‘জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন শেখ হাসিনা’ 

0
19

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। তাই বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত আকাক্সক্ষা পূর্ণ হয়েছে। শেখ হাসিনা আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সভায় বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাড়াবার সন্ধান দিয়েছেন। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। তাই আমাদের মধ্য শক্তি সঞ্চয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আজ বিকেলে সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ আšতর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহ্য। পচাত্তরের পর নতুন প্রজন্মকে এই ভাষণ শুনতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে নানা ভাবে বিপথগামী করা হয়েছিল। এই প্রজন্মকে আজ পরিশুদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শনের পাঠ গ্রহণে তাড়িত করতে হবে।

মূখ্য আলোচক বরেণ্য সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এতো ষড়যন্ত্রের পরও বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই স্বদেশ ভূমির অ¯িতত্ব রক্ষা করে চলেছেন। তাঁকে উৎখাত করার অনেক অপচেষ্টা চলছে, তারপরও মহান রাব্বুল আ’লামীনের রহমতে তিনি আমাদের মধ্যই আছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এই বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাড়াবে। তিনি আরো বলেন, পচাত্তরের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যারা এদেশকে পাকি¯তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে এনেছিল তারা ইতিহাসের খলনায়ক। এরপর আমরা ২১টি বছর পরাধীন হয়ে গিয়েছিলাম। ৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আমাদেরকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করেছেন। মাঝখানে ২০০১ সালে একটি চক্রাšেতর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর আমরা দেখেছি মানবিক বিপর্যয় ও সংখ্যালঘু নির্যাতন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে শেখ হাসিনা মোকাবেলা করে ২০০৮ সালে আবার ক্ষমতায় এসে এই জাতিকে উজ্জ্বল উদ্ধার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমার কাছে তথ্য প্রমাণ আছে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডের প্রশিক্ষণ চলছে। সন্ধ্যায় ক্যাম্প থেকে ফিরে আসার পর সেখানে পাকি¯তানি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে জঙ্গীবাদী তৎপরতা শুরু হয়। তাই এর বিরুদ্ধে আমাদের এখনি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিজয় মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্দু নন্দন দত্ত। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হানিফ । এছাড়া বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের শ্রম সম্পাদক আব্দুল আহাদ, বিজয় মেলা শ্রমিক স্কোয়ার্ড সদস্য সচিব আবুল হোসেন আবু, শ্রমিক স্কোয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসেন, আলী আকবর, গাজী জসিম উদ্দিন, আব্দুল হান্নান।

পরে মঞ্চে আলোচনা সভা শেষে তপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আগামীকাল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী জনাব আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এম.পি। এতে সভাপতিত্ব করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ। উক্ত স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির জনগণকে উপস্থিত থাকার জন্য বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী আহবান জানিয়েছেন। সভার শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহাবুবুল হক চৌধুরী এটলী’র সুস্থতা কামনা করে দোয়া কামনা করা হয়।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here