‘ফকা চৌধুরীকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন অধ্যাপক খালেদ’

0

হাকিম মোল্লা:  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, সময়ের সাহসী ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ। দেশের নানা উত্থান-পতন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে তিনি পালন করেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা।

তিনি চিন্তা করতেন বিবেক দিয়ে এবং আন্দোলনের কথা বলরেতন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে। তিনি ছিলেন আমাদের প্রগতিশীল ধারার বিবেকী কণ্ঠস্বর ছিলেন ।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে নগর ভবনস্থ কে.বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী’র প্রয়াত সম্পাদক, সাবেক এম.এন.এ ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ’র ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সিটি মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার অঙ্গনে শুধু নয়, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, নাগরিক পরিমণ্ডলেও তিনি ছিলেন বড় মাপের মানুষ। বাঙালি জাতীয় মানস গঠনে, সাংস্কৃতিক চেতনার উদ্বোধনে ও সম্প্রীতিবন্ধনে তরুণ ও নারী সমাজসহ জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলকে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করেছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কর্মতৎপরতা, আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তোলা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণে এবং সশস্ত্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মুখ্য আলোচকের ভাষণে বরেণ্য বুদ্ধিজীবী কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত বলেন, ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ ও বাঙালির বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র হয়। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্যকে জাগ্রত করে নতুন প্রজন্মকে দিক নির্দেশনা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আজাদী’র সম্পাদক মোহাম্মদ খালেদ ১৯৭০ সালে পাকিস্তানী ভাবনা-চেতনার ধারক কুখ্যাত ফজলুল কাদের চৌধুরীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত করে জাতীয় বীরে পরিণত হন। তাই তিনি শুধু আজাদী’র সম্পাদক হিসেবে নন মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রধান আলোক শিখা। সৌম্য-সুন্দর এই মানুষটির কৃতি-কর্ম নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।ফকা চৌধুরীকে হারিয়ে বীরে পরিণত হন

বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, জননন্দিত মানস সম্পদ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ আমাদের অহংকারের প্রতীক। তিনি সাংবাদিক, রাজনীতিক ও সংবিধান প্রনেতা এ কারণেই চির স্মরণীয় থাকবেন। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তিনি সত্যনিষ্ঠ, রাজনীতির ক্ষেত্রে আদর্শনিষ্ঠ। তিনি নেই, যতদিন স্বাধীন মতামত থাকবে ততদিন তিনি বেঁচে থাকবেন।

বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সুশীল সমাজের পবিত্র ভূমিকা রয়েছে। তবুও প্রত্যক্ষ করছি এই সুশীল সমাজের কেউ কেউ বিপথগামী। আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানাই।

জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সফর আলী বলেন, রাজনীতিতে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা দেখতে চাই। তবে যারা পাকিস্তানীর দিকে তাকিয়ে থাকে তাদের বর্জন করতে হবে। তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের ফেরাতে হবে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মরণানুষ্ঠানের আহ্বায়ক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র প্রফেসর নিছার উদ্দিন আহমেদ মনজু বলেন, তরুণ সমাজের একটি অংশকে ব্রেন ওয়াশ করে করছে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী। মাদ্রাসা শিক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরো জোরদার করতে হবে। তিনি গত বছরের সাফল্য বলতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ’র ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের পরে তাঁকে নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধনে পোয়েট অব পলিটিকস্ বলা হয়েছিল। আব্রাহাম লিঙ্কন, মার্টিন লুথার কিং, মহাত্মা গান্ধী ও নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাষণকে এই ভাষণের সঙ্গে দাঁড় করালেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অনন্য। সেই ভাষণটি ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি আমাদের গর্বের বিষয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মরণ অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী সাবেক ছাত্রনেতা ইয়াছির আরাফাতের সঞ্চালনায়ে অনুষ্ঠিত স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক পরিষদের সদস্য সচিব চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য রোটারিয়ান হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শেখ মাহমুদ ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের সুযোগ্য সন্তান সাপ্তাহিক শ্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির, ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানী মনি, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, লিটন রায় চৌধুরী, বকশির হাট ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, জামালখান ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী শাহানারা বেগম, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদকে নিবেদিত করে কবিতা পাঠ করেন আবৃত্তি শিল্পী নিশাত হাসিনা শিরিন প্রমুখ।

স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শফিউল বশর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সদস্য সিরাজুল করিম মানিক, মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী বেলাল আহমেদ, আওয়ামীলীগ নেতা রায়হান ইউসুফ, সাংস্কৃতিক সংগঠক আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী, কবি সজল দাশ, দিলীপ সেনগুপ্ত প্রমুখ।

সিটিজিনিউজ/এইচএম

Share.

Leave A Reply