‘বহুবার ক্ষত বিক্ষত হয় সংবিধান’

0
18

বাঙালি হাজার বছরের স্বপ্নে স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪৭ তম বিজয়ের দিন  ১৬ ডিসেম্বর । চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে। এ উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন নেতৃত্বে কাউন্সিলর এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে শহীদ বেদীতে স্বাধীনতার শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে এবং নগর ভবনে জাতির পিতা’র প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনব্যাপি কমসূচি’র সুচনা করেন।

এ সময় প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, এইচ এম সোহেল, শৈবাল দাশ সুমন, সাহেদ ইকবাল বাবু, জহুরুল আলম জসিম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস আবিদা আজাদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগাম সিটি কর্পোরেশনের সকল প্রতিষ্ঠানের ভবন সমূহে আলোক সজ্জা এবং ভোরে প্রধান কার্যালয়সহ সবগুলো স্থাপনায় জাতীয় ও কর্পোরেশনের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন ষ্টেডিয়ামে কর্পোরেশন ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের স্কাউট, গালর্স গাইড, রোভার রেঞ্জার, কাব দল ও ছাত্র ছাত্রীদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর হাজী নুরুল হক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, তারেক সোলায়মান সেলিম, মো. গিয়াস উদ্দিন, শৈবাল দাশ সুমন, মিসেস আবিদা আজাদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড.মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস জাহানারা ফেরদৌস, উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম, শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান, সিদ্ধার্থ করসহ চসিক এর প্রকৌশলীবৃন্দ এবং শাখা প্রধান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাংকন, সাধারণ নৃত্য, লোকনৃত্য, আবৃতি, রবীন্দ্র সংগিত, নজরুল সংগীত, দেশের গান, লোক সংগিতসহ ১০ টি বিষয়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে চসিক প্রধান কার্যালয়ের পার্কিং স্পটে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক।

মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্যানেল মেয়র মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, হাসান মুরাদ বিপ্লব, মিসেস আঞ্জুমান আরা বেগম, জেসমিন পারভীন জেসি, ভারপ্রাপ্ত সচিব ড.মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান,প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিমসহ অন্যরা। পরে মেয়র সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।

ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মুুক্তিযুদ্ধ হাজার বছরের বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সহ ১৯৭১ থেকে আজোবদি সকল শহীদদের স্মৃতি’র প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ৪৬ বছর আগে এদিনে অপ্রতিরোধ্য মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতাকামী সকল মানুষের সর্বাত্বক সহযোগিতায় পাকিস্তানি ঔপনিবেশক শাসনের শৃংখল ছিন্ন করে অর্জন করেছিল একটি সার্বভৌম ভুখন্ড যা বিশ্ব মানচিত্রে খোদিত হলো বাংলাদেশ।

সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জাতির পিতার বলিষ্ঠ ও আপোষহীন নেতৃত্বে ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সনের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সনের ৬ দফা, ১৯৬৯ সনে ৬ ও ১১ দফা’র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ক্ষেত্র তৈরি করা হয় এবং ১৯৭০ সনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি বৈধ ভিত্তি অর্জন করে।

১৯৭১ সনের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুেদ্র দাঁড়িয়ে জাতির পিতা দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষনা দেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এ থেকেই বাঙালি স্বাধীন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী’র নিকট পরাজিত হয়ে পাক সামরিক জান্তা আত্মসমর্পন করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। যুদ্ধ করে ও জীবন দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে।

মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ১৯৭৫ সনে বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলায় জাতির পিতাকে স্বপরিবারে শহীদ হতে হয়। একই বছর ৩ নভেম্বর জেল খানায় জাতীয় চারনেতাদের নৃশংসভাবে হত্যা এবং দেশে মার্শাল ল’ জারী করে গণতন্ত্রও হত্যা করা হয়। অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনা করে, সংবিধান বহুবার ক্ষত বিক্ষত করে।

সেই সময় সংবাদ পত্রের স্বাধীনতাও রুদ্ধ করা হয়। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ১৯৯৬ সনে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলাদেশের জনগণ আজ মুক্ত। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রয়াস চলছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে।

মেয়র আশা করেন. বীর চট্টলার আপামর জনগণ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সচেষ্ট হবেন এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বর্তমান প্রজন্ম বহণ করে আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেবেন।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here