দিয়াজ হত্যার চার বছর পার

142
  |  শুক্রবার, নভেম্বর ২০, ২০২০ |  ২:৫৮ অপরাহ্ণ
দিয়াজ ইরফান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার বছরেও উন্মোচন হয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য।

পরিবার এবং দিয়াজের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্মাণকাজের দরপত্র কোন্দলের সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে।

Advertisement

কিন্তু বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের আজ চার বছর পূর্ণ হলেও হত্যার আসল রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তরা।

প্রতিবছরই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে, হয়নি শুধু মামলার অগ্রগতি। প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়ালেও অধরা রয়ে গেছে হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত আসামিরা।

গতকাল দিয়াজের বড়বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা বলেন, ‘কোনো নতুন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। দুইজন আসামি জামিনে আছেন। বাকিরা পলাতক। আমরা সিআইডি অফিসে যাচ্ছি। কিছুদিন আগে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। ওনাকে নতুন করে সব ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষী দেখাতে হচ্ছে, বুঝাতে হচ্ছে’।

মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। এই চার বছরের মধ্যে প্রতিবছরই নতুন একজন সিআইডি কর্মকর্তা আসে, অবার বদলি হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচারের আশায় এখনও ধুকে ধুকে কাঁদছেন আমার মা।’

দিয়াজ হত্যার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ও জেলার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার অবদুস সালাম মিয়া বলেন, ‘তদন্ত চলছে। আমি সবেমাত্র এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে এসেছি। কিছুদিন আগে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাদিপক্ষ যেসব তথ্য দিয়েছে তা আমরা সংগ্রহ করছি। নিরপেক্ষ জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে’।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামি দুইজনকে ধরার পর রিমান্ডেও আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা জামিনে বেরিয়ে গেছে। যারা পলাতক আছে তাদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় ওয়ারেন্ট আছে’।

এদিকে দিয়াজ ইরফানের অনুসারী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মামুন বলেন, ‘চার বছরেও দিয়াজ হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। কি কারণে এতো সময় লাগছে আমরা তা বুঝতে পারছি না। খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক এটাই আমাদের একমাত্র দাবি’।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজের লাশ।

প্রথম ময়নাতদন্তে এটি  ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলেও দিয়াজের পরিবার এ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করে আসছিল।

পরে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টর, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ সংগঠনটির ১০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দিয়াজের শরীরে হত্যার আলমত রয়েছে বলা হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিয়াজের মায়ের করা এজাহার হত্যা মামলা হিসেবে নিতে হাটহাজারী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

এমকে/কেএন

Advertisement