নারী অধিকার ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জিনাত সোহানার অবদান অনস্বীকার্য

315
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১ |  ৪:৩১ অপরাহ্ণ

 

জিনাত সোহানা চৌধুরী পেশায় আইনজীবী । দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে জঙ্গিবাদ নির্মূলে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতিতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রাখছেন। বিশেষত নারী অধিকার রক্ষায় তার অবদান অনস্বীকার্য। নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণে, নারী সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এখনও নিরন্তর কাজ করছেন তিনি।

Advertisement

তিনি সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমন্বয়ক। নির্যাতিত নারীদের অধিকার আদায়ের প্রতিবাদ জানানোর মধ্যে তার কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি । কাজ করেছেন চট্টগ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম জাগানোর মহান ব্রত নিয়ে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতীয় সংগীত প্রচলনের এমনই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জকে সফল ভাবে সম্পন্ন করেছেন জিনাত সোহানা চৌধুরী। বাঙালি- বাঙালির জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের ইতিহাস একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দিকদর্শন-এসব কিছু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছানো যতটা সহজ কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছে দেয়া ততটাই কঠিন ।

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ এমন সুরে মেতে উঠেছেন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও। শপথ বাক্য পড়িয়েছেন জঙ্গিবাদে না জড়ানোর। চট্টগ্রামের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -যেখানে কখনো ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারিত হয়নি, জাতীয় সঙ্গীত যেখানে অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ, ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে শিক্ষা নেওয়া যারা মেনে নিতে পারেন না, সেই সব কওমি মাদ্রাসায় জয় বাংলা ও মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ফেরি করে বেড়িয়েছেন দুঃসাহসী এই নারী। শুধু কওমি মাদরাসা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাদরাসায়ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গল্পগাঁথা নিয়ে নিয়মিত হাজির হতেন তিনি।

মাদ্রাসাগুলোতে এমন ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে সেক্যুলার ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সম্পর্ক বৈরী এবং এদের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ খুব অল্প।   সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করার মতো সুযোগ রয়েছে- এই সত্য প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে গড়ে উঠা মাদ্রাসাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন জিনাত। বিভিন্ন কর্মসুচী ক্যাম্পেইনে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আদর্শিক দ্বন্দ্বের একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্নদ্বারদের  বুঝিয়েছেন মুসলিম সমাজগুলোতে জ্ঞান, কর্তৃত্ব এবং ইসলামের অর্থ নির্ধারণে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ক্রিয়াশীল আছে। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা সেই দ্বন্দ্বের একটি উপাদান। এসব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমী নাগরিক হিসেবে গড়া তোলার প্রথম ধাপ জাতীয় সংগীত চর্চা এবং এর মর্মকথা হৃদয়ে ধারন।

জানতে চাইলে জিনাত সোহানা বলেন, আমি সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সংগঠকদের সাথে নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারনা করছি চট্টগ্রামের মাদ্রাসাগুলোতে। এর পাশাপাশি  ইসলামে দেশপ্রেমের স্থান, গুরুত্ব কোথায়, পড়ুয়াদের শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছি ।  এজন্য মাদ্রাসা বোর্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট দের সাথে নিয়ে চেষ্টা করছি একটি সিলেবাসও তৈরির করতে। যাতে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে, তারা যে ধর্ম অনুসরণ করে অর্থাৎ ইসলাম, তাতে দেশপ্রেমকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, দেশকে যারা ভালবাসে, তাদের কতটা মহান করে দেখানো হয়, দেশের প্রতি আনুগত্যকে কতটা বিরাট মূল্য দেওয়া হয়।

করোনার প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি না নেওয়ার ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। তখন চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা রোগী তো দূরের কথা, সাধারণ শ্বাসকষ্টের রোগীকেও দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতো। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে পথেই মারা পড়তো অনেক রোগী। চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থার এই যখন করুণ অবস্থা— তখন নারী হিসেবে পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে এগিয়ে আসলেন জিনাত।

স্বপ্নবাজ এ তরুণী  এ দেশকে এগিয়ে নিতে চান, শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেমের দীক্ষা দিয়ে। তাই তো একজন উচ্চ শিক্ষিত নারী হয়েও  বিদেশে গিয়ে সুখে থাকার বদলে দেশকেই বেছে নিয়েছেন কাজের ক্ষেত্র হিসেবে। আইন পেশার ব্যস্ততা মাড়িয়ে  দেশকে নতুন কিছু দিতে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান তিনি।

জেইউএস/ইউআর

 

Advertisement