অপু বিশ্বাসের নতুন পৃথিবী

0

সুন্দর এই পৃথিবীতে সম্পর্কের জটিলতা কী, তা বোঝার বয়স এখনো হয়নি আব্রাম খান জয়ের। বাবা-মা শব্দযুগলের মধ্যে যে কত আবেগ, তা বুঝে উঠার আগেই তিক্ত সম্পর্কের টানাপোড়েনে পড়তে হয়েছে তাকে। মায়ের সঙ্গে মন-কষাকষিতে বাবা শাকিবের আদর, ভালোবাসা সেভাবে পাওয়া হয়ে ওঠেনি আব্রামের। মায়ের কাছেই বেড়ে ওঠছে সে। শিখেছে হাঁটতে, নিজের পছন্দের বস্তু চিনতে। ছোট্ট সেই আব্রামকে নিয়েই নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তার মা চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্রামের আচরণ, তাকে নিয়ে স্বপ্ন, শাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, আব্রামের বয়স এখন ১৭ মাস। এখন সে একটু-আধটু হাঁটতে শিখে গেছে। তাই আগের মতো কোথাও শুয়ে কিংবা বসে সময় কাটাতে ভালো লাগে না তার। হাঁটাহাঁটি কিংবা দৌড়াতেই পছন্দ করে সে। জীবনযাপন আর চাওয়া-পাওয়াতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

অপু জানান, পছন্দ কিংবা অপছন্দের খেলাও ঠিক করে ফেলেছে আব্রাম। ভিন্নমত হলে মনক্ষুণ্ন হয়। আর সমবয়সী কেউ হলে তো ধরে মারও দেয়। আর ইদানীংকালে বিষয়টা বেশি ঘটছে। এ কারণে আব্রামকে নিয়ে কিছুটা চিন্তিত তিনি।

আব্রামের পছন্দ-অপছন্দ বা আচরণের বিষয়ে অপু বিশ্বাস প্রিয়.কমকে বলেন, ‘একজন মা হিসেবে মনে হয়, আমি স্বর্গে বাস করতেছি। আমার চেয়ে সুখী আর কেউ নেই। আমি ব্যক্তিজীবনে জয়কে নিয়ে এখন অনেক সুখী। ওই যে পথে হাঁটতে চায়, সেটিকেই আমি প্রাধান্য দিব। আমি চাই আব্রাম দেশের আদর্শ একজন নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠুক। এখন আমিই তো আব্রামের মা, আমিই ওর বাবা। ভবিষ্যতে আব্রাম আমার পরিচয়ে নয়, আমিই ওর পরিচয়ে বাঁচতে চাই। এখন শুধু সে সময়গুলোর অপেক্ষা করছি।’

সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাবা শাকিব খানের সঙ্গ পাচ্ছে না আব্রাম। প্রায় তিন মাস ধরে বাবার মুখ দেখেনি সে। এতে তার আচরণে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না জানতে চাইলে অপু বলেন, ‘আব্রাম অনেক লাকি যে ও আমার মতো একজন মা পেয়েছে। ওর তো পৃথিবীতেই আসার কথা নয়। আমার কারণেই তো পৃথিবীতে এসেছে। আলো বাতাসের সঙ্গে ওর পরিচয় ঘটেছে।’

‘যখন আব্রাম কনসিভড হয়েছে, তখনই শাকিব (শাকিব খান) আমাকে বলেছে, আব্রাম যদি পৃথিবীতে আসে, তাহলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে। কিন্তু আমি শাকিবের সে কথা শুনিনি, যার কারণে আজ তা-ই ঘটতে যাচ্ছে, প্রক্রিয়াধীনও। আমি বাস্তবতা মেনে পথ চলি। আমি চেয়েছিলাম শুধু আব্রামের জন্য সব ঠিক থাকুক। তবে সেটি তো আর একপক্ষের ওপর নির্ভর করে না। অপর পক্ষ থেকেও সমান সহযোগিতা দরকার। যা হবে ভালোর জন্যই হবে।’

