চাকরী ছাড়ার শিষ্টাচার ও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর উপায়

225
  |  শনিবার, জানুয়ারি ২, ২০২১ |  ৬:১৫ অপরাহ্ণ

প্রফেসর সরওয়ার জাহান:  চাকরীতে প্রবেশের সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে চাকরীজীবীদের মধ্যে এক ধরনের অমায়িক ভাব ও সৌজন্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু চাকরী ছাড়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ চাকরীজীবীদের মধ্যে সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট আর দেখা যায় না। মুহূর্তের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘদিনের লালিত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রায়শই প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো রকম সমঝোতার ছাড়াই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বর্তমান কর্মস্থল থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করে বা ব্যবসায় যুক্ত হয়। ফলে এতদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে থাকা হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বিষাদে রূপ নেয় যা উভয় ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে। নিজের স্বার্থকে অতিমাত্রায় গুরুত্ব দিতে গিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে বেকায়দায় ফেলা যেমন অনুচিত ঠিক তেমনি বিদায়কালে একটি অনভিপ্রেত ঘটনা তৈরি করে  দীর্ঘদিনের কর্মস্থলের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করাও কাম্য নয়। অথচ চাকরী ছাড়ার ক্ষেত্রে যদি শিষ্টাচারের বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া যায় তাহলে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

Advertisement

একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক- একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সকল কর্মকর্তাদের জরুরি সভা চলছে। সবাই বেশ আগ্রহের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করছেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লক্ষ্য করলেন সবার স্বতস্ফূর্ততা  থাকলেও একজনের মধ্যে  তেমন আগ্রহ নেই এবং তিনি কোনো কথাও বলছেন না।  কর্তাব্যক্তি বলেই ফেললেন, কী ব্যাপার আরভি, আপনি কিছু বলছেন না কেন? আরভি অবলীলায় জবাব দিলেন, “স্যার, আমিতো তো আর বেশি দিন নেই আপনাদের সাথে’।  আবার কেউ কেউ এমন আচরণ করেন অত্যাবশ্যকীয় সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা থাকলেও ইচ্ছাকৃত এড়িয়ে যান আশানুরূপ ব্যাখ্যা ছাড়াই । কিছু কিছু এমন ব্যক্তি আছেন যারা বর্তমান কর্মস্থলে কোনো তথ্য না দিয়ে নতুন চাকরীতে যোগদান করে ফেলেন। পরবর্তীতে একটা অজুহাত দাঁড় করিয়ে ছাড়পত্রের আবেদন করেন অথচ প্রতিষ্ঠান এই অবস্থায় কী ধরনের সমস্যায় সম্মুখীন হবে তা সচেতনভাবে ভুলে যান।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় যা দেখি দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা হঠাৎ অচেনা মানুষ হয়ে যায় ।  ২৫/৩০ বছরের তরুণ যেমন ৬০/৬৫ বৎসরের অভিজ্ঞতাসমপন্ন কর্মীও ঠিক একই। অথচ প্রতিষ্ঠান মালিকের প্রতিদিনের ভাবনায় থাকে কিভাবে সহকর্মীদের সাথে নিয়ে একটি পরিবারের সদস্যদের মত কাজ করা যায় । তাদের মনের অবস্থা বুঝার জন্য চেষ্টা করেন খুব কাছে গিয়ে । তথ্য নেন আরও বেশি করে জানতে। র্দীঘদিন একসাথে কাজ করার পর যখন দেখেন সহকর্মীদের শেষ কর্মদিবসগুলো আগের মত স্বাভাবিক নয় তখন আশাহত হন। শেষ সময়গুলোর অবহেলা আর তাচ্ছিল্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের জন্য কষ্টদায়ক । এই ধরনের আচরণ যে কারো জন্য বিস্ময়কর ও অপ্রত্যাশিত। মূলত পরিপক্কতার অভাব, যথাযথ চাকরীর নূন্যতম সার্ভিস রুলস সর্ম্পকে জ্ঞান না থাকা, অকৃতজ্ঞতাবোধ ও স্বার্থপরতার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। এমন চিত্র এটাই দাবি করে পেশাদারিত্বের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত । তবে  বিব্রতকর পরিবেশ তৈরি না করে বা নিজেও বিব্রত না হয়ে কিভাবে চাকরী ছাড়া যায় তা ভাবা উচিত? ইচ্ছা থাকলে এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা যায় । খুব সন্তুষ্টচিত্তে কিন্তু এই কাজটি করা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনেক লেখাই আছে কিভাবে প্রফেশনাল উপায়ে চাকরী ছাড়া যায় এবং তার কৌশল!

