১৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধা পেল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সম্মাননা

0 17

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

হাকিম মোল্লা: ৪৭ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রবিবার, বেলা ১১ টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে ১৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

স্বপরিবারে মুক্তিযোদ্ধাদের সরব উপস্থিতিতে বিরল এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা, সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদ এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধিত করেন সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী, রাশিয়ার একটিং কনসুল জেনারেল ভিশে-স্লাব জাখারব, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট এবং সাবেক কমান্ডার মোজাফফর আহমদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠান মঞ্চে প্যানেল মেয়র মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান ও প্রফেসর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু উপবিষ্ট ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় নিরবে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ইত্যাদি বিষয়ে একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভার সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই অবহেলিত ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্দশার কথা বিবেচনায় এনে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর তৈরী করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তৎমধ্যে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার জন্য ১০টি গৃহনির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে। বাকিদের মেয়াদের মধ্যে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। বীরমুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের মধ্যে যারা নিঃস্ব বা অভাবগ্রস্থ তাদের পাশে ব্যক্তিগতভাবেও আমি সহযোগী হিসেবে পাশে থাকব। মেয়র বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার কোন সন্তান বিপদগামী হতে পারে না। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আপোষ করতে পারে না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য সকলকে সন্তানদের প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্টপোষকতা দেয়ার জন্য অসংখ্য সংগঠন কাজ করছে।

তাদের খপ্পরে যাতে কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না পরে সে বিষয়ে সুদৃষ্টি রাখতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আমলে মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারসহ বিরঙ্গণাদের মুক্তিযোদ্ধা উপাধী প্রদান করে ভাতা চালু করেছে। তাছাড়াও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনীদের সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের কোটা চালু করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এ সময় মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার সকলকে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় আরো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার আহবান জানান।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিধিবদ্ধ আইনদ্বারা পরিচালিত হয়। খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স বিষয়ে সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে যেসকল সুবিধা নিশ্চিত করেছে সে আলোকে চটগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও নগরীর খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে ছাড় দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এছাড়াও দরিদ্র ও হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ নাগরিকদেরকে হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। সীমিত আয়ের নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স সীমিত আকারে ধার্য্য করা হয়েছে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হবে। আধুনিক স্থাপত্যের ভিত্তিতে স্মৃতি সৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সকল জায়গা সংরক্ষণ করার পরিকল্পনাও সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.