আমি যে বেকার, মা

76
  |  বুধবার, নভেম্বর ১১, ২০২০ |  ৫:০৯ অপরাহ্ণ

ফিচার : যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন বাড়ির কাছে এলে আম্মা বলে ডাক দিতেই আমাকে এসে জড়িয়ে ধরতেন। মাথায় হাত বোলাতেন। জিজ্ঞেস করতেন রাস্তায় কষ্ট হয়েছে কি না। কত কিছুর আয়োজন চলত। পিঠা বানাতেন। একটু পরপর বলতেন এটা খাও বাবা, ওটা খাও। বাবা মারা যাওয়ার পর মা-ই আমাদের আগলে রেখেছেন ১১ বছর ধরে।

মা, আপনি পিছলে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেছেন দেড় মাস হলো। ডাক্তার হাতের প্লাস্টার খুলেছে গত সপ্তাহে। আপনি ব্যথায় কাতড়াচ্ছিলেন হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে। আমিও কাঁদছিলাম। আপনি হয়তো টের পাননি। ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য পরদিন যখন নিয়ে গেলাম, তখনো আপনার কী কান্না! আপনার মাথা আমার কাঁধে রেখে আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। আপনি ব্যথায় কান্না করছিলেন, তবু আমার জন্য দোয়া করছেন। বাড়ি থেকে যেদিন ঢাকায় চলে আসব, সেদিনও আপনি হাউমাউ করে কাঁদলেন। আমি উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কারণ আপনার কান্না দেখে আমারও যে চোখে পানি এসে পড়েছিল। ডাক্তার আপনার হাতের ব্যায়াম করাতে বলেছিলেন দৈনিক পাঁচবার। আমিই সেই ব্যায়াম করাতাম। বাড়ি থেকে চলে আসার সময় আপনি বারবার বলছিলেন, ‘তুমি আমার হাতের ব্যায়ামটা অনেক যত্নসহকারে করাইছ, একটুও ব্যথা দাওনি।’ আমি জানি মা, আপনি অনেক ব্যথা পেয়েছেন।

Advertisement

যখন কুলিয়ারচর থেকে ট্রেনে উঠলাম, তখন আপনার মুখটা ভেসে উঠছিল। অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম। ট্রেনের বাথরুমের দরজা বন্ধ করে অনেকক্ষণ কেঁদেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছি, যেন আপনাকে আর কষ্ট না দেন। আক্ষেপ হয় নিজের প্রতি, অসুস্থতার সময়ও আপনার যথাযথ সেবা করার সামর্থ্য আমার হয়নি। আমি যে এখনো বেকার যুবক, মা।

সুত্র : কালেরকন্ঠ,

আব্দুল্লাহ আল মাউন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Advertisement