বন্দরে জাহাজ জটে ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা!

261
 মোস্তফা কামাল |  শুক্রবার, এপ্রিল ২, ২০২১ |  ৮:১৬ অপরাহ্ণ
ফাইল ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর থেকে আসা পোশাক শিল্পের কাচাঁমাল ও উন্নয়ন প্রকল্পের সরঞ্জাম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোর্ঙরে অবস্থান করছে ১৭ এর অধিক মাদার ভ্যাসেল। গত চার কর্ম দিবসে অলস পড়ে আছে পণ্যবাহী আরও ৩২০টি জাহাজ। নোঙর করা জাহাজের পণ্য খালাসের ধীর গতির কারণে জট বাড়ছে বন্দরে। এতে প্রতিদিন একটি জাহাজের জন্য ১১ থেকে ১২ হাজার  ডলারের বেশি অর্থ বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এদিকে বন্দরের নিজস্ব জেটি দিয়ে এই জট নিরসন সম্ভব না হওয়ায় বেসরকারি খাতের বিশেষায়িত জেটি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিদেশ থেকে পুরানো জাহাজ ভাঙ্গা ও স্ক্র্যাপসহ পোশাক শিল্পের কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে কয়েক গুণ। বর্তমানে বন্দরে অলস বসে আছে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসা প্রায় ৩২০টি ভ্যাসেল (জাহাজ)। ১লা এপ্রিলে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের সংখ্যা ছিলো মোট ১০৯টি জাহাজ। আর ৩১ মার্চ ছিল ১০৫টি জাহাজ, ২৮ মার্চ বন্দরের বহিনোর্ঙরে অবস্থান করেছিলো ১০৬টি জাহাজ এবং ২৫ মার্চ ১২৭টি ভ্যাসেল যা বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবোর্চ্চ।

Advertisement

বন্দর সূত্রে আরও জানা যায়, ৪৯ হাজার টিইউএস ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন চট্টগ্রাম বন্দরে মার্চ পর্যন্ত রয়েছে ৩১ হাজার টিইউএস কন্টেইনার। অথচ কন্টেইনারবাহী লরি, ট্রাক চলাচলসহ স্বাভাবিক মুভমেন্টের জন্য ইয়ার্ড ও জেটিতে অন্তত ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়।

পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান ‘কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের’ জেটিতে গত ৩০ মার্চ মঙ্গলবারে প্রথমবারের মতো পণ্যবাহী ‘এমভি দিনা ওশেন’ নামের জাহাজ ভেড়ানো হয় । প্রায় ১৫৪ মিটার লম্বা জাহাজটি জাপান থেকে ১৫ হাজার ২২১ টন পুরানো লোহা নিয়ে আসে। আমদানি পণ্যবাহী জাহাজের জট কমাতে বেসরকারি জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর যে উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েছে, এটি তারই প্রথম পদক্ষেপ।

কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রশিদ সিটিজিনিউজকে বলেন, নির্মাণাধীন জেটিটিও এ মাসে প্রস্তুত হবে। তখন একসঙ্গে দুটো জাহাজ ভেড়ানো যাবে। তাতে দুই জেটিতে মাসে ১০—১২টি জাহাজ ভেড়ানো যাবে। আগামী মাসেই এই জেটিতে ১৭০ মিটার লম্বা জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়তে থাকায় কয়েক মাস ধরে জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ পণ্যবাহী কোনো কোনো জাহাজ কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষার পর জেটি বরাদ্দ না পাওয়ার নজির তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে সরকারি—বেসরকারি সংস্থার সব জেটি ব্যবহারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ । এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে এই জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো হলো।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক সিটিজিনিউজকে বলেন, পণ্য আমদানির চাপ বাড়ায় মাদার ভ্যাসেল যাতে বহিনোর্ঙরে অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্যই এই উদ্যোগ। জাহাজ অলস বসে না থাকলে ক্ষতিপূরণ বাবদ বৈদেশিক মুদ্রাও ব্যয় করতে হবে না। দেশের টাকা দেশেই থাকবে। এ জন্য বন্দরের নিজস্ব জেটির বাইরে কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটির মতো সরকারি—বেসরকারি সংস্থার সব বিশেষায়িত জেটি ব্যবহারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন ,জটের কারণে কয়েক বছর ধরে অনিয়মিতভাবে নৌবাহিনী পরিচালিত জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডকের জেটি ব্যবহার করে আসছে বন্দর। এ ছাড়া আমদানিকারকের চাহিদা অনুযায়ী বিচ্ছিন্নভাবে মাঝেমধ্যে আরও কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিশেষায়িত জেটি ব্যবহার হতো। তবে বেসরকারি জেটি ব্যবহারের উদ্যোগ এবারই প্রথম।

ওমর ফারুক বলেন, কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর বিশেষায়িত জেটি রয়েছে ২২টি। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বড় ২টি জেটি এবং বন্দরসহ পাঁচটি সরকারি সংস্থার অধীনে ২০টি জেটি রয়েছে। এছাড়াও নদীর দক্ষিণ পাড়ে সিইউএফএল, কাফকো ও ইয়ংওয়ানসহ অন্যান্য আর শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ৬ থেকে ৭টি জেটি রয়েছে। নতুন দুটি বাদে গত বছর আটটি জেটির ব্যবহারের হার ছিল গড়ে ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে বন্দরের সাধারণ পণ্য ওঠানো—নামানোর নিজস্ব ছয়টি জেটি গত বছর ব্যবহারের হার ছিল সাড়ে ৯৬ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পুরানো লোহা বহনকারী প্রতিটি জাহাজ গড়ে ১৫ দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়ানো হয়েছে। মাঝারি আকারের এসব জাহাজের ভাড়া এখন দিনে ১১ থেকে ১২ হাজার ডলার। তাতে একেকটি জাহাজের ক্ষতিপূরণ বাবদ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

এসএম

Advertisement