ইফতারের আগে ছুটি চাওয়ায় গুলিতে জীবন দিলেন এস আলম পাওয়ার’র ৫ শ্রমিক

587
 জালালউদ্দিন সাগর |  শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১ |  ৪:০৯ অপরাহ্ণ

মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন আর ইফতারের একঘন্টা আগে ছুটি চাওয়ায় কাল হলো শ্রমিকদের। আর সেই দাবি পূরণে নিজের বুকে গুলি খেয়ে জীবন দিতে হলো দানবীর সাইফুল আলম মাসুদের মালিকানাধীন এস আলম গ্রুপের কনসার্ন ফার্ম এসএস পাওয়ার প্লান্টের ৫ শ্রমিককে। এসময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হন আরও ২৫ শ্রমিক।

তবে স্থানীয়দের দাবি, হতাহতের ঘটনা আরও বেশি। ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষসহ সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ হওয়ায় হতাহত সম্পর্কে প্রকৃত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

Advertisement

শনিবার সকালে পবিত্র চতুর্থ রমজানে এমনি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বাঁশখালীর গন্ডামারায় এস আলম মালিকাধীন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল, শনিবার সকাল থেকে ১০ তারিখের মধ্যে মাসিক বেতন, ইফতারের এক ঘণ্টা আগে ছুটি, কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই না করাসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকজন শ্রমিক। এসময় শ্রমিকদের সাথে কথা বলার আশ্বাস দিয়ে তাদের কার্যালয়ের ভেতরের নিয়ে আটকে রাখেন কর্মকর্তারা। পরে তাদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে এলোপাতাড়ি গুলি করে পুলিশ। এসময় পুলিশের গুলিতে আহমদ রেজা, রনি হোসেন, শুভ, মো. রাহাত নামে ৪ শ্রমিক ঘটনাস্থলে মারা যান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রায়হান নামে আরও এক শ্রমিক। একই ঘটনায় আহত হযয়েছেন আরও ২৫ শ্রমিক। এছাড়াও ইয়াসির, আঃ কবির, আসাদুজ্জামান নামে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ১০ হাজার শ্রমিকের ওপর পাখির মতো ব্রাশ ফায়ার করেছে পুলিশ। যাকে আহত পেয়েছি তাকেই কোলে করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কতজন নিহত হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমিকরা আরও জানান, নিহতের প্রকৃত হিসাব জানা নাই। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে।

ফরহাদ নামের এক শ্রমিক জানান, নিহত রনির সাথে ছোটবেলা থেকে এক সাথে বড় হয়েছি। রনির মাথায় গুলি লাগছে। মগজ বের হয়ে গেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, ইফতারের একঘণ্টা আগেই ছুটি চাওয়া কাল হলো আমাদের। গুলি খেয়ে মরতে হলো রনিকে।

এ ব্যাপারে তথ্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকের মুঠোফোনে বার বার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপ ও চায়না সেফকো কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে এর আগেও পুলিশের বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রটি নির্মাণের পক্ষ বিপক্ষ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ৬জন নিহত হয়েছিল। একইভাবে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয়েছিল একজন।

এসএম

Advertisement