ভাস্কর্য বিষয়ে কীসের আলোচনা, কেন আলোচনা?

143
  |  বুধবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২০ |  ৭:০৬ অপরাহ্ণ

সিটিজি ডেস্ক : সিটি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের দাবি, প্রতিহতের ঘোষণা এবং কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন এক ভাস্কর্য ভাঙচুরের পর দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজের একাংশের এক প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।

তাদের দাবি ভাস্কর্য বা মূর্তি ইসলামবিরোধী; মদিনা সনদের আলোকে যে দেশ পরিচালিত হবে সেখানে এসব অনৈসলামিক কিছু চলতে পারবে না। এনিয়ে প্রথমে তারা হুমকিধামকি দিয়েছে, সারাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে, কুষ্টিয়ায় একটি নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরও করেছে। এবং সবশেষে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। আলোচনায় বসার আগে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি মূলত সরকারকে চাপে রেখে তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা।

Advertisement

কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত শিক্ষা বোর্ড-আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান গত সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে বৈঠকে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আলেমদের এই প্রতিনিধিদল যে সকল প্রস্তাবনা রাখবে বলে গত ৫ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেগুলোর মধ্যে আছে-

‘‘১. মানব মূর্তি ও ভাস্কর্য যেকোনো উদ্দেশে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো নেতাকে ভাস্কর্য বানিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়তসম্মত নয়। এতে মুসলিম মৃতের আত্মার কষ্ট হয়। কারো প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণ না করে শতকরা ৯০ ভাগ জনগণের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কোরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো উত্তম বিকল্প সন্ধান করা যুক্তিযুক্ত।

২. আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা, কার্টুন, বিষোদগার ইত্যাদির তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিনাশের লক্ষে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অপকর্ম বন্ধ করা হোক।

৩. বিগত সময়ে ঈমানি আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করা হোক। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সারাদেশে আলেম-উলামা ও ইমাম-খতিবসহ সাধারণ মুসলমানদের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হোক। ধোলাইপাড় চত্বরের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত পুনঃনির্মিত মসজিদ নামাজের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

৪. সম্প্রতি শব্দ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অজুহাতে দ্বীনি মাহফিলে লাউডস্পিকার ব্যবহারে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অপরদিকে সাধারণ শব্দদূষণ তথা উচ্চস্বরে গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেবল ওয়াজ মাহফিল নিয়ে শব্দ দূষণের অজুহাতে বিশেষ নির্দেশনা অনভিপ্রেত। অতএব জনগণের কল্যাণের পথে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সকল দ্বীনী মাহফিল যথানিয়মে অনুষ্ঠানের অবাধ সুযোগ প্রদান করা হোক।

৫. যে সব বিষয় শরিয়তে নিষিদ্ধ, সেসব বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরা আলেমদের দায়িত্ব। অথচ একশ্রেণির মানুষ আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও দায়িত্বহীন আচরণ করছে। কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশের উস্কানি দিচ্ছে। এসবের খোঁজ-খবর রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। উস্কানিমূলক বক্তব্য অবমাননাকর মন্তব্য ও গান, মিছিল-মিটিং সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। উলামায়ে কেরাম এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল। সরকারকে এসবের উপযুক্ত প্রতিবিধান করতে হবে অন্যথায় দেশব্যাপী উদ্ভুত বিশৃঙ্খলা অস্থিরতায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। বিশেষ করে ইসলাম ও বাংলাদেশ বিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।’’

