গাড়িত গরি স্যার না হন যার, কিচ্ছু ন বুঝি!

213
  |  শুক্রবার, নভেম্বর ২০, ২০২০ |  ৪:১৮ অপরাহ্ণ

জালালউদ্দিন সাগর: ভাই দুঃখের কথা ন হইয়ুন এই হুটার লয় বেশি পেরেশানিত আছি। গাড়িত গরি স্যার যার না আর হন যার কিচ্ছু ন বুঝি। হুটার আর সাইরেনের আওয়াজ হুনিলি মনে অয় স্যার আইয়ির, ফিরি চাইলি পাবলিক! এভাবে চাকরীর জীবনে হুটার আর সাইরেন নিয়ে বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত এক কনস্টেবল।

পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস,অ্যাম্বুলেন্স এবং বিজিবি (অপারেশনাল কাজে) ব্যতীত অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়িতে হুটার ও সাইরেন ব্যবহার আইনগত নিষিদ্ধ হলেও নগরীতে প্রায় বিভিন্ন যানবাহনে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে উক্ত দুটি হর্ন। নিষিদ্ধ হলেও দায়িত্বরত পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত রয়েছে একশ্রেণির চক্র। মূলত ট্রাফিক পুলিশকে ধোঁকা দিতে এই হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ি, আনসার ব্যাটেলিয়নের পিকআপ ভ্যান,ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্সিডিজ, পাজেরো, প্রাইভেট কারে হুটার ব্যবহৃত হচ্ছে অহরহ। এমনকী নিষিদ্ধ সেই হুটার-সাইরেন ব্যবহার হচ্ছে রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মীদের হোন্ডাতেও। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ এ ব্যাপারে প্রশাসনের তেমন কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নগরীর গোল পাহাড় মোড়, এমএম আলী রোড, স্টেডিয়াম রোড, জিইসি মোড়, জামালখানসহ নগরী প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়িতে প্রায় সময় নিষিদ্ধ হুটার বাঁজিয়ে প্রাইভেট কার, মার্সিডিজ, পাজেরো গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। শুধুমাত্র এসব গাড়ি নয় হুটার বাঁজানো থেকে বাদ যায় না পুলিশের ব্যক্তিগত গাড়িও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নিষিদ্ধ হুটার ব্যবহার করছে অপরাধিরা। একই সাথে ভিভিআইপি ভাব দেখানোসহ ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতেও হুটার ও সাইরেন ব্যবহার করেন যানবাহনের মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ চললেও কোনো রকম কার্যকর অভিযান চালানো হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর)   ও দীর্ঘ দিন ধরে সিএমপি ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা আমির জাফর  নিজের অভিজ্ঞতার কথা  বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,  ফায়ার সার্ভিস,অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, র‌্যাবের ব্যবহৃত সরকারি যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো পরিবহনে হুটার ও সাইরেন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ-আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। যদি কেউ ব্যবহার করেন তাহলে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তারপর একশনে যাবো। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসএম

Advertisement