চিরনিদ্রায় সাংসদ ইউসুফ

0
32

মুক্তিযোদ্ধা-রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফের দ্বিতীয় জানাজা সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

ইউসুফের ছোট ভাই মোহাম্মদ সেকান্দর  জানান, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা শেষে ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে তারা রাত দেড়টায় রাঙ্গুনিয়া কলেজসংলগ্ন বাসায় পৌঁছেন। বেলা দুইটায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চিরকুমার এ রাজনীতিকের শেষ ঠিকানা হবে রাহাতিয়া দরবারের দীঘির পাড়ে।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। সাবেক এই এমপি দুই ভাই ও দুই বোনসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিলোর্ভ, নিরহংকারী, মাটি ও মানুষের এ রাজনীতিকের শেষ বিদায়ে রাঙ্গুনিয়াসহ পুরো চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকের ঝড় উঠেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।

একসময়ের তুখোড় বামপন্থী নেতা, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ধস নামিয়েছিলেন কুখ্যাত ‍যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর `সাম্রাজ্যে’।

সংসদ সদস্য শুনলে মানুষের চোখে যে ধরনের চেহারা ভেসে উঠে, মোহাম্মদ ইউসুফ ছিলেন তার ব্যতিক্রম। অর্থ-বিত্ত, গাড়ি-বাড়ি ছিল না তার। নিজগ্রামে ছোট ভাইয়ের চা-দোকান থেকে আসা যৎসামান্য আয়ে ইউসুফের মুখে ভাত ও ওষুধ খরচ জুটত। নানা অসুখে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক।

চলতি বছরের শুরুর দিকে অর্থাভাবে চিকিৎসাহীন ইউসুফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ৭ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনজন চিকিৎসক নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে যান। অসুস্থ ইউসুফকে এনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here