আওয়ামীলীগের ‘শক্তিঘর’ ছাত্রলীগ

0

ছবি- আকমল হোসেন

হাকিম মোল্লা:  ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হল প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার ‍আয়োজন করেছে নগর ছাত্রলীগ।

এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম ‍হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া অতিথি ছিলেন।

জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

প্রধান অতিথি মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, শোন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অতীতের ছাত্ররাজনীতির উদাহরণ তুলে ধরে হানিফ বলেন, একটি সংগঠন এগিয়ে যেতে পারে না যদি শৃঙ্খলা না থাকে। এখন ছাত্ররাজনীতি অনেক বদলে গেছে। বর্তমান ছাত্রসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলার বড়ই অভাব, যা আমাদের ব্যথিত করে, কষ্ট দেয়।

প্রধান অতিথি বলেন ‘ছাত্ররাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য দিয়েই আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, সচিব হবে। কেউ হবেন রাজনীতিবিদ। তোমাদের মধ্যে যদি নিয়ম-শৃঙ্খলাবোধ না থাকে, তাহলে জাতি হতাশ হবে।’

একই সভায় নওফেল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আপনারা শিক্ষিত না হলে যারা এই রাষ্ট্রের মূল আদর্শে বিশ্বাসী নয়, তারা নেতৃত্বে চলে আসবে। নেতাকর্মীরা শিক্ষিত না হলে ছাত্রলীগ টিকবে না। ছাত্রলীগ না টিকলে যুবলীগ টিকবে না। যুবলীগ না টিকলে আওয়ামী লীগও টিকবে না।ছাত্রলীগই আওয়ামীলীগের শক্তিঘর।

নওফেল বলেন, ‘লেখাপড়া করুন। আপনাদের মধ্য থেকেই সচিব হতে হবে, জেনারেল হতে হবে, উকিল-ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। শিক্ষিত হয়ে প্রশাসনে যান। তাহলে দলকে কেউ সরকার থেকে সরাতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর কন্যার হাতে থাকবে। আর কখনো দুর্দিন আসবে না। ’

বক্তব্য দিতে উঠে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের প্রিয় নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা গেছেন। শুধু চট্টগ্রামে নয়, জাতীয়ভাবেও আওয়ামী লীগ পরিবারে একটা শোকের আবহ বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ করতে হলে সাংগঠনিক দায়িত্ববোধ, নীতি-আদর্শ ধারণ করতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইমরান আহমেদ ইমু চট্টগ্রামে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড। কারা ছাত্রলীগকে শেখ হাসিনার কাছ থেকে দূরে সরাতে চায়, সেটা আপনারা অনুসন্ধান করে দেখুন।

‘আমাদের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে খুন করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব এসে বলেছিলেন খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। কিন্তু খুনিদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না ? এর পেছনে কারা আছে, সেটা আপনারা তদন্ত করে দেখুন। দিয়াজ ইরফান চৌধুরী, নাসিম আহমেদ সোহেলের হত্যাকারী কেন গ্রেফতার হচ্ছে না ?’

ইমু বলেন, আমরা যারা চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ করি, আমরা এখন মৃত্যুভয়ে ভীত। আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই। আমরা সবাই জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি। যে ছাত্রলীগ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছে, সেই ছাত্রলীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে কারা, আপনারা সেটা দেখুন।

নূরুল আজিম রণি বলেন, দিয়াজ ইরফান, সুদীপ্ত, সোহেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে বলে আমরা বারবার আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভালো ছেলেরা আর ছাত্রলীগ করতে আসবে না।

তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউই ছাত্রলীগ নেতাদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছুই বলেননি।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু এবং কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

Share.

Leave A Reply