পান চাষে কৃষকের হাসি

0 53

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পানে বাড়তি দাম হাসি এনেছে চাষিদের মুখে। তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে বর্তমানে দুই গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এখানকার উৎপাদিত পান।

চাষিরা জানান, গত বছরের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে কোটি কোটি টাকার পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এবার পান চাষ করে খরচ উঠে আসবে না। কিন্তু বর্তমানে বাড়তি দাম পেয়ে তাঁরা খুশি।
কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় পান চাষ তেমন বাড়েনি। কিন্তু লোকসংখ্যার পাশাপাশি চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পানের দাম অনেক বেড়ে গেছে। (পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে)। রোহিঙ্গাদের মধ্যে পানের চাহিদা বেশি থাকায় স্থানীয়ভাবে পানের দাম অনেক বেড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের পানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া স্যালমোনেলার অস্তিত্ব পাওয়ায় বর্তমানে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় একবার পানের চাষ করলে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। সমতল জমিতে ফলন পাওয়া যায় প্রায় নয় মাস। সমতল জমিতে পানের চাষ শুরু হয় অক্টোবরে, শেষ হয় জুন মাসে। আর পাহাড়ি এলাকায় পানের চাষ যেকোনো সময় অথবা বর্ষা মৌসুমে বেশি করা যায় বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন।

উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া, সিকদারপাড়া; টেকনাফ পৌরসভার বাসস্টেশন; সদর ইউনিয়নের বটতলি, লেঙ্গুরবিল, মিঠাপানিরছড়া; বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল, মাথাভাঙ্গা, শীলখালী, শামলাপুর; হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী, মৌলভীবাজার এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া, মিনাবাজার ও হোয়াইক্যং বাজারে পানের বড় বাজার বসে। সপ্তাহে প্রতি রোববার ও বুধবার এই দুই দিন এসব হাটবাজারে পান বিক্রি হয়।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল গ্রামের ৬৫ বছরের আমির আহমদ বলেন, ‘২০-২৫ বছর আগে এক বিড়া বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। এরপর গত বছর বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২২০ টাকায়। এখন চলতি মৌসুমে সেই পান ছোট-বড় আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়।’

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত মাসে এক বিড়া পানের দাম ছিল মাত্র ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। এখন সেই পান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম পানের দাম আর কখনো বাড়েনি।
হঠাৎ করে পানের দাম অতীতের রেকর্ড ছাড়ানোর বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার থেকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয়ভাবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পানের দাম এত বেড়েছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়ার পানচাষি সুলতান আহমদ বলেন, ‘হঠাৎ করে পানের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখেছি।’
পান ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বলেন, পাঁচ বছর ধরে ইউরোপে পান রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের বাজার খোলা থাকলে স্থানীয় চাষিরা বেশি লাভবান হতেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন  বলেন, গত বছর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু তিন সপ্তাহ ধরে পানের বাজার চাঙা হয়ে উঠেছে।
নুর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য পান একটি অর্থকরী ফসল। অথচ সরকারিভাবে চাষিদের কোনো ধরনের সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম কুতুবী বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে পানের দাম বাড়তে থাকায় লাভ হচ্ছে চাষিদের। চাষিদের জন্য এটা সুখবর।’
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, টেকনাফে ৪৮০ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হচ্ছে। উপজেলায় ২ হাজার ৭৫০ জন চাষির ২ হাজার ৮৯৫টি পানবরজ রয়েছে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.