করোনা প্রতিরোধে খামখেয়ালি বন্দর-কাস্টম’স

198
 মোস্তফা কামাল |  বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১, ২০২১ |  ৭:৫৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রামসহ সারা দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে সরকার ১৮টি নিদের্শনা দিয়েছে। একই সাথে এসব নির্দেশনা মেনে চলার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা জনসমাগম সীমিত করার প্রস্তুতি নিলেও বন্দর ও কাস্টম’স হাউসে এর ছিঁটাফোটাও দেখা যাচ্ছে না ।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশ বিদেশ থেকে সমুদ্র পথে আসা যাওয়া করা নাবিক ও বিদেশিদের স্ক্যানিং কিংবা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলেও এখন মানা হচ্ছে না। বন্দর ইয়ার্ডেও শ্রমিক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঢিলেঢালা ভাব দৃশ্যমান। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ভিতরে ও বাইরে একই চিত্র। সকাল বেলায় কাস্টম হাউসে লোক সমাগম কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম ঘটে।

Advertisement

বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসক ফেরদৌস আরা সিটিজিনিউজকে বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ১৯ জন কর্মকর্তা—কর্মচারী মারা গেছেন। ৪ হাজার ৩২৬ জনকে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭৩২ জন।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন। এছাড়াও আক্রন্ত হয়েছেন বিভিন্ন স্তরের ৩০ জন কর্মকর্তা—কর্মচারী ।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস’র কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা আমদানি—রপ্তানি পণ্য খালাসের জন্য বন্দরে আসেন। প্রতিদিন হাজার হাজার সেবাগ্রহণকারী কাস্টমস হাউস ও বন্দরে আসার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বন্দরের জেটি এলাকায় প্রতিদিন ট্রাক—কাভার্ড ভ্যানচালক ও সহকারী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেড ফরোওয়ার্ডিং এজেন্টসহ বিভিন্ন সেবাগ্রহণকারীরা ভীড় করেন। ফলে এসব জায়গায় সব সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। মূলত এসব কারণে এখানকার কর্মকর্তা—কর্মচারীদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তারা আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিলেও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে দিন—রাত কাজ করে যাচ্ছেন কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা—কর্মচারীরা। লকডাউনের কারণে আমদানি—রপ্তানি বন্ধ থাকলেও পূর্বে আমদানি হয়ে আসা গার্মেন্টস শিল্প ও অন্যান্য কারখানার কাঁচামাল এবং কেমিক্যাল, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, শিশু খাদ্যসহ জরুরি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক করোনার প্রকোপ উচ্চহারে চলতে থাকলেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ও বন্দরের কর্মকর্তা—কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম সিটিজিনিউজকে বলেন, ‘ কোভিড—১৯ এর প্রার্দুভাব উচ্চ হারে বাড়তে থাকলেও সব ধরনের আমদানি—রপ্তানি পণ্য খালাসে ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে। প্রতিদিন প্রচুর সেবাগ্রহীতা সেবা নিতে আসার কারণে সবসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় কাস্টম হাউসে কোন শিফট ছিল না। এখন সারা দেশে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বাড়তে থাকায় আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিব। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব নির্দেশনা মেনে করোনা মোকাবেলা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ভীড় কমাতে কর্মকর্তাদের দুই শিফটে কাজ করার পরিকল্পনা আছে। করোনা উপসর্গ দেখার সাথে সাথে সন্দেহজনক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ও শিফটে দায়িত্বরতদের ছুটি ও হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক সিটিজিনিউজকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার হাজার ট্রাক—কাভার্ড ভ্যানে করে ছয়—থেকে আট হাজার চালক ও চালকের সহকারী বন্দরে প্রবেশ করে। তাছাড়াও চার—পাঁচ হাজার সিএন্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, বন্দরে নিয়োজিত শ্রমিক জেটিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এছাড়া আমাদের কর্মকর্তা—কর্মচারীও রয়েছেন। এতো বিশাল সংখ্যক মানুষের মধ্যে দূরত্ব নিশ্চিত করে কাজ করা মুশকিল।

এ বিষয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু সিটিজিনিউজকে বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সবাই দ্রম্নত কাজ শেষ করতে চায়। এতো ছোট একটি এলাকাতে এতো বেশি সংখ্যক লোক আসার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ’র সাথে আলোচনা করা হবে কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় কাজ করা যায়। কিন্তু কাস্টমস হাউস জরুরি সেবা সংস্থা হওয়ায় আসন্ন রমজান উপলক্ষ্যে তুলনামূলক কাজ কয়েক গুণ বেশি থাকে। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে এই সংকটের মধ্যেও অর্থনীতি চাকা সচল রাখা যায়। তবে সামাজিক দূরত্বও মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউআর/এসএম

Advertisement