দ্বিতীয় ধাপে ৫০ বেডের প্রথম আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন

71
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, এপ্রিল ৬, ২০২১ |  ৩:৪১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে করোনা সংক্রমিতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে ৫০ বেডের আইসোলেশন সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সাড়ে ১২ টায় লালদিঘী পাড় এলাকায় অবস্থিত চসিকের পাবলিক লাইব্রেরিতে আইসোলেশন সেন্টারটি উদ্বোধন করেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক লাইব্রেরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় গড়ে তোলা আইসোলেশন সেন্টারটিতে নিয়োজিত থাকবেন ১৩ চিকিৎসকসহ মোট ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী। আইসোলেশন সেন্টারের ৫০ বেডের মধ্যে ৩৫টি পুরুষ এবং ১৫টিতে নারীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র রেজাউল করিম বলেন, করোনা মহামারিতে আমরা দেশের পুলিশ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিক্ষক সহ অনেক বরেণ্যে ব্যক্তিদের হারিয়েছি। কিন্ত উন্নত বিশ্বে যারা পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী ও শক্তি নিয়ে অহংকার করতো তারা এই করোনার কাছে হার মেনেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক পদক্ষেপের কারনে আমরা সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে পেরেছিলাম। কিন্ত দ্বিতীয় ধাপে করোনার সংক্রমণ আবার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। তাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই আইসোলেশনটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে রোগীদের বিনামূল্যে সকল ধরনের সেবা দেয়া হবে।

কাট্টলী ইপিডিআই জোনের জোনাল মেডিক্যাল অফিসার ও আইসোলেশন সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর ডা. সুমন তালুকদার বলেন, যেসব রোগীদের করোনা পজেটিভ আসছে এবং যাদের বাসায় থাকতে সমস্যা হচ্ছে তাদের এই আইশোলেশন সেন্টারে রাখা হবে। এখানে রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধ, অক্সিজেন ও খাবারসহ সকল সেবা দেয়া হবে। আমরা দু’জন সমন্বয়ক ছাড়াও এখানে ১৩ জন ডাক্তার শিফট অনুসারে সেবা দিবে। এছাড়াও আটজন ফার্মাসিস্ট, চারজন প্যারামেডিক, তিনজন ওয়ার্ড মাস্টার, ছয়জন ওয়ার্ডবয়, একজন স্টোরকিপার ও একজন অফিস সহায়ক থাকবে। রোগী পরিবহন ও স্থানান্তরের জন্য সার্বক্ষনিক একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুসারে আরও বেড বাড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা এখানে আছে । সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়লে আরও বেড বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে চসিকের। রোগী পরিবহন ও স্থানান্তরের জন্য থাকবে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও। আক্রান্ত রোগীর অবস্থা জটিলতর হলে তা সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে বিশেষ পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। থাকবে টেলি মেডিসিন সেবার ব্যবস্থা।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, চসিকের আরবান হেলথ প্রকল্প পিএ-১ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. মো. মুজিবুল আলম চৌধুরীকে কো-অর্ডিনেটর ও কাট্টলী ইপিডিআই জোনের জোনাল মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন তালুকদারকে সহকারী কো-অর্ডিনেটর করে ১১ চিকিৎসককে আইসোলেশন সেন্টারের মেডিক্যাল অফিসার পদে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পদে রয়েছেন আটজন ফার্মাসিস্ট, চারজন প্যারামেডিক, তিনজন ওয়ার্ড মাস্টার, ছয়জন ওয়ার্ডবয়, একজন স্টোরকিপার ও একজন অফিস সহায়ক।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন, গিয়াস উদ্দিন , ১৪ নং লালখান বাজার ওয়াডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এসআর/ইউআর

Advertisement