প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী, যিনি নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করছেন, হঠাৎ দেখা যাচ্ছে কর্মী আগের মতো কাজ করছেন না । কাজে অনিয়মিত এবং অমনোযোগী, অল্পতেই রেগে যাচ্ছেন এবং নেতিবাচক আচরণ করছেন । প্রতিষ্ঠানের বা সহকর্মীদের নিয়ে সমালোচনা করছেন, কাজের প্রচুর চাপ, বেতন-সুযোগ সুবিধা কম, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা আরো অনেক কিছু। অথচ বর্তমান চাকরীটা পাওয়ার জন্য কত তদবির, দোয়া-মানত কত কিছুই না করেছেন এই কর্মী । আজ হয়তো বা এই কর্মীর অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেক কিছুই শিখেছে বটে তবে পেশাদারিত্ব গড়ে উঠেনি । পুরাতন এই চাকরী এখন সামান্য বেতনের মনে হচ্ছে । অথচ এই চাকুরীর অভিজ্ঞতা পুঁজি করে প্রতিনিয়ত আরেকটু  ভালো বেতন সুযোগ সুবিধার আশায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরীর জন্য চেষ্টা করছেন । একদিন হঠাৎ করে কাঙ্খিত ডাক  পেয়েও যান । আনন্দে আত্মহারা, বিশ্বাসই হয় না, ভাবতে অবাক মনে হচ্ছে নতুন আরেকটি চাকুরী পেয়েছেন। আগের সহকর্মীকে গেঁও অপেশাদার মনে হচ্ছে এখন । আর ভবিষৎ সহকর্মীদের কথা মনে করলেই বেশ শিহরণ অনুভূত হচ্ছে । খুবই ইচ্ছা করছে এখন ইমেইল দিয়ে জানিয়ে দিতে যে আর কাজে আসতে পারবেন না বা আর কাজ করবেন না । অনেক টাকার বেতন, অনেক সুযোগ-সুবিধা নতুন চাকুরীতে। দারুণ পরিবেশ । ঘুমাতে পারছেন না, ঘুম ভেঙে যাচ্ছে বার বার। কখন যে নতুন চাকরীতে যোগদিবেন আর কত তাড়াতাড়ি কিভাবে পুরানো চাকরী ছাড়বেন এই ভেবে । এই ধরনের অনাকাঙ্খিত ভুল অনেকেই করেন ।

একজন কর্মীর চাকরী ছাড়ার মূল কারণগুলো হলো বেতন, কর্মঘণ্টা, কাজের ব্যাপ্তি, ছুটি, সম্মান, মূল্যায়ন, স্বীকৃতি, কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পারিবারিক ভবিষ্যৎ ও অন্যান্য সুবিধা প্রভৃতি। পারিশ্রমিক বা অর্থ কাজের সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । অর্থ কেবল মানুষকে তাদের প্রাথমিক চাহিদা পূরণের ক্ষমতা েেদয় না বরং উচ্চ স্তরের চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখে। তবে অর্থ জটিল এবং বহুমুখি ফ্যাক্টর হিসাবেও দেখা যায়। অধিকাংশ কর্মীরা প্রায়শই উপলব্ধি করতে পারে না তাদের চাওয়া এবং প্রয়োজন কি? অনেক সময় না ভেবে আবেগে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। অনেকে পদবী এবং যোগ্যতার ভারসাম্য বুঝতেও অক্ষম। বিবেচনায় আনে কেবল প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা ও বেতন-স্তরের বিষয়টি । অর্থকে প্রাধান্য না দিয়ে মানবীয় আচরণ এবং ক্যারিয়ারকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কেবল অর্থের জন্য চাকুরী পরিবর্তন না করে ক্যারিয়ারের জন্য পরিবর্তন হলে চাকরীতে সুখী এবং ভবিষ্যত সমৃদ্ধি আসতে পারে। একবার ক্যারিয়ার হয়ে গেলে টাকার বিষয়টি নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না যা এমনিতে চলে আসে।

চিন্তা ভাবনা আগে, তার পর সিদ্ধান্ত । চাকরী ছাড়ার আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা খুবই জরুরি। ম্যানেজারের সাথে যদি আপনার ইতিবাচক কাজের সম্পর্ক থাকে তবে নিঃসঙ্কোচে পরিকল্পনার কথা জানান তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত  নেয়ার আগে তা বলা উচিত।। যে কারণে  চাকরী ছাড়ার কথা ভাবছেন তার সামাধানও পেতে পারেন । অফিসের পলিসি মোতাবেক চাকরী ছাড়াটাই উত্তম । প্রতিটি অফিস তার নিজস্ব প্রয়োজনেই নিয়ম কানুন তৈরি করে । চাকুরী ছাড়ার সময় অফিসের পলিসি জেনে করা উচিত। এতে সম্মান বাড়বে কমবে না। শেষ দিন পর্যন্ত পূর্বের নিয়মে অফিসে আসা উচিত । যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাধা দেয় তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু দেখা যায় অফিসে উপস্থিত, কিন্তু কাজে মন নেই, পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার পর নোটিশ পিরিয়ডে থাকতে হয়।  অথচ সেই সময় অনেকেই কিছু কাজ না করে হেলাফেলা করে। অনেকে আবার অফিসেও আসে না তবে মাসের শেষে বেতনের  আশা করে । কাজের  দায়বদ্ধতা নেই ভেবে ফোনেও সহযোগিতা করতে চায় না, উল্টা পাল্টা জবাব দেয়। মনে রাখা উচিত এই চাকরিই এতদিন আপনার সঙ্গী ছিল। তাই শেষবেলায় আপনার আচরণে খারাপ ধারণা তৈরি হতে পারে এমন কিছু না করাই ভাল । সকলের সাথে সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণই কাম্য। যেকোনো সময় ভবিষ্যতে বর্তমান চাকরিদাতার রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতের পথ খোলা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যে প্রতিষ্ঠান থেকে আজ চলে যাচ্ছেন, ভবিষ্যতে আবার সেখানে বড় কোন পদে আসার সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত রাখা বুদ্বিমানের কাজ । মনে রাখবেন, সম্পর্ক নষ্ট মানে সুযোগের একটি জানালা বন্ধ হয়ে যাওয়া। আপনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে এই প্রতিষ্ঠানও । এতে আপনিই লাভবান হবেন।

