তেলিয়া ভোলা মাছের কেজি ২৫,০০০হাজার টাকা!

0
120

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   :: এক মণ ওজনের তেলিয়া ভোলা মাছ বিক্রি হলো পৌনে ১০ লাখ টাকারও বেশি দামে। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূল দীঘার পাইকারি মাছবাজারে এই বিশাল সাইজের তেলিয়া ভোলা মাছটি নিলাম হয়। এদিন মাছটিকে দেখতে মৎস্যজীবী থেকে সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ে।

সূত্র জানায়, বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মন্দারমনির কোস্টাল থানার কালিন্দী এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনের ট্রলারের বেহুদি জালে বিশালাকার এই তেলিয়া ভোলা মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি লম্বায় প্রায় পাঁচ ফুট এবং ওজন ৪০ কেজি। মাছটি ধরা পড়ার পর সেটি নিলাম করার জন্য নিয়ে আসা হয় দীঘা মোহনা মাছবাজারে।

মৎস্যজীবী জাকির হোসেন মাছটিকে নিয়ে আসেন সোজা আড়তদার নবকুমার পয়ড়্যার আড়তে। এর পর শুরু হয় ক্রেতাদের দরদাম। দুপুর পর্যন্ত চলে নিলামের প্রক্রিয়া। ১৯ হাজার রুপি থেকে দাম উঠতে উঠতে শেষ পর্যন্ত সেটি বিক্রি হয় সাত লাখ ৬০ হাজার রুপিতে (বাংলাদেশি মূল্যমানে নয় লাখ ৭৬ হাজার টাকা)

মাছটি কেনেন ‘এমআরএফটি’ নামে একটি মৎস্য ব্যবসায়ী সংস্থার পক্ষে দেবাশীষ জানা। নিজের জালে ধরা বিশালাকার মাছটি এত দামে বিক্রি হওয়ায় স্বভাবতই খুশি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ট্রলারের জালে যে এত বড় মাছ ধরা পড়বে এবং তা এত দামে বিক্রি হবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।’

অন্যদিকে বিশাল সাইজের তেলিয়া ভোলা মাছটি কেনার পর ক্রেতা দেবাশীষ জানা বলেন, ‘মাছটি কিনতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি।’ তবে তেলিয়া ভোলা মাছের এত দামে বিক্রি হওয়া প্রসঙ্গে দীঘা মোহনা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা আড়তদার নবকুমার পয়ড়্যা বলেন, শংকর প্রজাতির এই মাছ আগেও বেশ কয়েকবার কাথির সমুদ্র উপকূলে ধরা পড়েছে।

তবে এবারের মাছটি আকারে বেশ বড় এবং ওজনেও অনেক বেশি। মাছটি ধরা পড়ার পর এত খ্যাতি এবং পরিচিতি লাভ করেছে যে মাছটির চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। নবকুমার আরো বলেন, এই মাছের পটকা জীবনদায়ী ওষুধ ও ক্যাপসুলের খোল তৈরির কাজে লাগে।

ফলে বিদেশের বাজারে এই মাছের বিরাট চাহিদা রয়েছে এবং এ ধরনের মাছের দামও বেশি। তবে এ ধরনের তেলিয়া ভোলা মাছ খাওয়াও যায়। পটকা ছাড়া এই মাছ ৪০০-৫০০ রুপি কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে মাছের পটকার কদরই বেশি।

যাঁরা মাছটিকে কিনেছেন, তাঁরা চীন বা অন্য কোনো দেশে তা রপ্তানি করবেন। সেখানেই পটকা থেকে জীবনদায়ী ওষুধ ও ক্যাপসুলের খোল তৈরি হয়। নবকুমার বলেন, এ ধরনের মাছ গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে। কিন্তু প্রজননের জন্য উপকূলের দিকে চলে আসে, তখনই মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ে মাছটি।

সিটিজিনিউজ/আই.এস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here