বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবীতে ক্ষতিগ্রস্থ অভিভাবকের সংবাদ সম্মেলন

0

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলম মনগড়াভাবে অহেতুক প্রশ্নপত্রের উপর কলমের দাগের অজুহাত দেখিয়ে ৩ এসএসসি পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় নগরীর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত মেধাবি এসএসসি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্থ অভিভাবক’র ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ৩ পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ। তিনি সেন্ট প্লাসিড স্কুলের বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ইমাম হোসেনের বাবা।

মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল কেন্দ্রে ১৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলম মনগড়াভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩ জন মেধাবী পরিক্ষার্থীকে প্রশ্নের উপর কলমের দাগের অজুহাত দেখিয়ে বহিষ্কার করেছেন। আমাদের সন্তানদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পরীক্ষার সেন্টার থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদের সন্তানেরা পরীক্ষায় বহিষ্কার হওয়ায় মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছে। মেধাবি ছাত্রদের উপর এই অন্যায় আচরণের জন্য ছাত্র ও অভিভাবকেরা জড়ো হয়। সচেতন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষরা সোচ্ছার হয়ে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবনতি দেখে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন নিয়ে যায়।

‘কিন্তু জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাঁধা প্রদান করেন এবং জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ থেকে বিরত রাখেন। যার দরুণ উপস্থিতিগণ বিরক্ত ও ব্রিবত হয়ে তাঁদের আবেদনের ভাষা জোরদার করেন। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মানক্ষুন্ন হয়েছে মর্মে প্রতিয়মান হওয়ায় আমরা অভিভাবক তথা সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও বলেন, সেন্ট প্লাসিড স্কুলের তিন পরীক্ষার্থী ইমাম হোসেন, তারিক আমিন চৌধুরী ও স্কলাসটিকা স্কুলের ছাত্রী সায়মা আক্তার অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অপমানবোধ করে আত্মহত্যার মতো মারাত্মক পথ বেছে নেবে মর্মে উপস্থিতিদেরকে জানিয়ে দিলে সবাই হতবম্ব হয়ে তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে আমরা কোর্ট বিল্ডিংয়ে সমবেত হই। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের আবেদনে সাড়া না দিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এমনকি আমাদের ৪ জন অভিভাবককে সমাধান দেওয়ার কথা বলে জেলা প্রশাসকের কক্ষে ডেকে নিয়ে আটক করে কোতোয়ালী থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে ৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারাদেশ ও কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘সামান্য ভুলের কারণে তিন মেধাবী পরিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার ঘটনা সাধারণ মানুষের পক্ষে মেনে নেয়া যায় না। কেননা, তারা সকলেই স্কুলের মেধাবি ছাত্র। যেখানে পরীক্ষাকেন্দ্রে স্মার্টফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলম পরীক্ষাকেন্দ্রে নিজেই অবৈধ স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ করেছেন এবং পরীক্ষা কক্ষে পরীক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।’

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, মো. শরীফ, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ইমাম হোসেন, মো. ইউসুফ, ইসহাক উদ্দিন, মো. আরিফ, হারুনুর রশিদ, সাইফুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে পেন্সিলের দাগ দেওয়ায় ৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এসময় ৪ অভিভাবককে আটক করা হয়

Share.

Leave A Reply