সরকারি ফি ১৮৫০ হলেও ঢাকার ক্যানবেরা মডেল স্কুল নেয় ৮৫০০!

কোচিং ও ফরম পূরণে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ক্যানবেরা স্কুল কর্তৃপক্ষ!

381
 জালালউদ্দিন সাগর |  সোমবার, এপ্রিল ৫, ২০২১ |  ৬:১১ অপরাহ্ণ

সরকার নির্ধারিত এসএসসি পরীক্ষার ফি বিভাগ ভেদে ১৯৫০ ও ১৮৫০ টাকা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছে ৮হাজার ৫শ টাকা। শুধু তাই নয় যেখানে স্কুলের মাসিক বেতন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা সেখানে করোনাকালীন সময়েও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিংয়ের নামে প্রতিমাসে অতিরিক্ত আরও ২ হাজার টাকা বেশি দিতে বাধ্য করছে ছাত্র-ছাত্রীদের। কোচিং বাণিজ্য ও ফরম পূরণে প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার ভাটেরা থানা এলাকার কুড়িলে অবস্থিত ক্যানবেরা মডেল স্কুলের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এদিকে গত বছর ২০২০ সাল থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সাথে এমন অনৈতিক আচরণ করলেও বহিষ্কার ও পরীক্ষা দিতে না পারার ভয়ে মুখ বুঝে সব সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও সংরক্ষিত আছে এই প্রতিবেদকের কাছে।

অভিযোগ রয়েছে, করোনা শুরু হওয়ার পরও গত বছর অক্টোবর থেকে নিয়মিতভাবে কোচিং করানো হচ্ছে সে স্কুলে। প্রথম দিকে দুপুরে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কোচিং ক্লাস করানো হলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে সকাল ৯টা থেকে ১২টা। কোচিং ক্লাসের নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত বেতন ৮শ টাকার বাইরে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে আরও ২হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গত বছর শেষ তিন মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আদায় করেছে প্রায় চার লক্ষ টাকা। এছাড়া চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ কোচিং ও পরীক্ষা ফি বাবদ আদায় করা হয়েছে এক লক্ষ টাকারও বেশি। করোনা মহামারির সময়েও কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আলী।

সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার ফি নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানালে দেড় হাজার টাকা মওকুফ করে প্রতি শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা দিতে নির্দেশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। গতকাল ৩ এপ্রিল, রোববার কোনো রশিদ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করে কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে সৌরভ নামে এক শিক্ষার্থী ভাটেরা থানায় অভিযোগ করলে গত ২ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে ক্যানবেরা স্কুলে যায় ভাটেরা থানা পুলিশ।

তবে এই ধরণের কোনো অভিযোগ পাননি বলে এই প্রতিবেদককে জানান ভাটেরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, পরীক্ষার ফি বেশি নেওয়া হচ্ছে কিংবা কোচিংয়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে কেউ আসেনি। এছাড়া ভাটেরা থানার পুলিশও ক্যানবেরা স্কুলে যায়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আলী মুঠোফোনে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বাহিরে কোনো অর্থ নিচ্ছি না। করোনাকালীন কোচিং এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা আদায়ের কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

তবে ক্যানবেরা স্কুলের শিক্ষক রাহুল চৌধুরী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সপ্তম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিংয়ের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই সাথে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৭হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল আলী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কারও অভিযোগ পাত্তা দেন না। এছাড়া থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। পুলিশকেও ম্যানেজ করে ফেলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আমির হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, সরকার নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সাথে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকার পরও স্কুলে কোচিং করানো এবং কোচিংয়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বে-আইনী।

এসএম

Advertisement