১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার দাবীতে সমাবেশ

0

মহান মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীন করা এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুজ্জ্বল রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে ১ ডিসেম্বরকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গতকাল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, নতুন প্রজন্মসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক সত্য ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা আজ সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অকৃত্রিম চেতনায় মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করে পাকিস্তানী শাসন–শোষণের নির্মম বৈষম্যের নিগড় থেকে বের করে বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটায়। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দেশ পেয়েছি, একটি মানচিত্র পেয়েছি, একটি নির্ভেজাল বাঙালি সংস্কৃতি পেয়েছি। যেখানে বৈষম্যহীন একটি বাঙালি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের এই অবদান জাতি কোনদিন ভুলবে না। তিনি আরো বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের এই দাবি আজ এই মঞ্চ থেকে পৌঁছালে তিনি অচিরেই ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরো শক্তিশালী করবেন। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারকে মতায় আনার জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডের সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া বড় বেশি প্রয়োজন আজ। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা পাকিস্তানী অপশক্তিকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। তার পরবর্তীতে সকল ন্যায়ের সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকেছি। বিশেষ করে মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন–সংগ্রামের ক্লান্তি নেই। এই ডিসেম্বর মাসে আমরা বিজয় পেয়েছি। এই ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের জাগরণের মাস।

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে সেক্টরর্স কমান্ডার ফোরাম বিভাগীয় সদস্য সচিব ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার বলেন, এই বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনায় সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য এদেশের স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী মুক্তিযোদ্ধাদের সক্রিয় অবস্থানের কোন বিকল্প নেই। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার সরোয়ার কামাল দুলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নুরুল আফসার, মহানগর সহকারী কমান্ডার এফ.এফ. আকবর খান, মহানগর সহকারী কমান্ডার খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), জেলা সহকারী কমান্ডার এস.এম. ইলিয়াছ চৌধুরী, জেলা সহকারী কমান্ডার নাছির উদ্দিন, সহকারী কমান্ডার জামাল উল্লাহ, বাবুল মজুমদার, চন্দনাইশ থানা কমান্ডার জাফর আলী হিরু, সাতকানিয়া কমান্ডার আবু তাহের এলএমজি, খুলশী থানা কমান্ডার মো. ইউছুপ, চান্দগাঁও থানা কমান্ডার কুতুব উদ্দিন, বন্দর থানা কমান্ডার কামরুল আলম, সদরঘাট থানা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, পাহাড়তলী থানা কমান্ডার হাজী জাফর, ইপিজেড থানা কমান্ডার আবুল কালাম, যুব মহিলা লীগ নেত্রী শায়রা বানু রুশ্মী, সেক্টর কমান্ডারস্‌ ফোরামের নেত্রী এড., সাইফু নাহার খুশী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক মোহাম্মদ মছরুর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলার আহ্বায়ক মশিউজ্জামান সিদ্দিকী পাভেল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এর সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান পাভেল, মহানগর সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সজীব প্রমুখ।

সিটিজিনিউজি/ এইচএম

Share.

Leave A Reply