ইয়াবা বিক্রেতা সেই এএসআই কারাগারে

62
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১ |  ৩:১৪ অপরাহ্ণ

জব্দকৃত ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের সহকারী উপ-পরিদর্শক (সাময়িক বরখাস্ত) মোহাম্মদ মোস্তফাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেট আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

Advertisement

২০২০ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে নগরীর ওয়াসা মোড়ের হক লাইব্রেরি সামনে থেকে দুই হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন রাঙ্গুনিয়া থানার কনস্টেবল মোশাররফ হোসেন। ইয়াবাসহ গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ স্বীকার করেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোস্তফা ও তিনি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তারা দুজনে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদে দুজনের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক  ছিলো।

এ ঘটনায় পরদিন নগরীর চকবাজার থানায় একটি মামলা করে র‌্যাব।

মামলা তদন্ত করে কনস্টেবল মোশাররফ ও এএসআই মোস্তফাকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের পরিদর্শক মঈনুর রহমান। কয়েক মাস পলাতক থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়ে কর্মস্থল নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনে হাজির হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন। আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত মোস্তফাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি রাঙ্গুনিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। নগরের কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন তিনি। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় এএসআই মোস্তফা ফোন দিয়ে তাকে দামপাড়া সিআইডি অফিসের গেটের সামনে আসতে বলেন। বিকেল চারটায় সেখানে গেলে মোস্তফাসহ গেটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসেন। কিছুক্ষণ পর বেলাল নামে একজন লোক এসে মোস্তফার সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে মোস্তফা বেলালের হাতে একটি লাল রঙের ব্যাগ দিয়ে মোশাররফকে বলেন, ‘তুমি ওর (বেলালের) সাথে যাও। কিছু টাকা দেবে তা নিয়ে এসো।’ কিন্তু মোস্তফার কথা মতো বেলালের সাথে লালখান বাজার হাইলেভেল রোডে গেলে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন মোশাররফ।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, এএসআই মোস্তফা তাকে ইয়াবাগুলো বিক্রির জন্য দেন। মোশাররফ ও মোস্তফা নগর পুলিশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় চাকরি করেছেন। দুজনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইয়াবাসহ ধরা পড়ার আগে দুজনের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়।

জেনেশুনেই ইয়াবা বিক্রির জন্য তারা নিজেদের কাছে রাখেন বলে জানান মোশাররফ।

এসইউ/কেএন

Advertisement