আলেমসমাজের এই দাবি-প্রস্তাবনা মূলত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে। যেকোনো মূল্যে তারা মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করে দিতে চায়। এরজন্যে প্রথমে তারা মাঠ গরম করেছে, মাঠ গরমের পর সত্যি-সত্যি ভাস্কর্যের ওপর রাতের আঁধারে হামলা করে ক্ষতিসাধন করেছে, সারাদেশে শোডাউন করেছে এবং এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। যে কৌশল অবলম্বন করে তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ রুখে দিতে চেয়েছিল সেটা প্রকাশ পেয়েছে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে। গত ২২ নভেম্বর মামুনুল হক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘‘ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন, মাহফিলে বাধা, একজন মাশরাফি বিন মর্তুজার আলাপন ও আমাদের পরবর্তী ভাবনা’’ শিরোনামের এক লেখায় তাদের ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে নিজের অলক্ষ্যেই তাদের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মপরিকল্পনায় জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় পরিস্থিতি তৈরি করতে তিনি এবং ফয়জুল করিম চরমোনাই পির দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এরপর তারা রাজধানীর ধোলাইপাড়ে একটা বড়ধরনের শোডাউন করে, হাটহাজারি মাদ্রাসায় করে, সিলেটেও করে।

মজার বিষয় হচ্ছে, এই পরিকল্পনা ও মাঠ গরমের ষড়যন্ত্রে সরকারঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদের উপস্থিতি রয়েছে। আর এই পরিকল্পনা ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আছে তার ভূমিকা ও উপস্থিতি। মাওলানা মাসউদ মাঠ গরমের পরিকল্পনাও যেমন আছেন, তেমনই আছেন মাঠ ঠাণ্ডা করতে সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও। এখানে একটাই উদ্দেশ্য ধর্মের নাম নিয়ে মানুষের আবেগকে নিয়ে খেলে ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ রুখে দিতে মাঠে যারা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে আছে মাওলানা মামুনুল হক, ফয়জুল করিম চরমোনাই, জুনাইদ বাবুনগরী ও নূর হোসাইন নূরানি। এদের মধ্যে মামুনুল-বাবুনগরী ও ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার আবেদন হয়েছে। ওই আবেদনের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে এখনও নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা যায় শেষ পর্যন্ত মামলা রুজু হবে না। কারণ প্রথমত রাষ্ট্রীয় ও শাসনতান্ত্রিক আদর্শিক দূরত্ব সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অনুরক্ত। তাদের এই অনুরাগ সাম্প্রতিক বছরগুলোর নানা সময়ে নানা ঘটনায় ইতোমধ্যেই প্রকাশিত। নারীকে অপমান, মুক্তচিন্তার প্রকাশ্য শত্রুতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধাচরণ সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক অনেকটাই লেনদেনের। হেফাজতের আলেমরা প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়েছে, সরকার তাদেরকে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করত সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতির কতখানি উপযুক্ত তারা এনিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

যাইহোক, ভাস্কর্য ইস্যুতে ধর্মের খেয়ালখুশি মার্কা ব্যাখ্যা দিয়ে এটাকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে মাঠ গরম করছে ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতারা। তারা তাদের পরিকল্পনামত সরকারের সঙ্গেও আলোচনায় গেছে। এখানে তারা নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণে ব্যস্ত ছিল প্রথমে। এখানে তারা সফল হয়েছে বলা যায়। মাঠ গরম করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার মত অবস্থায় পৌঁছেছে তারা। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ তারা এখনও না পেলেও ধারণা করা যায় ওটাই উদ্দেশ্য তাদের। কে জানে একটা সময়ে সেটাও পেয়ে যেতে পারে তারা, যেমনটা হেফাজতের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী পেয়েছিলেন এবং শেষমেশ তাদের অনেক দাবি পূরণ করে লাভবান হয়েছিলেন। আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্ব একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের যুদ্ধংদেহী বিরোধিতা করে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ইতোমধ্যেই সফল হয়েছে। এখানে মাওলানা মামুনুল হক, ফয়জুল করিমসহ অন্যান্যরা হেফাজতে ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তিশালী অবস্থান প্রমাণ করতে ভূমিকা রেখেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে সফল হওয়ার পর বাকি কাজটা সারছেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদসহ অন্যরা।

