সুজনের হাত ধরে বছরে চসিকে যুক্ত হবে বন্দরের ১%

৩০ বছরে যা পারেন নি কেউ, তাই করে দেখালেন সুজন

1299
 জালালউদ্দিন সাগর |  মঙ্গলবার, এপ্রিল ৬, ২০২১ |  ৬:৩০ অপরাহ্ণ

গত ৩০ বছরের মধ্যে ২৬ বছর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় চসিক চললেও বন্দরের ঘাটে তরী ভেড়াতে পারেন নি কোনো নেতা। আদায় করতে পারেনি চসিকের প্রাপ্ত সুবিধাও। অথচ সেই বন্দরের বার্ষিক আয় থেকে ১ শতাংশ আদায়ের প্রস্তাব দিয়ে সে প্রস্তাবের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনও করিয়ে আনলেন চসিকের ৬ মাসের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। চলতি অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দরের আয় অনুযায়ী এ বছর চসিকের সম্ভাব্য প্রাপ্য পরিমাণ হতে পারে ২০ কোটি টাকা।

১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়াদে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছন চারজন। এর মধ্যে ১৭ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, চট্টলবীর এ,বি,এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বন্দরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সব চেয়ে সরবও ছিলেন তিনি। মোহাম্মদ মনজুর আলম বিএনপি থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগের সাথেই তার যোগাযোগ ছিল বেশি। চসিকও চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের ইশারায়। কথিত আছে, প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে আলাপ করা ছাড়া চসিকের কোনো কাজে হাত দিতেন না তিনি। ২০১৫ সালের ৭ মে চসিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। তিনিও ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। তবে মাত্র ছয় মাসের চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে অসাধ্য সাধন করলেন সুজন। যা এতদিন ধরে কেউ করে দেখাতে পারেনি তাই করে দেখালেন তিনি।

Advertisement

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হয়েছিল ২ হাজার ৪০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৬৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৮৯২ কোটি ৯৯ লাখ, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হয়েছিল ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দরের আয় হয় ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

চসিক থেকে পাওয়া তথ্য, বন্দরের কাছ থেকে প্রতি বছর চসিক প্রায় ১শ ৯০ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স পাওনা হলেও তার পুরোটা কখনোই পরিশোধ করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। সবশেষ গত বছর ৩৭ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে বন্দর।

গতকাল ৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২১ এর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন এ আইনে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে চসিককে। চলতি বছরের হিসাব অনুযায়ী যার পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এর আগে চসিকের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে সোচ্চার থাকলেও ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আদায়ে সোচ্চার ছিলেন বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

গত বছর প্রশাসক হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রথম মাসেই তিনি ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আদায়ের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ নৌ-মন্ত্রীর কাছে। আবেদন করেই বসে থাকেন নি খোরশেদ আলম সুজন। মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জোর দাবিও জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগ করে তা অনুমোদনের উদ্যোগও নেন সুজন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দর। চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থান ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস যে উপার্জন করছে তাতে এই শহরের বাসিন্দাদের সাথে সাথে সিটি কর্পোরেশনেরও হক আছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার তথা ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে শহরের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছুদিন পর পর যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়। আর তা মেরামত করতে হয় সিটি করপোরেশনকে। তাই এ শহরকে গতিশীল করতে চাইলে বন্দরকে ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জের দাবি উপস্থাপন করি আমি। তার প্রেক্ষিতেই বন্দর থেকে ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রস্তাবনা অনুমোদন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

এসএম

Advertisement