। সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সিনাই প্রদেশে আইএসের শাসন কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

সিনাই প্রভিন্স নামের সন্ত্রাসী সংগঠনটি মূলত উত্তর সিনাইয়ে সক্রিয় রয়েছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টান উপাসনালয়গুলোতে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে তারা। এ ছাড়া ২০১৫ সালে সিনাইয়ে একটি পর্যটকবাহী রাশিয়ান বিমানেও হামলা চালায় সংগঠনটি। ওই হামলায় নিহত হয় ২২৪ জন। এর আগে ২০১৪ সালে এক হামলায় ৩৩ জন নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যা করে তারা।

সিটিজিনিউজ/আই.এস/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.