আমার মনের আগুন ছাড়লে, গোটা বাংলাদেশে আগুন জ্বলবে : বাবুনগরী (ভিডিও)

322
 হাটহাজারী প্রতিনিধি |  শুক্রবার, এপ্রিল ২, ২০২১ |  ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

‘আমার মনের আগুন যদি আমি ছেড়ে দিই, তাহলে গোটা বাংলাদেশে আগুন জ্বলবে’-চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেছেন সংগঠনের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ২ এপ্রিল, শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে দুপুর ৩টায় আল্লামা শোয়াইব জমিরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

Advertisement

বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার মনের আগুন যদি ছেড়ে দিই, তাহলে গোটা বাংলাদেশে আগুন জ্বলবে। বিগত কয়েক বছর আগে হুজুরে আহমেদাবাদের মুসলমানদেরকে কচু আর গাজরের মত কেটেছে এই কসাই মোদি। তার হাত কাশ্মীরের মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত। কসাই মোদি আল্লাহর ঘর মসজিদ, বাবরি মসজিদকে ধ্বংস করে রাম মন্দির নির্মাণ করছে। রাম মন্দির নির্মাণ করার জন্য সে আর জায়গা পায় নাই।

তিনি আরও বলেন, জুমার খুতবায় বাংলাদেশের জন্য আমরা দোয়া করি। আমরা স্বাধীনতার বিরোধী নই। আমরা দেশবিরোধী নই। আমরা সরকারবিরোধী নই। যারা মুসলমানদের শত্রু, আল্লাহ রাসুলের শত্রু, আল্লাহর দুশমন যারা, যারা কোরআনে হাফেজকে বিনা উস্কানিতে, নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে হত্যা করেছে ওরাই নাস্তিক। ওরাই সন্ত্রাসী। ওদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।

আল্লামা বাবুনগরী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। স্বাধীন রাষ্ট্রে দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করা, মিছিল-মিটিং করার একশত পার্সেন্ট স্বাধীনতা আমাদের কাছে আছে। মোদির আগমনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রদের উপর গুলি করার অধিকার কোনো প্রশাসনের নাই। কোনো ওসি যদি এগুলির অর্ডার দিয়ে থাকে, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। সেই ওসি এখানে থাকতে পারে না। কি দোষ করলাম আমরা, আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা কি দোষ করল? কি অপরাধ তাদের? থানায় যারা ইট-পাটকেল মেরেছে তারা যে আমার ছাত্র তার প্রমাণ কি? সেখানে তো আরো অনেক লোক ছিল। রাস্তায় এসে ছাত্রদেরকে পুলিশ কেনো গুলি করলো? এগুলো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এগুলোর দাঁতভাঙ্গা নয়, মাড়ি ভাঙ্গা জবাব দিব ইনশাআল্লাহ। যাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে তাদেরকে বিনা শর্তে মুক্তি দিতে হবে। যারা শহীদ হয়েছে, যাহারা আহত হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এতে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী পৌরসভা শাখার সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মেহেদীসহ সভাপতি মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, হাটহাজারী উপজেলা সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ, পৌর সাধারন সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, হেফাজত আমীরের ব্যক্তিগত সহকারী ও হাটহাজারী উপজেলা শাখার সহ প্রচার সম্পাদক, মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী, মাওলানা সোহাইল চৌধুরী, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা হাবিব উল্লাহ হাবিব প্রমুখ।

এসময় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম এর যৌথ সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় সহ-অর্থ সম্পাদক জনাব আহসান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মাওলানা জুনাইদ বিন ইয়াহইয়া।

এর আগে হেফাজতের সমাবেশকে ঘিরে হাটহাজারীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রশিদ উল হকের নেতৃত্বে কাচারি সড়কের মুখে ২০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে হাটহাজারী খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। অপরদিকে মাদ্রাসার সামনে ছাত্ররা বাঁশ দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে।

কেএন

Advertisement