খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের সঙ্গে মিলছে পাথর!

0 15

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের সঙ্গে মিলছে পাথর।  আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনে মাথায় হাত দিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। ‘তুর্কি পেঁয়াজ’ হিসেবে পরিচিত সোনালি রঙের পেঁয়াজের বস্তায় তারা পাচ্ছেন পাথর। ১০০ কেজি পেঁয়াজের মধ্যে এক মণের মতো পাথর পেয়েছেন চকবাজারের রুহুল আমিন (২৭)।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে খাতুনগঞ্জের মেসার্স খাজা ট্রেডার্স থেকে পাকা রশিদ মূলে পেঁয়াজ কেনার পর তিনি প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। রিকশাভ্যানে তিন বছর ধরে সবজির সঙ্গে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছেন তিনি।

তিনি বলেন, খাজা ট্রেডার্সে তুর্কি পেঁয়াজের পাইকারি দর বলা হয় ৩৮ টাকা। এরপর দরকষাকষি করি। শেষপর্যন্ত ৩৫ টাকায় দফারফা করি। তিন বস্তা পেঁয়াজ কিনি। কেজিপ্রতি ৩০ পয়সা করে আড়তদারি ও ৩০ পয়সা করে মাঝির (শ্রমিক) টাকা দিই। রিকশায় পেঁয়াজের বস্তা তুললাম। সেখানে পাথর দেখা যায়। আমার সঙ্গে ভাই ছিল সে এতগুলো পাথর বের করল সওদাগরের সামনে। সওদাগরকে বললাম আমি গরিব মানুষ, এগুলো নিয়ে বাঁচব? তিনি বলেন, আরেকদিন এসো। ম্যানেজ করে দেব। এখন নিয়ে যাও।

‘এখানে এসে প্রথম বস্তা পেঁয়াজ খোলার পর দেখি পেঁয়াজের চেয়ে পাথরের ওজন বেশি। বাকি দুটি বস্তারও একই অবস্থা। রিকশা নিয়ে আবার গেলাম আড়তে। আড়তদার বললেন, তোমার স্লিপ দাও। আমি দিলাম। উনি ২৫০ টাকা ফেরত দিলেন। তুমি কোনো ঝামেলা কোরো না। তুমি বহুত ঝামেলা করে ফেলেছো। আমি গরির মানুষ, আর কিছু করার নেই। এখানে এনে ঢালি শুধু পাথর আর পাথর বের হয়। একটি পাথর ২০০ গ্রাম ওজন।’ কণ্ঠ ভিজে আসে রুহুল আমিনের।

শুধু রুহুল আমিন নন, তার কিছুটা উত্তরে আরেকটি রিকশাভ্যানে পেঁয়াজ-রসুন-আদা বিক্রি করছেন আশি বছরের রমিজ উদ্দিন। তার কণ্ঠেও ক্ষোভ। বললেন, ‘আমি এক বস্তায় আড়াই কেজি পাথর পেয়েছি। রীতিমতো জুলুম হচ্ছে আমাদের ওপর।’

খাজা ট্রেডার্সেরমালিক পরিচয় দিয়ে আবদুল মান্নান  বলেন, গত তিন দিন ধরে তুর্কি পেঁয়াজে পাথর পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা সরবরাহকারীকে জানিয়েছি। তিনি আমদানিকারককে জানিয়েছেন। যারা পেঁয়াজ ফেরত আনছেন সেগুলো আমরা নিয়ে নিচ্ছি।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের খুলশীর একজন আমদানিকারক তুর্কি পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাজারে দেশি পেঁয়াজ নেই। ভারতের নাসিক পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে ৪৫ টাকা। তুর্কি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা। দাম কম হওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা এটি বেশি কিনছেন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.