নেপালে কানাডীয় তৈরি বাংলাদেশী বিমান বিধ্বস্ত : নিহত ৫০

0 65

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

বেসরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশী বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর ২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রানওয়েতে নামার সাথে সাথে কানাডীয় বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা বমবার্ডিয়ার অ্যারোস্পেসের তৈরি ড্যাশ-৮ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

১২মার্চ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে অবতরণ করার সময়েকাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ওবাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

ইউ–এস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, ‘দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকারহজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। নেপালে পৌঁছানোর পরএটি বিধ্বস্ত হয়। তবে প্রাথমিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানা যায়নি।’ ঢাকার বিমান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নেপালে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মাশফি বিনতে শামস জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুতে ইউএস–বাংলার বিমান বিধ্বস্তেবিকাল পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। তবে আলাদা করে বাংলাদেশিদের সংখ্যাএখনও জানা যায়নি। ৭৮ জন ধারণক্ষমতার বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটিতে ৬৭ জনআরোহী ছিল বলে জানা গেছে। ৩৭ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী ছাড়াও উড়োজাহাজটিতে ছিল ২ জন শিশু।
তবে, নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে এ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন পুলিশ রেঞ্জ অফিসের মুখপাত্র এসএসপি বিশ্বরাজ পোখারেল নিশ্চিত করেন, এই দুর্ঘটনায়৪৯ জন মারা গেছেন। তাছাড়া ১৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।ঢাকার বিমান মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। পরীক্ষারজন্য সেটি পাঠানো হয়েছে। গতরাতেও উদ্ধারকাজ চলছিল। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুরেশ আচার্যজানিয়েছেন, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেন, অবতরণের সময়উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে বিমানটি পাশের একটি ফুটবল মাঠে গিয়ে আছড়ে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটিরকারণে অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ৩২ জন যাত্রী ছিলেন
ইউ–এস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ জানান, নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলারউড়োজাহাজে ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনেরনাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি আরও চার জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষজানিয়েছে।

প্লেন দুর্ঘটনায় স্বামীসহ ছিলেন রুয়েট শিক্ষিকা ‘হাসি’

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেনে স্বামীসহ ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি। ১৫ দিনের ছুটিতে তারা বেড়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগেই তাদের প্লেন বিধ্বস্ত হয়।

তবে রুয়েট শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে এবং তার স্বামী রকিবুলকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় রুয়েট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্লেনে রুয়েট শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসিরুয়েট জনসংযোগ দফতরের উপ-পরিচালক জিএম মর্তুজা বলেন, ইমরানা কবির হাসি রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে হলেও তিনি রাজশাহী মনানগরীর মোনাফের মোড় এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। তার স্বামী রকিবুল একই বিভাগে ছাত্র ছিলেন। তিনি ঢাকায় চাকরি করেন।

বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই প্লেনে ইমরানা কবির হাসি ও তার স্বামী নেপালে যাচ্ছিলেন ছুটি কাটাতে। তিনি ১৫ দিনের ছুটিতে আছেন। নেপালে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তারা খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছেন রুয়েট শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) এবং তার স্বামী রকিবুলকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় রুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনে দুঃখ-কষ্ট বিরাজ করছে। তারা সবাই দু’জনের জীবিত ফিরে আসা এবং সুস্থতা কামনা করেছেন।

রুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগ বলেন, ইমারানা কবির হাসি তার স্বামীসহ ওই প্লেনে চড়ে কাঠমান্ডুতে ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন। এমন দুর্ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা দু’জনেই বিধ্বস্ত হওয়া ফ্লাইটে ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। চিকিৎসাধীনদের তালিকায়ও তাদের নাম আছে।

এরমধ্যে ইমরানা কবির হাসি, ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।ও স্ট্যোটাস

তিনি ও তার স্বামী রুয়েটের একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। এসময় তাদের সুস্থ হয়ে ফিরে আসার প্রার্থনা করা জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য মো. রফিকুল আলম বেগ।
এদিকে, ইমরানা কবির হাসির রাজশাহী মোন্নাফের মোড়ের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তা তালাবদ্ধ। মোন্নাফের মোড়ের এই দু’তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে তিনি ভাড়া থাকতেন।

