ভর্তি পরীক্ষা: পাঠ্য বইয়ের বাইরে প্রশ্ন প্রণয়ন

0 126

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ‘ক’ গ্রুপের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

এই গ্রুপের ৫ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার গণিত বিষয়ের ১৭ ও ১৯ নম্বর এবং ইংরেজিবিষয়ের ১ নম্বর প্রশ্ন করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে।

অথচ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই শিক্ষার্থীদের নিজের পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন করতে হবে। তারা যে যে শ্রেণি পাস করেছে সেইশ্রেণির পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন করতে হবে।
গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে নগরীর নয়টি সরকারি স্কুলের ‘ক’ গ্রুপের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এদিন পঞ্চম শ্রেণিরবাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বাংলায় ৩০ নম্বর, ইংরেজিতে ৩০নম্বর এবং গণিতে ৪০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরের  মানবণ্টন করে দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন,‘ইংরেজি ও গণিতের উল্লিখিত প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে পরীক্ষারহলে গলদঘর্ম হয়েছে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে আমাদের ছেলেমেয়েরা।

সময় নষ্ট করেছে উত্তর খুঁজতে গিয়ে।কারণ এগুলো তাদের জানা ছিল না।’
অপর এক অভিভাবকের দাবি, কমপক্ষে ৪০ শতাংশ প্রশ্নই এসেছে পাঠ্য বইয়ের বাইরে থেকে।

আহমেদ ফরহাদ নামের একজন অভিভাবক বলেন,‘ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির শুরু থেকে আমরা ছেলেমেয়েদেরকেবইয়ের বাইরের বিষয়েও পড়ানোর চেষ্টা করেছি।

কিন্তু নভেম্বরে ভর্তি নীতিমালা জারির পর আমরা তাদেরকে শুধুপাঠ্যবইয়ের পড়া পড়িয়েছি।

এখন ভর্তি পরীক্ষায় বইয়ের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসায় ছেলেমেয়েদের পক্ষে উত্তর দেয়াকঠিন হয়ে পড়ে’।

সামনে আরও পরীক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নজরদারি আশা করেন, যাতে আগামীতে বাকি দুটি গ্রুপের ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।

পাঠ্যবইয়ের আলোকে শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্পন্ন প্রশ্নকরা হয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন করার নির্দেশনাও রয়েছে। যেহেতু এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সেহেতুবইয়ের প্রশ্নগুলো হয়তো হুবহু তুলে ধরা হয়নি।

গণিতের প্রশ্নে কিছু কিছু ফিগারের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তুবইতে এ ধরনের বিষয় রয়েছে।

আর ইংরেজি অনুবাদের ক্ষেত্রে বইয়ে উল্লেখ থাকা বাক্যগুলোর পরিবর্তে মানসম্পন্নসময়োপোযোগী বাক্য তুলে ধরা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কষ্টসাধ্য হওয়ার কথা নয়। সব মিলিয়ে বলাযায়, আমরা কোনোক্রমেই পাঠ্যবইয়ের বাইরে যাইনি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বছরের ভর্তি পরীক্ষার শুরুর আগেই এক নির্দেশনায় সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রেজাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে প্রশ্নপত্র করতে বলা হয়েছে। সরকারি মাধ্যমিকবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা ২০১৭–এর ১২ নম্বর বিধির ‘প্রশ্নপত্র প্রণয়ন’ অংশে বলা হয়েছে : ‘প্রশ্নপত্রঅবশ্যই মানসম্পন্ন ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে এবং এনসিটিবি–এর সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই হতে প্রণয়ন করতেহবে।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ১৯ ডিসেম্বর ‘ক’ গ্রুপের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ের ১ নম্বর প্রশ্নে ইংরেজিঅনুবাদ করার জন্য যে ৫টি বাংলা বাক্য দেয়া হয়েছে সেগুলোও চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভূক্ত নয় এবং মানউপযোগী নয়। বাক্যগুলো হচ্ছে : ‘এখন দশটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকী। ঘুড়ি উড়ানো আমার শখ। আমার একটিপোষা খরগোশ ছিল। আমার ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। চট্টগ্রাম মহানগরে ১০টি সরকারি মাধ্যমিকবিদ্যালয় আছে।’

অপরদিকে, গণিতের ১৭ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘একটি সংখ্যা থেকে ৭ বিয়োগ করলে বিয়োগফলকে ৯ দিয়ে গুণকরলে গুণফল ৩৬ হলে সংখ্যাটি কত?’
১৯ নম্বর প্রশ্নটি হচ্ছে এরকম : ‘সোমা ও জনির কাছে একত্রে ১২৭৫ টাকা আছে। জনির কাছে সোমা অপেক্ষা ৩৭৫টাকা বেশি আছে। জনি ও সোমা প্রত্যেকের কাছে কত টাকা আছে ?’

এগুলোও চতুর্থ শ্রেণির গণিত বইয়ের কোথায়অন্তর্ভুক্ত নেই বলে অভিভাবকেরা জানান।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.