চায়না কোম্পানির ‘বড়কর্তা’ সেজে গাড়ির পার্টস চুরি!

110
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, এপ্রিল ৬, ২০২১ |  ৪:১২ অপরাহ্ণ

চায়না কোম্পানির বড়কর্তা তারা। প্রয়োজনে কথাও বলেন চায়না ভাষায়। সেই বড় কর্তাদের ভাবসাব, ভাষা আর প্রলোভন বুঝতে না পেরে দিনের পর দিন ঠকছেন মানুষ। চায়না কোম্পানির একটি প্রজেক্টের জন্য মাসিক ভাড়ায় প্রায় ৪শ মাইক্রোবাস ও কার নেওয়া হবে-এমন প্রলোভন দেখিয়ে সুযোগ বুঝে গাড়ির পার্টস হাতানো একটি চক্রকে গ্রেফতার করার পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে নগরীর ডবলমুরিং থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ডবলমুরিং থানা এলাকার আলী মোটর্স ওয়ার্কসের স্বত্ত্বাধিকারী মো. জয়নাল আবেদীন পারভেজ (৪০), কর্মচারী মো.জসিম। এসময় অভিযুক্তের গ্যারেজ থেকে ৪টি সাইলেন্স্যার বক্সের সেন্সর উদ্ধার করে পুলিশ।

Advertisement

আজ ৬ এপ্রিল, মঙ্গলবার সকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ।

এর আগে গতকাল ৫ এপ্রিল, সোমবার গাড়ির পার্ট চুরি চক্রের ৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন মোঃ নুর নবী নামে এক মাইক্রোবাস চালক। অভিযুক্তরা হলেন, মোঃ জসীম (৩৮), মোঃ জহির(২১), সাহাব উদ্দিন (৩৮), মোঃ জয়নাল আবেদীন পারভেজ (৪০), প্রসাদ (৩০) ও রকি (৪৮)।

এজাহারে বাদী মোঃ নুর নবী  জানান, গত ৪ এপ্রিল রোববার আমি চালিত মাইক্রোটি ভাড়া নেয় জসিম। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কাঠগড় থেকে গাড়িতে ওঠে জসিম। গাড়িতে থাকা অবস্থায় কথোপোকথনে তিনি আমাকে জানান, একটি চাইনিজ কোম্পানির জন্য ৪শ গাড়ি লাগবে। এর মধ্যে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি মাইক্রো (হাইস) লাগবে।

তিনি আরও জানান, কথা বলার এক পর্যায়ে জসিম আমাকে তার মালিকানাধীন আলী মোটর্স ওয়ার্কশপে নিয়ে আসে এবং নাস্তা খাওয়ানোর কথা বলে দোকানে নিয়ে যায়। আমাকে নাস্তা করানো ফাঁকে গাড়ির সাইলেন্স্যার বক্সের সেন্সর (মাটি) খুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন নুর নবী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন সিটিজিনিউজকে বলেন, চায়না কোম্পানির একটি প্রজেক্টের জন্য মাসিক ভাড়ায় ৪শটি গাড়ি নেওয়া হবে-পরিচিতজনদের মাধ্যমে এমন তথ্য প্রচার করে গাড়ির মালিকদের প্রলোভন দেখায় চক্রটি। তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে গাড়ি দেখাতে আসলে গাড়ি ট্রায়াল ও আপ্যায়নের সুযোগে গাড়ি থেকে সাইলেন্স্যার বক্সের সেন্সর (মাটি) খুলে নিয়ে সেখানে নকল ও পুরাতন সেন্সর বসিয়ে দেয় এই চক্র। পরে সেগুলো বিক্রি করা হয় অন্য গাড়ির মালিকদের কাছে। প্রথম দিকে বিষয়টি বুঝতে না পরলেও গাড়িতে গ্যাস, ফুয়েল বেশি লাগা ও ইঞ্জিনের শব্দ বেড়ে যাওয়াসহ গাড়ির গতি কমে যাওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে পারেন গাড়ির চালকরা। ততক্ষণে চম্পট দেয় এই চক্র।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চায়না কোম্পানির ‘স্যার’ (বড় কর্মকর্তা) সেজে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার নামে গাড়ি থেকে পার্টস চুরি করে আসছিলো এই চক্রটি। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০টি গাড়ির পার্টস চুরি করেছে তারা। চুরিকৃত প্রতিটি পার্টস বিক্রি করা হয়েছে ১৫হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে।

জেইউএস/ইউআর

Advertisement