বাড়ির মালিক আসাদুল্লাহ রঞ্জু বলেন, ‘২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর তারা আমার বাড়িতে ওঠেন। তার স্বামী ঢাকায় থাকেন। বুধবার (৭ মার্চ) ইমরানা কবির হাসি ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। ঢাকায় স্বামীর কাছে যাবেন বলে তিনি তাদের জানিয়েছিলেন।’

৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাইয়ের অভিজ্ঞতা ছিলো পাইলটের

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে নেপাল সেনাবাহিনী, ডানে ক্যাপ্টেন

 

বিধ্বস্ত প্লেনের পাইলট জীবিত আছেন উল্লেখ করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন আবেদ সুলতানের ৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এয়ারলাইন্সটির জিএম (পিআর) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এয়ারফোর্স ব্যাকগ্রাউন্ডের পাইলট আবেদ সুলতান আগে বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ছিলেন। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ক্রু ছিলেন খাজা ও নাবিলা।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ২০ জন। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১০ জন।

সোমবার (১২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এর আগে, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ জন ছিলেন।

ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত প্লেনটির যাত্রী ছিলেন যারা

ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে পূর্ণ বয়স্ক ৬৫, পুরুষ ৩৭, নারী ২৮ এবং দুইজন শিশু ছিলেন।

এর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২, নেপালি ৩৩, মালদ্বীপের একজন এবং চীনা একজন নাগরিক ছিলেন। বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য যাত্রীদের তালিকা প্রকাশ করা হলো।

তারা হলেন- তানিরা তানভীন শশী, পিয়াস, শেখ রাশেদ, কৃষ্ণ কুমার, উম্মে সালমা, আশনা সাকিয়া, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, সারুনা শ্রেষ্ঠ, সৈয়দা কামরুন নাহার, হরিপ্রসাদ, দয়ারাম তহরাখার, বালকৃষ্ণ থাপা, শ্বেতা থাপা, কিশোর ত্রিপতি, আবাদেশ কুমার যাদব, অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান, মো. রফিক জামান, রিয়ানা আব্দুল্লাহ, পয়বাল আহমেদ, সামরিন আহমেদ, জাকদ আলী, আলিফুজ্জামান, আলমুন নাহার, বিলকিস আরা, শিলা বাজগাইন, বেগম নুরুন্নাহার বিলকিস, আলজিনা বড়াল, চারু বড়াল, আমি বেঁচে গেছি: প্লেন বিধ্বস্তে বেঁচে যাওয়া এই যুবকের টুইটআকজারা বেগম, শাহীন বেপারী, শুভিন্দ্র সিং, বসঞ্জিত বহরা, সামিরা বায়ানজানকর, প্রবীণ চিত্রকর, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, সাজানা দেবখোজা, প্রিন্সি ধামি, গায়নি কুমারি গুরুং, রেজকানুল হক, মো. রকিবুল হাসান, মেহেদী হাসান, এমরানা কবির হাসি, কবির হোসাইন, দীনেশ হুমাগাইন, সানজিদা হক, হাসানন ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম, শ্রেয়া জিলা, পূর্ণিমা লুনানি, মিলি মেহেরজান, নিগা মেহেরজান, সঞ্জয়া মেহেরজান, জেংমিং, আঁখি মনি, মেহনাজ বিন নাসির, কেসাব পান্ডে, প্রসন্না পান্ডে, বিনোদ পাউডাল, হরিশংকর পাউডাল, সঞ্জয় পাউডাল, এফএইচ প্রিয়ক, থামারা প্রিয় নৈইয়ি, মতিউর রহমান, এসএম মাহবুবুর রহমান, আশিষ রঞ্জিত।

এর মধ্যে উম্মে সালমা নামে একযাত্রীর মৃত্যুর খবর জানা গেছে। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব।

তাই বড় ভাই এসএম আবুল কালাম আজাদ  জানান, তিনদিনের অফিসিয়াল ট্যুরে নেপাল যাচ্ছিলেন সালমা। আজ সকালে তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছে তাদের।

এদিকে প্লেনটিতে সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবেদ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ফ্লাইটতে আমাদের কলেজের ১২জন নেপালি ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন। এরমধ্যেবিধ্বস্ত হওয়া ফ্লাইটটিতে ছিলেন এফএইচ প্রিয়ক ও তার সহযাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

