একুশকে বাঁচিয়ে ওসি আলমগীর পেলেন পিপিএম

0 70

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উদ্ধারের পর চমেক হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (ইনকিউবেটর) এ  চিকিৎসাধীন শিশুটির খোঁজখবর নিচ্ছেন আকবর শাহ থানার অফিসার ইন-ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর।

হাকিম মোল্লা: ডাস্টবিন থেকে নবজাতক শিশু উদ্ধারের জন্য পুলিশের সর্বোচ্চ  পিপিএম পদক পেতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) আকবর শাহ থানার অফিসার ইন-ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর।

 ঘটনাটি সদ্যবিদায়ী বছরের সোমবার (২০  ফেব্রুয়ারি) রাতের। কর্ণেলহাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ড্রেনে এক নবজাতককে মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন যুবক । পরে আকবর শাহ থানার ওসিকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করলে ওসি আলমগীর তাৎক্ষনিকভাবে টহলরত পুলিশকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন । নিজেও ছুটে আসেন সেখানে। প্রথমে একে খান এলাকার আল আমিন হাসপাতাল পরে আগ্রাবাদস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ইনকিউবেটর খালি না থাকার কারণে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নাম্বার ওয়ার্ডে । ঐ রাতে নিজে উপস্থিত থেকে শিশুটিকে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (ইনকিউবেটর) এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ওই ঘটনায় তার দুই দিন পর ২২ ফ্রেবুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত প্রথম নিউজপোর্টাল সিটিজিনিউজ পত্রিকায় সর্বপ্রথম ‘শিশুটিকে বাঁচাতে না পারলে নিজের কাছেই হেরে যেতাম’ শিরোনামে সংবাদ ছাপানো হয়। সংবাদটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। বাকীসব মিডিয়াগুলোতে শুরু হয়ে হয়ে মাতামাতি। তখনও হাসপাতালে শিশুবিভাগে শিশুটি ডাক্তার-নার্সদের পরিচর্যার মধ্যে থাকে। খবরটি আরও জোড়ালোভাবে বিভিন্ন টেলিভিশন-স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকলে এক পর্যায়ে অন্যান্য বিচার-বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। তার পরেই সিটিজিনিউজের পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কল্যাণে অচেনা শিশুটির চেনা নাম হয় ‘একুশ’। ২০১৭ সালের অনেকটা সময় ‘একুশ’ টক অব দ্য বাংলাদেশ হয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় আকবরশাহ থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর। একুশ আকবরশাহ থানার ওসি নিজেই রেখেছেন।
২০১৮ সালে পদক তালিকায় তার নাম আসায় ওসি মোহাম্মদ আলমগীর তার এক প্রতিক্রিয়ায় সিটিজিনিউজকে জানান, আমাদের প্রথম কাজ ছিলো শিশুটিকে বাঁচানো। তাই আমরা করেছি। সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে শিশুটি এখনোও ভালো আছে। আমি যখন শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য ছুঁটে যাই তখন কিন্তু আজকের এই পদক পাওয়ার আসায় ছুটে যায়নি। ভালো একটি কাজ করেছিলাম বলেই পদক আজ আমাকে খুঁজে নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সিটিজিনিউজকে ধন্যবাদ জানান সংবাদটি গুরোত্বসহকারে ছাপানোর জন্য। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সিটিজিনিউজের নিউজ এডিটর ও ক্রাইম রিপোর্টার জালাল উদ্দিন সাগর এর প্রতি। যার মাধ্যমেই প্রথম খবরটির সূচনা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার পিপিএম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ছাড়াও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পুলিশ অনেক কাজ করে এটি তারই একটি উদাহরণ।
আকবর শাহ থানার ওসি ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশের অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। জনগণের পাশে থাকতে হবে।
গত বছর সাহসিকতা ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে বিপিএম ও পিপিএম প্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন ১৩২ পুলিশ সদস্য। ২০১৬ সালে এসব পদক দেওয়া হয়েছিল ১০২ জনকে। এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক (১৮২) পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন এই পদক। পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিন ৮ জানুয়ারি সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের প্যারেডে সালাম গ্রহণ করবেন ও পদক তুলে দেবেন।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, এবারের পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পুলিশ সপ্তাহে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জানিয়েছেন। প্রথম দিন রাতে পুলিশ সদস্যদের মাঝে নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। এ সময় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
আরও যারা বিপিএম-পিপিএম পাচ্ছেন চট্টগ্রামে : চট্টগ্রামের এসপি নূরে আলম মিনা,র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র এএসপি মিমতানুর রহমান, গোয়েন্দা শাখার লেফটেন্যান্ট করপোরাল নাজমুল ইসলাম, ট্রেনিং অ্যান্ড ওরিয়েন্টশন উইংয়ের ল্যান্স করপোরাল মিজানুর রহমান ও অপারেশন্স উইংয়ের সৈনিক ইসমাইল হক। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ইফতেখার হাসান চট্টগ্রাম রিজার্ভ অফিসার-১-এর এসআই কাজী শফিকুল ইসলাম,চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সিএমপির অ্যাডিশনাল এসপি মীর্জা সায়েম মাহমুদ।
সিটিজিনিউজ/এইচএম
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.