চা উৎপাদনে শীর্ষে ফটিকছড়ি 

0

ইকবাল হোসেন মনজু,ফটিকছড়ি : সিলেটের পরে চট্টগ্রামের ২২টি চা বাগানের মধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলার ১৭টি চা বাগান রয়েছে শীর্ষ স্থানে। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, তৎমধ্যে ফটিকছড়ির বাগানে উৎপাদন করেছে প্রায় ৮০ লক্ষ কেজি চা। চা বাগান গুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্যাস সংযোগ পেলে উৎপাদন খরচ কমে চায়ের গুনগত মানে আরো উন্নীত হতো বলে দাবী করেছেন চা বাগান মালিক ও ব্যবস্থাপকগণ।

টি.কে গ্রুপের মালিকানাধীন বারমাসিয়া, এলাহী নূর ও রাঙ্গাপানি চা বাগানের আবাসিক ব্যবস্থাপক বাবুল বিশ্বাস জানান, ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের তিনটি বাগানে উপাদিত চায়ের পরিমান ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ কেজি। যা চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ছিল প্রায় ১৫ লক্ষ কেজি। এটি বছর শেষে প্রায় ২০ লক্ষ কেজিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এশিয়ার বৃহত্তম ব্র্যাক কর্ণফুলী চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে অক্টোবরে এই বাগানের উৎপাদন ছিল প্রায় ৬৫ লক্ষ ৭ হাজার কেজি। চলতি বছরে এটি গত বৃহস্পতিবার এটি পর্যন্ত দাড়িয়েছে প্রায় ৭০ লক্ষ ১০ হাজার কেজি। প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৮২ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন করবো।

নেপচুন চা বাগানের ব্যবস্থাপক কাজী এরফান উল্যাহ জানান, ২০১৬ সালে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই বাগানের উৎপাদন ছিল ৯ লক্ষ ৫২ হাজার কেজি। চলতি বছরে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি দাড়িয়েছে ১০ লক্ষ ১০ হাজার কেজি (প্রায়)। এ বছর আমরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কেজির চা উৎপাদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মোস্তফা গ্রুপের মালিকানাধীন উদলিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক এবিএম কাদের সিদ্দিকী জানান, এই বৎসর তাদেও লক্ষ্যমাত্র ১০ লক্ষ কেজি চা। সেই স্থানে তারা ইত্যেমধ্যে সাড়ে ৮ লাখ কেজি উৎপাদন করেছে। শ্রমিক সমস্যার কারণে বছর শেষে তারা ৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি পর্যন্ত চা উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা রাখেন। আগামীতে তারা সিলেট ভ্যালী থেকে শ্রমিক এনে চা উৎপাদন বাড়াবেন বলে মতামত ব্যক্ত করেন।

পেড্রোলো গ্রুপের হালদা ভ্যালী ও রামগড় চা বাগানের আবাসিক ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি বছরের গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালদা ভ্যালী বাগানে ৭ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। আর রামগড় চা বাগানে উৎপাদন হয়েছে ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার কেজি চা। অতি বৃষ্টি চা উৎপাদনে কিছু ক্ষতি করলেও আমরা নিজস্ব সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে মৌসুমের শুরু এবং শেষ সময়ে সেচ দেওয়ার কারণে দুই বাগানে বছর শেষে প্রায় ১৮ লক্ষ কেজি উৎপাদন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার হারুয়ালছড়ির রাঙ্গাপানি চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শফিউল আলম মিলন জানান, ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদন ছিল ৪ লক্ষ ২ হাজার ৫শ ৬০ কেজি। চলতি বছরে অক্টোবর পর্যন্ত আমরা ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ১৪ কেজি চা উৎপাদন করেছি। যা বছর শেষে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার কেজিতে দাড়ানোর সম্ভবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চা সংসদের সভাপতি ও আছিয়া চা বাগানের প্রবীন ব্যবস্থাপক মো. মমতাজ উদ্দিন মন্টু বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২২টি বাগানে এ বছর আমরা এক কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা ৯০ লক্ষ কেজির বেশি চা উৎপাদন করেছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি চা উৎপাদনের জন্য উপযোগী হলেও এবছর অতিবৃষ্টি একটু ক্ষতি করেছে। আর পল্লী বিদ্যুতের সর্বোচ্চ বিল এবং নিয়মিত বিল পরিশোধকারী হচ্ছে চা বাগান গুলো। কিন্তু সে তুলনায় ফটিকছড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। সিলেট অঞ্চলে চা বাগানে গ্যাস সংযোগ পেয়েছে। তাদের প্রতি কেজি উৎপাদন খরচ পড়ে ২.৫০ পয়সা। আর আমাদের ডিজেল মেশিনে উৎপাদন খরচ পড়ে ৩৫ টাকার বেশী। তাই চা বাগানে গ্যাস সংযোগ পেলে আমরা চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ শিল্পের ব্যাপক চমক দেখাতে পারবো।

পেড্রোলো গ্রুপের চেয়ারম্যান (রামগড় ও হালদা ভ্যালীর মালিক) লায়ন্স নাদের খান বলেন, চট্টগ্রামের বাগান গুলোতে উচ্চ ফলনশীল বিটি-২ জাতের চারা থেকে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তাই গত বছরের তুলনায় এবছর ৩০% চা বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

Share.

Leave A Reply