বিধ্বস্ত ফ্লাইটের কেবিন ক্রুর কন্যার খোঁজ পাওয়া গেছে

নাবিলা ও তার মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিএস-২১১ ফ্লাইটের কেবিন ক্রু নাবিলার নিখোঁজ মেয়ের হিয়ার খোঁজ পাওয়া গেছে। মেয়েটি তার খালার বাসায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্লেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর উত্তরা থেকে শিশুটিকে নিয়ে গৃহকর্মী পালিয়ে গেছেন বলে থানায় অভিযোগ করেন তার দাদি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই গৃহকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে জানা যায় শিশুটিকে তার খালা নিজ বাসায় নিয়ে গিয়েছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন শিশুটির খোঁজ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে বলেন, প্লেনটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর কেবিন ক্রু নাবিলার দুই বছরের মেয়ে হিয়াকে বাড়িতে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তার স্বজনরা। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ওই বাসার গৃহকর্মীকে ধরে আনি। কিন্তু শিশু হিয়াকে কেবিন ক্রু নাবিলার বোন নিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য তার বোনের বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ওসি বলেন, মায়ের অনুপস্থিতে শিশুটির নিরাপত্তার জন্য তার খালা তাকে নিযে যেতে পারে কিংবা সম্পত্তির ওয়ারিসজনিত ঝামেলাও থাকতে পারে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তবে খালার নাম ও ঠিকানা এখনই প্রকাশ করতে চাননি ওসি।

বিধ্বস্ত ফ্লাইটের কেবিন ক্রুর কন্যা অপহৃত!

প্লেন বিধ্বস্তে নিহত আলিফের জীবনের শেষ সেলফি

প্লেনে ওঠার আগে আলিফের সেলফি, যা এখন শুধুই ম্মৃতি

আলিফুজ্জামান আলিফ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি এটিই হবে তার জীবনের শেষ সেলফি। এটিই হবে তার জীবদ্দশার শেষ স্মৃতি। সেলফি তোলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে থেমে গেলো তার জীবন প্রদীপ। স্মৃতি হয়ে রইলো ফেসবুকে আপলোড করা তার জীবনের শেষ কয়েকটি সেলফি।

সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত ৪১ জনের মধ্যে তিনি একজন। আলিফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামে। খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। খুলনার এমএম সিটি কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন।

৩৪ বছর বয়সী আলিফুজ্জামান সকালে যশোর বিমান বন্দর থেকে প্লেনে করে ঢাকা যান। সেখান থেকে দুপুরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটে চাপেন নেপালের উদ্দেশ্যে।

যশোর বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়নের আগে ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করে লিখেছিলেন- ইু নু কযঁষহধ বিষপড়সব উযধশধ ১২/০৩/২০১।

খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আরাফাত হোসেন পল্টু রাত ৮টা ২০ মিনিটে বলেন, আলিফের এক বন্ধু ফারুক নেপালে আছেন। তিনি কাঠমান্ডু বিমান বন্দরে আলিফকে রিসিভ করতে আসেন। ফারুক আলিফের মরদেহ দেখে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।

আলিফুজ্জামানের খালাতো দুলাভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ ভাইয়ের মধ্যে আলিফুজ্জামান ছিলো মেঝ। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আসাদুজ্জামান। কয়েকদিন আগে ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে আলিফ নেপাল যাচ্ছিলো ঘুরতে। সকালে যশোর থেকে প্রথম ফ্লাইটে ঢাকায় যায়। কয়েক দিন আগে আমাকে বলে, আমিতো কোনো সঙ্গী পেলাম না দুলাভাই আমার সঙ্গে চলেন। না রে তুমি যাও। আমি এ সময় যেতে পারবো না।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রোববার রাতেও থানার মোড়ে একসঙ্গে বসে চা খেয়েছি। কত গল্প করেছি। আমি ওকে শরীর ভালো না বলে যেতেও নিষেধ করেছি। ৬ মাস আগে আলিফের বড় ভাই বিয়ে করেছে। ও ঠিকাদারি ব্যবসা করে। ঘোরার খুব পাগল ছিলো। বন্ধুদেরও যেতে রিকোয়েস্ট করেছিলো, কিন্তু কেউ যায়নি।

আলিফের নিকটাত্মীয় মো. সাব্বির খান দ্বীপ জানান, আলিফ নেপাল ভ্রমণের জন্য সোমবার সকালে বাড়ি

