‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’ স্লোগানে কলেজে কর্মবিরতি

0
19

সদ্যঘোষিত জাতীয়করণকৃত কলেজসমূহের শিক্ষকদের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও বিসিএস ক্যাডার রুলস্ অনুযায়ী ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা প্রণয়নের দাবিতে চট্টগ্রামের ২০ সরকারি কলেজে কর্মবিরতি পালন করেছে শিক্ষকেরা।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজে কর্মবিরতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত সকল পরীক্ষা ও কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা হয়নি।

‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগরীর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, মহসিন কলেজ, সিটি কলেজসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ২০ সরকারি কলেজের শিক্ষকরা এবং চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসন একাডেমির কর্মকর্তারা রোববার ও সোমবার এই কর্মসূচি পালন করেছে।

কর্মবিরতি পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ঝর্ণা খাতুন  বলেন, ‘আমাদের বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষকদের মর্যাদার আন্দোলন চলছে। কলেজ জাতীয়করণ হোক, তা আমরাও চাই। কিন্তু এক্ষেত্রে বিসিএস শিক্ষকদের অসম্মান করে নয়। আমরা অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তি হয়েছি। কিন্তু যে বেসরকারি কলেজগুলো সরকারিকরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেইসব কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত হলে আমরা পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হবো। এ বিষয়টি মাথায় রেখে মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন করছি। আমরা রাষ্ট্রদ্রোহী বা সরকার বিরোধী নয়। তবে জাতীয়করণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। যাতে আমরা কোনরূপ বৈষম্যের স্বীকার না হই। এক্ষেত্রে অবশ্যই বিসিএস ক্যাডার রুলস অনুসরণ করতে হবে।’

কর্মবিরতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স, ডিগ্রি পাস কোর্সের ২য় বর্ষের পরীক্ষা, ভাইভা এবং কলেজের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এরূপ শুধু সিটি কলেজ নয় নগরীসহ চট্টগ্রামের ৫ জেলার ২০ সরকারি কলেজে এরূপ সব পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কোন ক্লাসও অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রামের ২০ সরকারি কলেজ

শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া  জানান, কলেজ জাতীয়করণের বিপক্ষে আমরা নই। তবে জাতীয়করণের লক্ষ্যে ঘোষিত কলেজসমূহের শিক্ষকবৃন্দকে নন-ক্যাডার হিসেবে রাখতে হবে এবং বিসিএস ক্যাডার রুলস্ অনুযায়ী ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। মর্যাদার প্রশ্নে কোন আপস নেই। কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২ দিন নগরী ৬টিসহ চট্টগ্রামের ২০ সরকারি কলেজে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।

এর আগে নগরীর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ মিলনায়তনে সংগঠনের বিভাগীয় সমাবেশে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণয়নে সময়ে বেঁধে দিয়েছিল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা জাতীয়করণের তালিকায় থাকা ৩২৫টির মত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিসিএস পরীক্ষায় যোগ্য বিবেচিত না হয়েও ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশের যেকোনো উদ্যোগকে প্রতিহত করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here