ধর্মভিত্তিক দলগুলো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। এই অস্বস্তি এতখানি প্রবল যে আওয়ামী লীগের দলীয় বক্তব্য আসতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেপ্তারকৃতরা বলছিলেন তারা মাওলানা মামুনুল হক, ফয়জুল করিম ও জুনাইদ বাবুনগরীর ভাস্কর্যবিরোধি বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হতে ভাঙচুর করেছেন। তবু এই আসামিদের হুকুমের আসামি করা হয়নি। অথচ আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করতে ঘরে থাকা, দেশের বাইরে থাকা অনেককেই বিভিন্ন মামলায় আসামি করেছে। অথচ জাতির পিতার ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতেও হুকুমের আসামিদের নাম বললেও সরকার তাদের বিপক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, এমনকি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগও কোন শব্দ উচ্চারণ করেনি।

প্রতিক্রিয়াশীলরা ভাস্কর্যকে মূর্তি বলছে। আর ওদিকে আওয়ামী লীগ ও সরকারের লোকজন ভাস্কর্য মূর্তি নয় এটা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ভুল ব্যাখ্যায় ভাস্কর্য মূর্তি হলেও সেটা কি ভেঙে দেওয়ার অধিকার কেউ রাখে? রাখে না। এই সাধারণ বোধজ্ঞানের ধারেকাছে যেতেও রাজি নয় দায়িত্বশীলেরা। ভাস্কর্য, মূর্তি, প্রতিমা যাই হোক না কেন এটা ভাঙার অধিকার কারও নেই। এটা কেউ গড়লে সেটারও বিরোধিতা করারও অবকাশ নাই। এই অন্যায্য বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় বসাটাও তাই অনুচিত। মৌলিক প্রশ্নে অন্যায়ভাবে বিরোধিতাকারীদের, হুমকি প্রদানকারীদের এবং ভাঙচুরে জড়িত গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় বসা তাদেরকে প্রশ্রয় দেওয়ারই নামান্তর।

ধর্ম রাষ্ট্রীয় কোন কর্মসূচি নয়। ধর্মরক্ষা রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব নয়। এটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। নাগরিক চাইলে ধর্মপালন করবে, না চাইলে করবে না- এখানে ব্যক্তিগতভাবে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনোকিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অদ্যকার যেসকল সংগঠন ধর্মরক্ষার নামে মাঠে নেমেছে তারা ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত কোন প্রতিনিধি নয়। ইসলাম ধর্মে সে বিধানও নাই। নবী মুহাম্মদের (সা) মৃত্যুর পর ধর্ম প্রচারক হিসেবে আল্লাহ প্রেরিত আর কেউ আসবে না। সুতরাং এদেরকে কিংবা অন্য নামের কাউকেই ইসলাম ধর্মের রক্ষক ভাবার কারণ নাই। উপরন্তু স্বঘোষিত ধর্মীয় নেতারা নানা মত-পথ ও তরিকায় বিভক্ত। এদের এক দল আরেকদলকে কাফের বলেও ফতোয়া দিয়ে আসছে। স্বঘোষিত এই ধর্মীয় নেতারাই যেখানে অন্য কোন স্বঘোষিত ধর্মীয় নেতার সার্টিফিকেট পেতে ব্যর্থ, সার্টিফিকেট দিতে অপারগ সেখানে রাষ্ট্র এদেরকে এভাবে গুরুত্ব দেবে কেন? কেন তাদেরকে আলোচনায় ডাকবে? এছাড়া এই কথিত ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যই যেখানে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধাচরণ সেখানে রাষ্ট্রীয় চরিত্র ও চেতনার প্রশ্নে তাদেরকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নাই।

ভাস্কর্য স্থাপন ইস্যুতে সরকারের পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। এখানে আপস কৌশল অনাকাঙ্ক্ষিত। এইধরনের কৌশল প্রতিক্রিয়াশীলদের আরও বেপরোয়া করবে। এখানে জাতির পিতা সম্মান ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আপস আর আলোচনার চাইতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণই সরকারের দায়িত্ব।

লেখক : কবির রায়মদ

সূত্র: চ্যানেল আই

এমকে

Advertisement