কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং সহযোগী : রাষ্ট্রপতি

0 29

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিউজ ডেস্ক  ::     গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিতের জন্য রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ ক্ষেত্রে কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী বলেও মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আবদুল হামিদ আরো বলেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম।

সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগ, সংবিধান ও আইনের যে ব্যাখ্যা প্রদান করে তা দেশের সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

তবে আপিল বিভাগকে তাদের সব গুরু দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি। মনে রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রে কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এক বিভাগের কর্মকাণ্ডে যাতে অন্য বিভাগের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত না হয় বা জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত না হয়।’ বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু কোর্ট অব রেকর্ড সেহেতু এসব নথিকে ডিজিটাল নথিতে পরিণত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ এবং মামলা দায়ের থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রমকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, বিচারবিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে।

ন্যায়বিচারের জন্য বিচারকদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা অপরিহার্য বলেও মনে করেন তিনি। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা আরো বলেন, ‘বিচারক, আইনজীবী উভয়কেই তার নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকবে হবে। জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিকাশে এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।

জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যার অনুপাতে আমাদের দেশে বিচারক সংখ্যা বাস্তবসম্মত নয়।’ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার বিচারবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। তার অভিযোগ সম্প্রতি বিচারবিভাগ নিয়ে যা হয়ে গেল তা স্বাধীন বিচারবিভাগের জন্য কাম্য নয়।

জয়নুল আবেদিন আরো বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগ স্বাধীনতাভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর নির্ভর করে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মানুষের ভোটের অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘সরকার এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগ কোনো অবস্থাতেই যাতে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তা দেখার দায়িত্ব দেশের অভিভাবক হিসেবে আপনার।’ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ছাড়া সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিটিজিনিউজ / এসএ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.