‘বিন্না ঘাস রোপনে নিরসন হতে পারে জলাবদ্ধতা’

0
96

শাওন আজহার ::      ‘জাদুর ঘাস বিন্না ঘাস ’ আইইবি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রকৌশলী বিভাগের উদ্যোগে প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা প্রশমনে বিন্না ঘাসের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার দিকে আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মিলনায়তনে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ.জ.ম নাছির উদ্দিন চৌধুরী (মাননীয় মেয়র , চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ) ,মূল প্রবন্ধকার অধ্যাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (পুরকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ,বুয়েট ) , চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ তাছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা , প্রকৌশলীবৃন্দ প্রমুখ।

জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীতে অভিশাপ রুপে প্রবেশ করেছে। অভিশাপ হতে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে বিন্না ঘাস রোপনের বিকল্প নেই। মূল প্রবন্ধকার অধ্যাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরীফূল ইসলাম সেমিনারে বলেন  ‘ বিন্না ঘাসকে আমি জাদুর ঘাস বলি , জাদুর ছোঁয়াতে যেমন কিছু পরিবর্তন হয়ে যায় তেমনি বিন্না ঘাস রোপন রুখতে পারে জলাবদ্ধতা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সেমিনার করে বিন্না ঘাসের বহুমুখী গুণের প্রকাশ ঘটিয়েছি এবং সে সাথে কুড়িয়েছি সুনাম’।

তিনি আরো বলেন ‘ বাংলাদেশ হলো বন্যা কবলিত একটি দেশ , শুধুমাত্র জলাবদ্ধতা নয় বরং দেশের অনেকাংশে বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোতে বিন্না ঘাস রোপনে সুফল পাবে বলে আমি আশাবাদী’ চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং পরিকল্পিত নগরায়নের আশা ব্যক্ত করে আজ এ সেমিনারের আয়োজন।’

প্রধান অতিথি মাননীয় মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দিন বলেন  ‘ বিন্না ঘাস যদি জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হয় তাহলে চট্টগ্রাম জলবদ্ধতার মত অভিশাপ হতে মুক্ত হবে ।  চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক পাহাড় রয়েছে। যে কোন একটি পাহাড়ের মধ্যে যদি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরীফূল ইসলামের উদ্ভাবিত প্রক্রিয়াটি ( বিন্না ঘাস রোপন ) প্রয়োগ করা হয় তাহলে আমরা বাস্তবমুখী ফলাফলটি দেখতে পাবো।’

তিনি আরো বলেন ‘ ভূমিদস্যু হলো এ সমাজের প্রধান শত্রু , তাদের রুখতে হবে । ভূমিদস্যুরা যাতে পাহাড় কাটতে না পারে সেদিকে সকলকে অবগত হতে হবে। পাহাড়ে যদি বিন্না ঘাস রোপন করা হয় তাহলে কোন লাভ নেই কারণ ভুমিদস্যুরা পাহাড় কাটার ফলে বিন্না ঘাস ও ধবংস হবে।’ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তা ভাবনায় ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থে সকলকে একত্রিত হতে হবে। চিন্তাগ্রস্থ চট্টলাবাসীকে জলাবদ্ধতা নিরসনে এগিয়ে আসতে হবে সচেতনতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। মেয়র বলেন ‘ বিন্না ঘাস নিয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরীফূল ইসলাম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে কিন্তু এখনো আমরা বিন্না ঘাসের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত নয় । এ সেমিনারের মাধ্যমে বিন্না ঘাস রোপনে সুফল সম্পর্কে অবগত হলাম এবং অধ্যাপক , বিজ্ঞানী , প্রকৌশলী শরীফুল ইসলামকে তার উদ্ভাবিত প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি ’।

বিন্না ঘাসের কার্যপ্রক্রিয়া :   বিন্না ঘাস যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ভেটিভার’ আবার একে ‘খসখস’ বলা হয় । বিন্না ঘাস কিভাবে পাহাড়ের ক্ষয় রোধ করে জলাবদ্ধতা নিরসন করে তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন বিজ্ঞানী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম। ‘বিন্না ঘাস হলো এমন একটি উদ্ভিদ যা সকল স্থানে জন্মাতে সক্ষম। কাদা মাটি , বালি, পরিত্যাক্ত স্থান তাছাড়া প্রচন্ড ঠান্ডা , তীব্র গরমেও এ ঘাস বেঁচে থাকে।

মাইনাস ৪০ ডিগ্রি হতে ৫৫ ডিগ্রিতেও বিন্না ঘাস বেঁচে থাকে। পানিতে ডুবে থাকা এমনকি লবণাক্ত পানিতে পড়ে থাকলেও এ ঘাস পচে না । এই ঘাসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটির ছয়টা শেকড় একসাথে জোড়া দিলে ইস্পাতের মত শক্তিশালী হবে। ঘাসটির শেকড় শক্তভাবে আটকে থাকে এবং মাটির খুব গভীরে চলে যায়। মাত্র ৪ থেকে ৬ মাসেই ঘাসের শেকড় মাটির ৬ থেকে ১০ ফুট গভীরে চলে যায় এবং আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ,পাহাড় ধস, নদী ভাঙন , নদী দূষণ কমানো স্বল্প খরচে বাড়ি নির্মাণ ইত্যাদি কাজে বিন্না ঘাসের উপকারিতা তুলে ধরেন মূল প্রবন্ধকার তাঁর প্রবন্ধে। আর্সেনিকযুক্ত পানিতে বিন্না ঘাস লাগানো হলে আর্সেনিক মুক্ত করবে এ ঘাস । তাহলে , চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কেন এ প্রক্রিয়াটি নয় ? তিনি বলেন এ প্রক্রিয়াটি প্রয়োগ করতে ব্যয়ও হবে কম।

পাহাড় থেকে বালি আসে , বিন্না ঘাস লাগালে পাহাড়ের মাটিকে শক্ত করবে। ক্ষয়রোধ করতে সহায়ক হবে । চট্টগ্রামে পাহাড় হতে যেসব খালের উৎপত্তি সেইসব খাল এবং পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেসব খাল,নালা-নর্দমা গেছে সেগুলো খনন করার সময় দেখা যায় পাহাড়ি বালি-মাটিতে সেগুলো ভরাট হয়ে আছে। বালি এসে ড্রেনে জমা হয় এবং সেগুলো খালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ রকম সমস্যা সমাধানে তিনি বিন্না ঘাস প্রযুক্তি ব্যবহারের মতামত দেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন  ‘ চট্টগ্রাম শহরের ৪২ শতাংশ খাল পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়েছে। শহরে ২৬০ কিলোমিটার এলাকায় ড্রোনেস ব্যবস্থা আছে এবং ৯ টি সমস্যা চিহ্নিত করে যেগুলোর কারণে ওভার ফ্লো হচ্ছে। সিডিএ ভবন অনুমোদন দেয় কিন্তু ডেন্রেজ ব্যবস্থা কি হবে তা উল্লেখ যোগ্য থাকেনা । তাছাড়া , খালের রক্ষণাবেক্ষণে বছরে ৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

‘লো কোস্ট’ উপাদান প্রকৌশলীরা গ্রহণ করেনা। তাই মূল প্রবন্ধকার ‘লো কোস্ট’ উপাদানটি ব্যবহার করে বিন্না ঘাস প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে চসিককে অর্থায়নের সুপারিশ করেন মাননীয় মেয়র মহোদয়ের নিকট।’ যা হতে পারে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনের আশীর্বাদ ।

সিটিজিনিউজ/এসএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here