বছরে চসিকের পৌনে ১কোটি টাকা খরচ বাঁচালেন সুজন !

145
  |  সোমবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২১ |  ৬:২৯ অপরাহ্ণ

কেএন সানজিদা : কাজ না করেই নিয়মিত বেতন উত্তোলন করায় হাওয়া হয়ে গেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)এর সাড়ে ৪কোটি টাকা। যার ইতি টানলেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। চসিকের সেবক হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও তা না করে পুরনো পেশা ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে যাওয়া সেই ৫০ সেবককে চাকরি থেকে ছাটাই করে তিনি খরচ বাঁচান চসিকের অতিরিক্ত পৌনে ১ কোটি টাকা।

জানা যায়, কোনো কাজ ছাড়া শুধু স্বাক্ষর করেই বেতন পেতেন তারা। রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করে নগরীর সৌন্দর্য্য যাতে নষ্ট না হয়, এজন্যই চসিক থেকে নিয়মিত বেতন দেয়া হতো তাদের। এক বা দুই বছর নয়। দশটি বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে এই সম্মানী পেয়ে আসছিলেন ৫০জন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক। কিন্তু বাদ সাধে তাদের বাড়তি আয়ের নেশা। যে কারনে বেতন নিয়ে ঠিকই বসে পড়তেন পুরনো পেশায়। তাই চাকরি থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়ে চসিকের বার্ষিক ৭৫লাখ টাকা গচ্চার হাত থেকে বাঁচালেন প্রশাসক সুজন।

Advertisement

২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীকে ভিক্ষুকমুক্ত রাখতে ৫০জন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে ভাতাদান কার্যক্রম শুরু করে চসিক।বিশ্বকাপ উপলক্ষে নগরীতে আসা দেশি-বিদেশী পর্যটক, খেলোয়ার ও সাংবাদিকদের জন্য দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে এ উদ্যোগ নেন চসিকের তৎকালীন মেয়র মনজুর আলম। পর্যায়ক্রমে তখন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার আশ্বাস দেন তিনি।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনের একটি তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ৫০ জনকে নির্বাচিত করে লিয়াজোঁ কমিটি। ন্যূনতম শ্রমের বিনিময়ে সে বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই চসিকের সেবক হিসেবে তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা হলে এ পেশা ছেড়ে দেওয়ারও তখন আশ্বাস দেন ভিক্ষুকরা।

কিন্তু কোনোরকম কাজ না করেই মাসে জনপ্রতি সাড়ে ১২হাজার টাকার বেতন উত্তোলন করেছেন এই ভিক্ষুকরা। অভিযোগ আছে, এই তালিকায় শুধু ভিক্ষুক নয়, অন্তর্ভুক্ত আছেন বহিরাগতরাও। এছাড়া, চসিক থেকে নিয়মিত বেতন তুললেও চসিকে হাজিরা দিয়ে প্রতিদিন আবার রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তারা।

তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ পাওয়া ৪০ সেবক। দীর্ঘ দশ বছর ধরে চসিক থেকে সেবক পদধারী হিসেবে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করেছেন তারা।কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি বরাবরের মত বেতন তুলতে গেলে তাদের পোশাক ও আইডি কার্ড জমা দিতে বলা হয়।

চাকরি হারিয়ে ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে তাদের চাকরিতে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেন ভিক্ষুক পুর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় চাকরি পাওয়া ৪০ ভিক্ষুক। তারা দাবি করেন, তারা কাজ করে চসিক থেকে বেতন নিতে চান। চান কর্ম করে খেতে।

এদিকে সুপারভাইজার না থাকায় তারা হাজিরা দেন না বলে দাবি করেন ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির সমন্বয়ক কামাল হোসেন। তিনি জানান, আগে তাদের দুইজন সুপারভাইজার ছিলেন। তারাই এদের কাজ মনিটরিং করতেন। পরে আ.জ.ম নাছির উদ্দিন চসিক মেয়র হওয়ার পর দুইজন সুপারভাইজারকেই অন্য বিভাগে স্থানান্তর করেন। তাই, তাদের নিয়মিত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কারন তারা অনেকে পঙ্গু, মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে যারা কাজ করতে সক্ষম, তারা নিয়মিত কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অথচ মুখে বললেও কাজ করায় তাদের কোনো আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ করেন চসিক প্রশাসক। তিনি সিটিজিনিউজকে বলেন, মঞ্জু সাহেবের (সাবেক মেয়র মনজুর আলম মঞ্জু) সময় থেকে এই প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের চসিকের সেবকের চাকরি দেয়া হয়। তারা যাতে রাস্তায় ভিক্ষা করতে না যায় তাই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। ৫০জনকে মাসিক সাড়ে ১২হাজার টাকা বেতনে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তারা সাড়ে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কিন্তু প্রথম দিকে তারা হাজিরা দিলেও এরপর আর হাজিরাও দেয় না। তাই যারা হাজিরা দিয়ে কাজ করে না, তাদের নিয়োগপত্র বাতিল করে দিয়েছি। তারা হাজির তাদেরকে বলা হয়েছে, যদি কেউ কাজ করতে চান, চসিককে বলবেন। ফুটপাতে হকার বা অন্যকিছুর ব্যবস্থা করে দেবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কেউ যোগাযোগই করেনি।

কেএন

Advertisement