‘পাহাড় দখল করে বাণিজ্য কেন্দ্র বানাচ্ছে সিকদার গ্রুপ’

112
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১ |  ৬:২৪ অপরাহ্ণ

‘চিম্বুক পাহাড় দখল করে পাঁচ তারকা হোটেল তৈরি করে ম্রো’দের অস্তিত্ব বিলীন করে দিচ্ছে সিকদার গ্রুপ। তাই বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের কোলে ম্রো জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অস্তিত্বের এক কঠিন সংকটে পড়েছে৷’

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকাল  সাড়ে ৪ টার দিকে নগরীর চেরাগী মোড়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা।

Advertisement

সভায় অমিত চাকমা’র সঞ্চালনায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সহ-সভাপতি শুভ চাক’র সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সহ-সভাপতি শুভ চাক বলেন, পাহাড় রক্ষায় বিভিন্নভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বুঝানোর চেষ্টা করছে সরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে ৮০’র দশক থেকে সরকার পাহাড়ে হত্যা, সম্পত্তি দখল ও পাহাড়ি ঐহিত্য ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। অথচ সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদেও দেশের নৃ-তাত্ত্বিক জাতি গোষ্ঠী রক্ষার কথা বলা থাকলেও সরকার বিভিন্ন কৌশলে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠিদের পাহাড়ি অঞ্চল দখল করে আমাদেরকে ভাসমান জাতিতে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ এই প্রথাগত ও ঐতিহ্যগত বা এনসেস্ট্রাল ভূমি অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে৷ বাংলাদেশ সরকার পাহাড়ি ভূমি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, উল্টো বিভিন্ন সংস্থাকে ভূমি দখল করতে সহযোগিতা করছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যয় নাফাক বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১১তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “আদিবাসীদের ঐতিহ্যগতভাবে অধিকৃত ভূমির উপর যৌথ কিংবা ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার স্বীকার করতে হবে৷” আবার জাতিসংঘ ইনডিজিনাস পিপলস্ ঘোষণাপত্রের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, যেসব ভূমি, অঞ্চল ও প্রাকৃতিক সম্পদ আদিবাসীরা বংশপরম্পরায় ঐতিহ্যগতভাবে ভোগদখল করে আসছে বা কোনোরকম ব্যবহার করে আসছে, তার উপর তাদের অধিকার রয়েছে৷ রাষ্ট্র তাদের রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও ভূমি মালিকানা প্রথাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে এই সব ভূমি, অঞ্চল ও সম্পদের আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করবে৷ কিন্তু যুগ যুগ ধরে আদিবাসীদের ভূমির দখল করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বাংলাদেশ সরকার৷

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ‘আমি কে, তুমি কে, বাঙ্গালি-বাঙ্গালি’ এই স্লোগানে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির জাতিসত্ত্বের অস্তিত নেই। যেভাবে পাকিস্তান সরকার বাঙ্গালি জাতির উপর রাষ্ট্রীয় ভাষা দখল করে উর্দু বানাতে চেয়েছিল, ঠিক এখন বাংলাদেশ সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাও দখল করে আমাদের জাতিসত্ত্বা গিলে ফেলছে। পাহাড়ে ফসলি জমি ও জুমসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্য জিনিসের চাষের ক্ষেত দখল করে পর্যটনের নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পর্যটন স্পটগুলোতে টাকা গাছের পাতায় পরিণত হয়েছে। তাই কিসের উন্নয়ন, কার স্বার্থে উন্নয়ন? এসব ব্যবসায়ী ও কিছু রাঘব বোয়ালের পকেট ভারি করা ছাড়া আর কিছু না।

বক্তারা আরো বলেন, বহু আগে থেকেই এই ম্রো পাহাড়ী জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যগত ভূমি হারাতে বসেছে৷ তাদের জুম জমি কখনো উন্নয়নের নামে, কখনো পর্যটন স¤প্রসারণের নামে, কখনো সরকারি নানা স্থাপনার নামে কেড়ে নেওয়া হয়েছে৷ এবার প্রথমবারের মতো এই ম্রো জনগোষ্ঠী প্রতিবাদে মুখর হয়েছে৷ তারা তাদের চিরায়ত পাহাড়, প্রথাগত ভূমি ও অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে৷

ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, আদিবাসী বিষয়ক সংগঠন সংসদীয় ককাস, পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশন ও আদিবাসী ফোরামসহ অনেকে তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে বলে জানান বক্তারা৷

এমকে/কেএন

Advertisement