সুসম্পর্ক বজায় রেখে চাকরি ছাড়াটা ভদ্রতা। হঠাৎ করে সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকরী ছাড়াটা মারাত্মক ভুল। প্রতিষ্ঠানের কথা ভেবে আপনার নিয়োগকর্তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে মানসম্পন্ন পদত্যাগপত্রের ভাষা ইতিবাচক, সরল এবং পরিষ্কার হলে ভাল । এতে মৌলিক কিছু তথ্য যোগ করতে হবে। যেমন  :  (১) পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার এবং পদত্যাগ কার্যকরিতার তারিখ উল্লেখ করা (২) কাজের পরিধি বা প্রতিষ্ঠান ভেদে অন্তত ২/৩ মাস আগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া । (৩) হাতের কাজ শেষ করে যাওয়া এবং সহকর্মীকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া যাতে প্রতিষ্ঠান বা সহকর্মীরা ঝুঁকিতে না পড়ে। প্রয়োজনে খোঁজ খবর নেওয়া, যেন সবকিছু ঠিক মত চলে (৪) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার কারণ সংক্ষিপ্ত আকারে জানানো। (৫) যথা সম্ভব যেকোনো প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। মনে রাখতে হবে কেউ স্বেচ্ছায় চাকরী থেকে অব্যাহতি নিতে চাইলে তাকে ৬০ দিন পূর্বে কর্তৃপক্ষকে লিখিত নোটিশ দিতে হয়। যদি কেউ হঠাৎ চাকরী থেকে অব্যাহতি নিতে চান তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিশ মেয়াদের মজুরীর সমপরিমাণ টাকা প্রদান করতে হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ফাইল ও মালামাল জমা দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হয়। তবে জেনে রাখা উচিত অগ্রিম নোটিশ দেওয়ার অর্থ চাকরী থেকে অব্যাহতি নয়।

চাকরি ছাড়ার শিষ্টাচারউপরোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্যে পদত্যাগপত্রে অফিসের কর্মকর্তাদের প্রশংসা করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানো সমুচিত। পদত্যাগপত্রে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া দরকার যেমন চাকরি ছাড়ার প্রকৃত কোনো কারণ উল্লেখ না করাই ভালো। যদি অস্বস্তিকর কোনো কারণে চাকরি ছাড়তে হয়, তা উল্লেখ না করাই করা উত্তম । এছাড়াও নেতিবাচক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া উচিত। ছাড়পত্রের ভাষা অবশ্যই শোভনীয় ও পেশাদার হতে হবে। আগ্রাসী বা অনুগ্রহ চাওয়াও বড় ধরনের ভুল। পাশাপাশি কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। চাকরি ছাড়ার সঠিক কারণটি তুলে ধরতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। স্বল্প ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারলে ভাল । পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে বার বার দেখে নেওয়া উচিত।
দীর্ঘদিনের পুরানো চাকরী ছাড়ার ক্ষেত্রে নিজেকে এক ভয়ংকর শক্তি নিয়ে এগোতে হয়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস যদি না থাকে রোমান্টিক সম্পর্ক ভাঙার মত হতে পারে । বিষয়টি অনেকটা এই রকম,  কর্মী তার বসকে ‘ডাম্পিং’ করছে , কিছুটা হলেও সত্য যে একই সাথে সহকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানকে ‘ডাম্পিং’ করছে। এমন অনেক কর্মী আছে যারা শতভাগ নিশ্চিত নন যে তারা পুরাতন কাজ ছেড়ে সঠিক কাজ করছেন কি না! । তাই পুরাতন কাজ বা প্রতিষ্ঠান মানে একটি আবেগের স্থান । চাকুরী ছাড়ার আগে পরবর্তী প্রতিষ্ঠান এবং তার সহকর্মীদের সম্পর্কে জানুন। এই সমাজ আমাদেরই, এই প্রতিষ্ঠানগুলোও আমাদেও, দেশের মানুষের সাথে করি এবং করবো। মনে রাখা উচিৎ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, নীতি নৈতিকতা আর মূল্যবোধ অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করে। আর তা না হলে আমদের অবচেতন মনে আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম বিশৃঙ্খলার চাদরে ঢেকে যাবে, যা অবশ্যই কারো কাম্য নয় ।

লেখক: উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা, সাদার্ন ইউনিভার্সিটি এবং টেকসই উন্নয়নকর্মী

Advertisement