স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ

0 32

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিউজ ডেস্ক  ::   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী এ শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেখানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে গিয়ে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। দিবসটি উপলক্ষে এর আগে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এ ছাড়া আজ বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোররাতে ইংরেজি হিসেবে ৮ জানুয়ারি।

এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে।

ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন। ১০ তারিখ সকালেই বঙ্গবন্ধু নামেন দিল্লিতে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতারা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং অন্যান্য অতিথি ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য প্রাণবন্ত অপেক্ষায় ছিল।

আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। সে সময়ে প্রকাশিত পত্রিকা থেকে জানা যায়, বিকেল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।
সিটিজিনিউজ/এসএ

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.