ব্যর্থতা আছে তবে কখনও হতাশ হইনি : ইকবাল হায়দার

226
 উদ্দীন রাকিব |  বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ |  ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ছবি-প্রীতম নন্দী

কাজের স্বীকৃতি সব সময় আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। আর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মানে অনেক বড় প্রাপ্তি। অবশ্যই এ প্রাপ্তিতে নিজের মাঝে বাড়তি কিছু কাজ করছে। সবসময় একটা কাজই করেছি সেটি হচ্ছে নাটক। ওই ক্যাটাগরিতে একুশে পদক পাওয়ায় সেটা আমার জীবনে বিশাল অর্জন। এতে আমার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেলো। একুশে পদক যারা পেয়েছেন তুলনামূলকভাবে সবচাইতে কনিষ্ঠ হচ্ছি আমি। তার মানে আমার কাজ করার সুযোগ হয়তো আরও আছে।

সিটিজিনিউজের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন একুশে পদক প্রাপ্ত এবং বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার।

Advertisement

জীবনে অপ্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জীবনে অনেক কিছুই পাইনি তবে থেমে থাকেনি। আমি শুধু একটা কাজ করেছি সেটি হচ্ছে নাটক। আমার ধ্যান—জ্ঞান জুড়ে এই জগতটি, সেটার কাঙ্খিত জায়গায় এখনও পৌঁছাতে পারিনি। অনেক স্বপ্ন তৈরি হয়, স্বপ্নগুলো বারেবারে বড় হয়। কিন্তু নিজের মাঝে তৃপ্ত হওয়ার মতো এখনও সেরকম কিছু হয়নি।

জীবনের লক্ষ্য কেমন হওয়া উচিৎ প্রশ্নে ইকবাল হায়দার বলেন, আমি যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে জীবনে যাই করিনা কেন যেটা ভালো লাগবে, যেটা আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, যেটাতে আমার একটি স্বপ্ন তৈরি হতে পারে সে জায়গায় পরিপূর্ণভাবে থাকা। মোট কথা লক্ষ্য স্থির থাকতে হবে। আমি জীবনে যাই করেছি মনোযোগ দিয়ে করেছি। সর্বশেষ করেছি নাটক এবং নাটকই ছিলাম। আমার কখনো মনে হয়নি চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবো। বিভিন্ন জায়গায় থেকে আমার অনেক অফার এসেছিল তাদের অফারে আমি সায় দেয়নি। আমাদের ভাবনায় শুধু চট্টগ্রাম নয় ছিল পুরো বাংলাদেশ।

নিজেকে প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রামকে বেছে নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজধানী হচ্ছে মূলধারা। স্বাভাবিকভাবে সবাই রাজধানীর দিকে ঝুঁকবে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে চট্টগ্রাম আলাদা ও বিচ্ছিন্নধারার। বিচ্ছিন্ন ধারা সবসময় সৃজনশীল মানুষের জন্য। এখানে নতুন নতুন কাজ দিয়ে নিজের লুকায়িত প্রতিভা বিকশিত করা সুযোগ রয়েছে। সেজন্য আমার কাছে কিছু করার উর্বর জায়গা মনে হয়েছে চট্টগ্রাম।

নাট্য জগতে কাজের শুরুটা কখন হয়েছিলো, তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের মার্চে আমার পদচারণা। সবাই আমাকে নাট্যকার হিসেবে জানে। আমি নিজেকেও সেটা অনুভব করি। করোনাকালে যখন সবকিছু লকডাউন হয়ে গেলো এবং থিয়েটার থেকে দূরত্ব আমি নিজেকে খুব অসহায় বোধ করেছি। কারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক না হলে বা সমষ্টিগত যোগাযোগ না হলে কিছুই হয় না। ওই সময় মনে হয়েছে এই নাট্য জগতটাই আমার জন্য ঠিক আছে। আমি কখনও হতাশ হয়নি। অনেক কাজে ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থতা তো নিয়মিত আছেই। না পাওয়া আর না পারাটাকে আমি শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। যা আমার জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

তরুণ প্রজন্মের কাছে মঞ্চ নাটককে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে, আমি যেটা বলতে চাই, চট্টগ্রামে আমরা যখন নাটক শুরু করি বা স্বাধীনতার পরে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদের অনেকে গ্রুপ থিয়েটারে কাজ করেছে। গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন তখনই শুরু । এই আন্দোলনে ঢাকায় কিছু পুরানো মানুষ যুক্ত হলেও চট্টগ্রামে কিন্তু তারুণ্যর প্রভাবটা বেশি ছিল। তখনকার সময়ে চটগ্রামে যারা নাটক লিখতো সেটাও নিজেদের মতো করে লিখতো। সুতারাং তারুণ্যর জোয়ার ছিল চট্টগ্রামের আলাদা বৈশিষ্ট্য। এখন সেরকম ভাবে মঞ্চ নাটকে তরুণরা তেমন দৃশ্যমান না। সবকিছু সহজ হয়ে গেছে। তুলনামূলকভাবে বলা চলে আধুনিক । তারপরও তরুণরা কেন পিছিয়ে যাচ্ছে সেটার সমাধান আমাদেরই খুঁজতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হায়দার বলেন, আমার কাছে জীবনের মানে হচ্ছে, পৃথিবীতে আসলাম এবং পৃথিবীতে কিছু একটা করতে হবে। যেটাতে আমার বিবেক, মন সায় দেয় কাজটা করা উচিত ততক্ষণ আমি আছি। যেটা প্রয়োজন সেটা আমি করবো এবং মানবিক থাকবো। যে মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি তার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু একটা করা উচিত।

এসএম

Advertisement