থেকে বের হয়। সে যশোর থেকে প্রথম ফ্লাইটে ঢাকায় যায়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ইউএস-বাংলার (ফ্লাইট বিএস২১১) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় নেপালের উদ্দেশ্যে। সে ফ্লাইটের সর্বশেষ আসনে ছিলো।
প্লেনের ভেতরে আলিফের সেলফিএদিকে দুর্ঘটনার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আলিফদের আইচগাতির বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ লোকজনের ভিড় জমেছে। মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে।

আলিফের মৃত্যুর খবরে খুলনা জেলা ছাত্রলীগ নেতা তসলিম হোসাইন তাজ তার ফেসবুকে আলিফের তোলা শেষ সেলফির ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন- ।।।।। আমরা শোকাহত ।।।।।

‘ভাই জীবনেও ভাবিনি এটাই হবে আপনার শেষ যাত্রা। কিম্বা, মাত্র ৬ ঘন্টা আগে তোলা আপনারই শেষ ছবি। সত্যি, বাকরুদ্ধ ভাই’।

জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাঈদ মো. আবু সাঈদ খান ফেসবুকে লিখেছেন- নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি, প্রিয় ভাই আলিফুজ্জামান এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া খুব কষ্টদায়ক। মহান আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন। আমিন।

আলিফের অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা শত শত শোক বার্তা জানাচ্ছেন তাদের ফেসবুকে পেজে।

বিধ্বস্ত প্লেনে রাগিব রাবেয়া মেডিকেলের ১৩ শিক্ষার্থী

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা প্লেনে সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী ছিলেন। এর মধ্যে ১১ ছাত্রী, ২ ছাত্র। তারা সবাই নেপালি বাংশোদ্ভূত।

শেষ বর্ষের পরীক্ষা শেষে ওই প্লেনে তারা ‘ঘরে’ ফিরছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কপালে কী ঘটেছে তা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. আবেদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, মেডিকেল কলেজটিতে নেপালের আড়াইশ’ শিক্ষার্থী রয়েছেন। রোববার (১১ মার্চ) পরীক্ষা শেষ হওয়ার ওই ফ্লাইটে ১৩ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরছিলেন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু বলেন, ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে কতোজন বেঁচে আছেন বা কতোজন মারা গেছেন সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।

হাসপাতালের নেপালি বংশোদ্ভূত ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুদিতা বাড়াল ও ক্রিতি কুসুম বাংলানিউজকে বলেন, ১৩ শিক্ষার্থী তাদের সিনিয়র ছিলেন। বর্তমানে তাদের অনেকে ওখানে হাসপাতালে রয়েছেন।

প্লেনের ১৩ শিক্ষার্থী হলেন- সঞ্জয় পাউডাল, সঞ্জয়া মেহেরজান, নিগা মেহেরজান, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্ণিমা লুনানি, শ্বেতা থাপা, মিলি মেহেরজান, সারুনা শ্রেষ্ঠ, আলজিনা বড়াল, চারু বড়াল, আশনা সাকিয়া, প্রিন্সি ধামি ও সামিরা বায়ানজানকর।

প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ২০ জন। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১০ জন।

শোকে স্তব্ধ রাগিব রাবেয়া মেডিকেলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা প্লেনে সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই নেপালি বাংশোদ্ভূত।

কি ঘটেছে ওই ১৩ শিক্ষার্থীর ভাগ্য, এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ইতোমধ্যেই তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে রোববার (১১ মার্চ)। দুই মাস পর ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এরআগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বড়ই পীড়া দায়ক বললেন অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবেদ হুসাইন।

তিনি বলেন, কলেজে নেপালের প্রায় আড়াই’শ শিক্ষার্থী রয়েছে। রোববার এমবিবিএস ১৯তম ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ওইদিন রাতেই ১৩শিক্ষার্থী গ্রিন লাইনযোগে ঢাকায় যান। সেখান থেকে সোমবার সকালে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে করে কাঠমান্ডেুর উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা।

কি ঘটেছে ওই ১৩ শিক্ষার্থীর ভাগ্যে আমাদের জানা নেই। তবে দূতাবাস ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাধ্যমে তাদের বর্তমানে অবস্থা জানার চেষ্টা করছেন বলেও জানান অধ্যক্ষ।

রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুধিতা বাড়াল ও ক্রিতি কুসুম বলেন, ওই ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজন তাদের রুমমেট রয়েছে।

