‘ড. মাহমুদ হাসান ছিলেন সৎ, নির্ভীক, স্পষ্টবাদী ও উদারমনা ’

0

জয়বাংলা শিল্পী গোষ্ঠী চট্টগ্রামের উদ্যোগে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ, দানশীল ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক প্রয়াত ড. মাহমুদ হাসানের স্মরণসভা (১ম মৃত্যুবার্ষিকী) কদম মোবারক এম ওয়াই উচ্চ বালক-বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় । গত ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় ।

এতে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন লেখক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী। উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র, রাজনীতিবিদ কবি মোহাম্মদ জোবায়ের। প্রধান আলোচক ছিলেন মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী’র কনিষ্ঠ সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দীন আহমদ চৌধুরী রাজু। বিশেষ আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক সংস্কৃতি ও শিক্ষানুরাগী এম.এ. সবুর, চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি মো: কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুজন বন্ধু ভট্টাচার্য্য, বিশিষ্ট নারীনেত্রী সৈয়দা শাহানা আরা বেগম, বিশিষ্ট নারীনেত্রী রুমকি সেনগুপ্তা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সজল দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শিল্পী নারায়ণ দাশ। এতে আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী সনাতন চক্রবর্ত্তী বিজয়, ছাত্রনেতা উজ্জ্বল ধর, আরিফুল ইসলাম বাপ্পু, কবি আসিফ ইকবাল, কৃষক লীগ নেতা আবুল হোসেন শুভ, সংগঠক সালাউদ্দিন লিটন, সংস্কৃতিকর্মী দিলীপ সেনগুপ্ত, শ্রমিক নেতা মো: নুরুচ্ছাফা।

এতে উপস্থিত ছিলেন ডা: আশীষ চৌধুরী, সংগঠক শওকত আলী সেলিম, সংগঠক খোরশেদ আলম, সংগঠক রুবেল দাশ প্রিন্স, চট্টগ্রাম উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি শাহ্ নুরুল আলম, সাংবাদিক রোকন উদ্দিন আহমদ, সংগঠক শিমুল দত্ত, সাংবাদিক ইমরান সোহেল, দেবেন্দ্র দাশ দেবু, রতন ভট্টাচার্য্য, মো: আক্তার, মো: শাওন, মুহাম্মদ মোজাম্মেল আজিম, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ রিয়াদ, মোহাম্মদ ইমন, মুসাদ্দিকুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, শ্রমিক নেতা মো: কামাল হোসেন, কুতুব উদ্দীন, এম. আলি, মোহাম্মদ সায়িম হাসান, মোহাম্মদ মাইনুল আহসান (ইমন), দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাহাব উদ্দিন, রকিব হাসান, সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার ও আমির হামজা প্রমুখ। প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন- ড. মাহমুদ হাসান একজন সৎ, নির্ভীক, স্পষ্টবাদী ও উদার মনের মানুষ ছিলেন।

ন্যায়, নীতি, আদর্শ তাঁর জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে গেছেন। তাঁর কাছে গিয়ে কেউ কখনো খালি হাতে ফিরে আসেননি। তিনি ফটিকছড়িতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। অসংখ্য সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। বর্তমান সময়ে সমাজে তাঁর মত ব্যক্তির খুবই অভাব। তিনি একজন সমাজ সংস্কারক ছিলেন। উদ্বোধক মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ড. মাহমুদ হাসান নিজের অর্থ ব্যয় করে সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। চট্টগ্রামের আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল। তিনি সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল ছিলেন। তাঁর হঠাৎ চলে যাওয়া সমাজ ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রধান আলোচক শরফুদ্দীন আহমদ চৌধুরী রাজু বলেন, ড. মাহমুদ হাসান একজন পরিচ্ছিন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি দেশের সংকটময় মুহুর্তে ফটিকছড়িবাসীর সাথে ছিলেন। তাঁকে হারিয়ে ফটিকছড়িবাসী অভিভাবকহারা হয়েছেন। তিনি রাজনীতি অঙ্গনে তরুণ প্রজন্মের কাছে আদর্শ হয়ে থাকবেন। বিশেষ আলোচক সমাজসেবক এম.এ. সবুর বলেন, কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। তিনি একজন সত্যকার দেশপ্রেমিক ও ভালো মানুষ ছিলেন।

সভার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ বলেন, তিনি সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা দিয়ে মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সর্বক্ষেত্রে সফলতার ছাপ রেখে গেছেন। বক্তারা বলেন, জয় বাংলা শিল্পী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা আয়োজন করায় সংগঠনের কর্মকর্তারা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি স্মরণসভার অনুষ্ঠান সফল করার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সভার এক প্রস্তাবে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর জন্মস্থান ফটিকছড়িতে তাঁর নামে একটি বড় রাস্তার নামকরণের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবী জানানো হয়।
সিটিজিনিউজ/এসএ

Share.

Leave A Reply