‘তৃণমূল থেকে নগর পিতা’

0 131

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

হাকিম মোল্লা: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, চট্টলবীর ও চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলেও চট্টগ্রাম এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে বেঁচে থাকবেন হাজার বছর। কারণ তিনি তৃণমূল থেকে নগর পিতা হয়ে জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও মাতিয়ে গেছেন দেশ এবং মাতৃকার মানুষকে। সজ্জন, সদালাপী ব্যক্তি মহিউদ্দিন ছিলেন সব দলমতের মানুষের কাছে সমান প্রিয়। আর চট্টগ্রামের মানুষের কাছে ছিলেন আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক।

তিনি  ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকালে নগরীর কোতোয়ালী থানার ফিশারীঘাটস্থ ময়দানে সদ্য প্রয়াত বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণে আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং স্থানীয় এলাকাবাসী এ শোক সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মৎস্যজীবী নেতা হাজী আব্দুর সত্তার।

মোহাম্মদ মহসীনের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সোনালি যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আহবায়ক মো.শামসুল আলম, সচিব জানে আলম, মৎস্যজীবি স্বরুপ বিকাশ বিধান বড়ুয়া, মো. সালাউদ্দিন, ইব্রাহিম ভদ,দিদারুল আলম, জাহাঙ্গির আলম, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে সালেহীন চৌধুরীসহ নগর আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

নগরীর ফিশারীঘাট মাছ বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে মহিউদ্দিন পুত্র ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী সভায় বক্তারা বলেন, জনসেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। সরকারি অনেক জায়গায় ব্যবসা চলছে, সব জায়গা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র একটি দরিদ্র গোষ্ঠিকে উচ্ছেদ করার উদ্দ্যেশে উঠে পড়ে লেগেছে ম্যাজিস্ট্রেট। এতিমখানায় মাছ বিতরণের নামে জেলে সম্প্রদায়ের মাছ ছিনতাই করছে। বিচারাধীন বাজারের সাধারণ মাছ ব্যবসায়িদের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

তিনি বলেন, খেতে চাইলে নাম ঠিকানা দিয়ে যাবেন, প্রতিষ্ঠানে বাসস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে,তবুও আইনের দোহাই দিয়ে উচ্ছেদের নামে দরিদ্র মৎস্যজীবি, সাধারণ জনগণের পেটে লাথি মারবেন না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সকল শ্রেণী পেশার জনসাধারণের অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছে আমার প্রয়াত পিতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার আদর্শ বুকে ধারণ করে চট্টলা বাসীর অধিকার আদায়ে আমিও লড়ে যাবো। বাবার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের যোদ্ধা এবং সংগঠক। মাটি ও মানুষের ভাষা রপ্ত করা, রসবোধ আর প্রখর মানবিক মূল্যবোধ, তেজ ও নাটকীয়তায় ভরা বক্তব্য বৈঠক ও জনসভায় সবখানের মানুষ মুগ্ধ হতেন।

তাঁরা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন আজীবন রাজনীতির মাঠে আলো ছড়ানো তারকা। মাটি আর মানুষের কাছে থেকে রাজনীতি করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং আস্থার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্ণিল রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় উঠেছিলেন রাজনীতির বরপুত্র এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিংহ পুরুষ। নিজস্ব ভাষা, ভঙ্গি আর স্বভাবসুলভ উচ্চারণে তিনি ছিলেন অন্য দশ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চেয়ে আলাদা।

শোক সভার শুরুতে প্রয়াত চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করে অতিথি ও উপস্থিত সকলে।

সিটিজিনিউজ/এইচএম 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.