কোনো নির্দেশনা ছাড়াই বন্ধ জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর

155
 কেএন সানজিদা |  বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০২১ |  ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

করোনা চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে। ফলে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ১৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন, ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। হাসপাতালের বাইরে থেকেই চিকিৎসার জন্য ফিরে যেতে হচ্ছে অন্য কোনো হাসপাতালে। কোনো প্রকার সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বহির্বিভাগে আগত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ ৭ এপ্রিল, বুধবার দুপর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রবেশমুখে থাকা টিকেট কাউন্টার ও ফার্মেসি দুটোই ফাঁকা। এছাড়া নিচতলায় বহির্বিভাগের তিনটি মেডিকেল কর্মকর্তার কক্ষ থাকলেও একটি ছাড়া বাকি সব কক্ষই বন্ধ। একই চিত্র বহির্বিভাগের দোতলায়ও। এই অংশে বন্ধ শিশু বিভাগও।

Advertisement

৭ বছরের ছেলে সায়েমকে নিয়ে এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা শিরীন আকতার এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, দুই দিন লকডাউন থাকার পর আজ গণপরিবহন চালু হওয়ায় বাচ্চাকে নিয়ে সেই মেহেদীবাগ থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এসে শুনি, শিশু বিভাগ বন্ধ। তারা তো কোনোরকম ঘোষণা দেয়নি। সরকারি কোনো ঘোষণাও শুনিনি। হঠাৎ কেন আউটডোর বন্ধ, বুঝলাম না।

তবে চালু রয়েছে ভবনের দোতলায় করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও তিন তলায় ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম। মূলত হাসপাতালের একই অংশে নমুনা পরীক্ষা ও ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষের ভিড়ের কারণে কতৃর্পক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (আরএমও) ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, লকডাউনের প্রথম (৫ এপ্রিল) দিনটি থেকেই বহির্বিভাগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের একই ভবনে যেহেতু বহির্বিভাগে সাধারণ রোগীরা ডাক্তার দেখাতে আসেন, আবার করোনা টেস্ট করতে আসা লোকজনও একই পথ দিয়ে হাসপাতালের দুই ও তিনতলায় আসা-যাওয়া করছেন, তাই দুটো বিভাগ আলাদা না করা পর্যন্ত আপাতত আমরা বহির্বিভাগে রোগী দেখা বন্ধ রেখেছি।

তিনি বলেন, প্রথমদিকে ৬০ থেকে ৮০ জন নমুনা পরীক্ষার জন্য এলেও দিনে দিনে এ সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল ১৬৯ জন জেনারেল হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেন। আগামী মাস থেকে ২৫০ জনের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া শনাক্তের হারও বাড়ছে। আজ ১৩৯ জন নমুনা পরীক্ষা দিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৩৩জন। এরমধ্যে হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ, যোগ করেন তিনি।

তবে সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় সাধারণ রোগীদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আবাসিক সার্জন বলেন, আসলে বিষয়টি সাধারণ রোগীদের জানানোর কোনো উপায়ও নেই। তাই তাদেরকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আগ পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৮০০ জন সাধারণ রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। সংক্রমণের পর তা নেমে আসে ৮০০ থেকে এক হাজারে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্হিবিভাগ পুনরায় চালু করা হবে বলে জানান আরএমও ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুইদিন পরও বিভাগটি চালু হতে পারে, আবার ৫দিন পরও। তবে আপাতত বহির্বিভাগে কোনো রোগী দেখা হবে না।

কেএন/জেইউ

Advertisement