অপু মনে করেন, আব্রাম খান জয় পৃথিবীতে এসেছে, এটাই বড় বিষয়। তাকে ভালোবাসা দিচ্ছে সারা দেশের মানুষ। একজন মানুষের ভালোবাসা না হলেও নেই ক্ষতি।

‘শুধু একজনের ভালোবাসা কেন লাগবে? আর বাবা শাকিবের ভালোবাসা পেতে হলে জয়কে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হতো। তাই আমি ওই ভালোবাসাকে কোনো কাউন্টই করি না’, বলেন অপু।

সাংবাদিকদের প্রতি অপুর অনুরোধ

আলাপকালে শাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি না করতে সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যতদিন সামনে নিয়ে আসা হবে, ততদিন এ নিয়ে আলোচনা হবে। এখন তো আব্রাম বড় হচ্ছে। একটা সময় গিয়ে ও তো এসব দেখবে, জানবে। তাতে করে তখন ওর মানসিক বিকাশের জায়গাটাতে বিঘ্ন ঘটবে। তাই আমি একজন মা কিংবা অপু বিশ্বাস হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, যতটা পারা যায় আপনারা একটু এড়িয়ে যান। বাস্তবতা কঠিন। তারপরও মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

পেশাগত কাজে ধীরে ধীরে ব্যস্ত হচ্ছেন অপু বিশ্বাস। বেশ কয়েকটি বড় বাজেট কিংবা ভালো মানের সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে কথাবার্তাও চলছে। ১৭ বছর পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবির সিক্যুয়াল নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সিনেমাটির পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস। সেই সিক্যুয়ালে নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন অপু। পাশাপাশি আরও কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করার কথা চলছে।

সন্তানের যত্নের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়টিকে কীভাবে সামলাচ্ছেন, তা-ই জানতে চাওয়া হয় এই অভিনেত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের কাছে শুধু একজন মা নয়, তার একজন বন্ধু হিসেবেই তার সাথে বিহ্যাভ (আচরণ) করি। আমি যেহেতু পেশাদার একজন শিল্পী, তাই আমি যদি শুধু তার মা হই, তাহলে ওর স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটে যাবে। আর ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েনের কারণে আমাকে নিজেকে কিছুটা ব্যস্ত রাখতেই হচ্ছে। কারণ আমাকে তো এই শহরে জীবনযাপন করতে হয়, যার কারণে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

গত বছরের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাকিব খান তাঁর আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। তার সহয়তায় অপু বিশ্বাসের ঠিকানায় তালাকের নোটিশ পাঠান তিনি। তবে এই তালাক কার্যকর হবে নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাস পর।

সিটি করপোরেশনের পারিবারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, কোনো পক্ষ তালাকের আবেদন করলে আদালতের কাজ হচ্ছে ৯০ দিনের মধ্যে উভয়কে তিনবার ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা। আর এ কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিনএসিসি) পারিবারিক আদালত বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান ও নায়িকা অপু বিশ্বাসকে ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ডিএনসিসি অঞ্চল-৩-এর অধীন মহাখালী কার্যালয়ে থাকতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ডিএনসিসির সালিশ পরিষদে একাই এসে হাজির হন অপু বিশ্বাস। তার সঙ্গে ছিলেন মামা স্বপন বিশ্বাস। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর তাদের (শাকিব খান-অপু বিশ্বাস) বিচ্ছেদের শুনানি হয়। পরে সালিশের নতুন তারিখ ধার্য করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি।

ভারতের কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় শাকিব-অপুর ছেলে আব্রাহাম খান জয়ের। সে সময় অপু বিশ্বাসের অস্ত্রোপচারও করা হয়।

২০০৬ সালে পরিচালক এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন অপু। সেই বছর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই জুটি একাধারে ৭০টির মতো ছবিতে অভিনয় করেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক হয় তাদের। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল গোপনে বিয়ে করেন এই জুটি।

Share.

Leave A Reply