ধর্মঘটেও ভেজাল,যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে গণপরিবহণ

0

নিজস্ব পরিবহণ: অনির্দিষ্টকালে গণপরিবহণের ধর্মঘট চলছে। তবে সেটি ভেজাল ধর্মঘট। অফিসমুখো ও অফিস ফেরত মানুষদের টার্গেট করে এই ধর্মঘট। এমনটা না হলে সকালের ধর্মঘট বিকাল গড়াতেই ম্লান হয়ে যায়। ধর্মঘট ডেকে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে গণপরিবহণ।এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কবলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীসাধারণ,কর্মস্থলমুখী মানুষ। তবে লুসাই পরিবহণের গুটি কয়েক গণপরিবহণ সড়কে চলতে দেখা গেছে। এতে কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছে যাত্রীদের।

পুলিশি হয়রানি বন্ধ, অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট করছে গাড়িমালিকদের একাংশ।

শত শত মানুষ বেশি ভাড়ায় রিকশা, সিএনজি অটোরিকশায় কর্মস্থলে গেলেও অনেকে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাদুরতলার যাত্রী বেলালুর রহমান বলেন, ‘পূর্বঘোষণা ছাড়া এ ধরনের ধর্মঘটের কারণে দাঁড়িয়ে আছি এক ঘণ্টা হলো। সুযোগ পেয়ে ২০ টাকার রিকশাভাড়া ৫০ টাকা দাবি করছে। ৬০ টাকার সিএনজি অটোরিকশাভাড়া ১২০ টাকা চাইছে। সবচেয়ে অসুবিধার হচ্ছে বাড়তি ভাড়ায়ও গাড়ি মিলছে না।’

একই চিত্র কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, , লালখানবাজার, টাইগারপাস, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ পুরো নগরীতেই দেখা গেছে। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি শেষে অনেকে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরের প্রবেশমুখগুলোতে এসেছে পড়েছেন দুর্ভোগে।

চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার, টেম্পুসহ সব ধরনের গণপরিবহন ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে। আমাদের পরিষদের অধীনে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি পরবর্তী দাবি আদায়ের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত চলবে না।

যাত্রীর তুলনায় গাড়ির সংকট থাকলে কিছু কিছু গণপরিবহন চলাচল করা প্রসঙ্গে বেলায়েত হোসেন বলেন, লুসাই মোটরসের গাড়িগুলো চলছে। আমাদের আন্দোলন তাদের অবৈধ গাড়ি, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি, নির্দিষ্ট রুটের বাইরে চলাচলরত গাড়ি বন্ধের দাবিতে। এখন তাদের কারণে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই। আমরা ১১ দফা দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

এদিকেল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লুসাই পরিবহণের গাড়িও বাড়তে দেখা গেছে। খোদ মেট্টো গণপরিবহণেরও কিছু গাড়ি সড়কে চলতে দেখা গেছে।

কর্ণাল হাট থেকে জামাল খানের উদ্দেশ্যে আসা অফিসগামী আজহার শাওন সিটিজিনিউজকে বলেন ‘ ধর্মঘট ডেকে আবার গাড়ি চলছে খোদ গণপরিবহণ সমিতির। আবার লুসাই পরিবহণেরও গাড়ি চলতে দেখা যায়। গাড়ি যখন চলবে তাহলে ধর্মঘট ডাকার দরকার কি? ধর্মঘট শুধুমাত্র সকালের অফিসমুখো ও অফিস ফেরত মানুষদের টার্গেট করে। বাকী সময়টুকু ঠিকই গাড়ি চলতে দেখা যায়। ভেজালের যুগে ধর্মঘটও ভেজাল হয়েছে সেটিই গণপরিবহণের মালিকরা প্রমাণ করছে। এভাবে চলতে থাকলে যাত্রী সাধারণের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ বিষফোড়া হয়ে উঠবে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

Share.

Leave A Reply