হাটহাজারীতে প্রথমবারের মত সূর্যমুখী ফুলের চাষ!

দর্শনার্থীদের ভিড়

282
 মো. আবু শাহেদ, হাটহাজারী প্রতিনিধি |  বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ |  ৬:৪০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। একসঙ্গে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুলের হাসির ঝিলিক দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সেই নজরকাড়া দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছে মানুষ।

প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছেন ফুল দেখতে। দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীরা জানান এমন সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ তারা। চারদিকে বিস্তৃত ফসলের মাঠ। মাঝখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই দৃশ্যটি দেখেতে মন আইঢাই করে ওঠে প্রকৃতি প্রেমীদের।

Advertisement

বাগান দেখতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহানাজ শিমু বলেন, সূর্যমুখী ফুল সূর্যের দিকেই মুখ ঘুরিয়ে থাকে। সন্তানদের এর কারণ ব্যাখ্যা করেছি এবং দেখিয়েছি। তাসনিয়া নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘এতো সুন্দর দৃশ্য আগে কখনো দেখা হয়নি। তাই বন্ধুদের নিয়ে এসেছি তা দেখতে।’

হাটহাজারী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মোক্তাদির আলম বলেন, এই এলাকার মাটিতে সূর্যমুখী ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হতে পারে। অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি বাণিজ্যিক দিকে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে, পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করছে। ফুল দেখতে প্রতিদিন লোকজন এসে ভিড় জমাচ্ছেন।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব) ডক্টর মু. তোফাজ্জল হোসেন রনি বলেন, বাংলাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত হয় ছয় ধরনের ভোজ্যতেল। এর মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে আছে সূর্যমুখী তেল। বছরে গড়ে ৩৭ শতাংশ হারে বাড়ছে এই তেল আমদানি। দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দামে লাগাম টানতে চলছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে বছরে ৩ থেকে ৪ হাজার টন সূর্যমুখী তেল বীজ উৎপন্ন হয়। উৎপাদন বাড়লে তেলবীজ আর আমদানি করতে হবে না।

মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মো. খলিলুর রহমান ভুইঁয়া বলেন, আমাদের এখানে প্রথম বারের মতো সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। ১ একর জমিতে এই চাষ করা হয়। তিন মাস পর গাছে ফুল দেখা দেয়। গত কয়েক দিন থেকে সূর্যমুখী ফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে, ছবি তুলছে। একই সাথে মিডিয়া কর্মীরা নিউজ কভারেজ করছে এইটা সৌভাগ্য বিষয়।

কেএন

Advertisement