এদিকে, প্লেন দুর্ঘটনায় তিন দিনের শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল কলেজ প্রশাসন। সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে কলেজ পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

‘এটিসির মারাত্মক ভুলেই ইউএস-বাংলার প্লেন বিধ্বস্ত’

প্লেন বিধ্বস্ত

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ হিসেবে সেখানকার বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) ভুলকেই সন্দেহ করা হচ্ছে।

এয়ারলাইন্সটির কর্তৃপক্ষের এ সন্দেহের বিষয়ে বিবিসি, আল জাজিরা, চ্যানেল নিউজ এশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এটিসির ভুল নির্দেশনার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন এয়ারলাইন্সটির সিইও ইমরান আসিফ।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ আরোহী ছিলেন। নেপাল পুলিশের দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া একটি রেকর্ডবার্তার বরাত দিয়ে ইউএস-বাংলার সিইও বলেন, বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ার সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও পেয়েছি। এই রেকর্ডবার্তা শুনলে আপনারা বুঝতে পারবেন, আমাদের ধারণা এটিসি টাওয়ারের ভুল নির্দেশনার কারণে প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে।

অভিযোগ করা হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্ন করা হলে ইমরান আসিফ বলেন, আমরা অভিযোগ করছি না, সন্দেহ করছি। বিমানবন্দরের কোন দিক দিয়ে রানওয়েতে ফ্লাইটটি অবতরণ করবে, সে বিষয়ে কোনো ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। অডিওটি ইতিমধ্যে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

আবেদ সুলতান নামের পাইলট বিমান বাহিনীর সাবেক অফিসার জানিয়ে ইউএস-বাংলার সিইও বলেন, তিনি জীবিত রয়েছেন। তার পাঁচ হাজার ঘণ্টার ফ্লায়িং অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের মনে হচ্ছে, যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি নয়, বৈমানিকেরও কোনো গাফেলতি ছিল না, এটিসির কোনো গাফেলতি ছিল।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ‘ইউএস-বাংলার সিইও ইমরান আসিফ বলেছেন, এটিসি থেকে ভুল নির্দেশনা ছিল, আমাদের পাইলটের কোনো ভুল ছিল না। ৫ হাজার ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তিনি। এটিসিই অবতরণের সময় তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।’

একই রকম তথ্য দিয়েছে চ্যানেল নিউজ এশিয়াও। তারাও ইমরান আসিফকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘ইউএস বাংলার সিইও’র ভাষ্যে, অবতরণকালে নির্দেশনার সময়প্লেন বিধ্বস্ত

তালগোল পাকিয়েছে এটিসি, সে কারণে এ দুর্ঘটনা।’
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাইলটের সঙ্গে এটিসির যোগাযোগ সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন ইউএস-বাংলার সিইও ইমরান আসিফ।’

পাইলট ও এটিসির সঙ্গে দুর্ঘটনার আগের আলাপের রেকর্ডবার্তা ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বসন্ত বোহরা নামে একটি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের যাত্রীও টুইট করে বলেছেন, প্লেনটি ঢাকা থেকে নির্বিঘ্নে উড্ডয়ন করলেও কাঠমান্ডুতে নামার সময়ই কিছু একটা ঘটনার শিকার হয়। তারপর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় হতাহতদের শোকাহত স্বজনদের নেপাল নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। এয়ারলাইন্সটি বলেছে, তাদের ব্যবস্থাপনায় হতাহতদের স্বজনদের নেপালে নিয়ে যাওয়া হবে, যেন নিহত প্রিয়জনকে শনাক্ত বা আহত প্রিয়জনের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন তারা।

প্লেন বিধ্বস্তে ৪১ জন নিহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দুর্ঘটনাস্থলের চিত্র

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ২০ জন। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১০ জন।

সোমবার (১২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এর আগে, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ জন ছিলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আমরা এখন পর্যন্ত ৪১ নিহত এবং ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জেনেছি। এছাড়া ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আর চিকিৎসা শেষে চার জনকে রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে।

শাহরিয়ার আলম জানান, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধ নিয়ে একটি প্লেন প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার কারণে সেখানে এখনও ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। সেটা চালু হলে যে কোনো সময় প্লেনটি যাবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি সিঙ্গাপুর সফররত বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছেন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.