গণ্ডামারায় সুনসান নীরবতা

রাতে আঁধারে এলাকা ছাড়ছেন অনেকেই!

232
 মোস্তফা কামাল ও উদ্দীন রাকিব |  শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১ |  ১০:১৮ অপরাহ্ণ

বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হতাহতের ঘটনার পর ওই এলাকায় এখন সুনসান নীরবতা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাতে কয়েকটি পুলিশের গাড়ি টহল দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক আরও বেড়েছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের অতর্কিত আক্রমণ এখন পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সংঘর্ষের পর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কীসের অপরাধে এতোগুলো প্রাণ বলি হলো এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে?

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সিটিজিনিউজকে জানান, শ্রমিকদের কয়েকটি দাবি-দাওয়াকে সমর্থন না করে উল্টো পুলিশ লেলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। সকালে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর জানতে পেরেছি । আতঙ্ক হয়ে ঘটনা পর এলাকার অধিকাংশ মানুষ রাতে আঁধারে এলাকা ছাড়ছে ও আত্মগোপন করছে। এমন পরিস্থতি চলতে থাকলে এলাকা ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমরা পুরোপুরি ভয়ের মধ্যে আছি।

অন্যদিকে, পুলিশের আতঙ্ক ও গ্রেফতারে ভয়ে এসএস পাওয়ার ১৩২০ মেগাওয়াট থারমাল পাওয়ার প্ল্যান্টে কর্মরত শ্রমিকেরাও পালিয়ে গেছে।

এস আলম গ্রুপ’র থারমাল পাওয়ার প্ল্যান্টের সিকিউরিটি অফিসার রাশেদুল ইসলাম সিটিজিনিউজকে বলেন, সকল শ্রমিক ভয়ে চলে গেছে । পাওয়ার প্ল্যান্ট’র কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে । যতদিন ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না ততদিন প্ল্যান্টের কাজ বন্ধ থাকবে।

কর্মরত শ্রমিকরা বলছেন, এগারো দফা দাবি নিয়ে আমাদের এই আন্দোলন ছিল। কিন্তু দাবি পূরণ না করে প্রতিষ্ঠানটি পুলিশ দিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করেছে। আমাদের ৫ ভাই (শ্রমিক) পুলিশের গুলিতে এই আন্দোলনে বলি হলো। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কোনো মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির উদ্ধর্তন এক কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী (ইউএনও) সিটিজিনিউজকে বলেন, শ্রমিকদের মাঝে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া সংঘর্ষের পর অধিকাংশ শ্রমিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থেকে চলে গেছে। গণ্ডমারায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক হয়েছে । এতে নিহত পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও আহতদেরকে চিকিৎসা খরচ ও ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ (ওসি) তদন্ত মো. আজিজুল ইসলাম সিটিজিনিউজকে বলেন, এ সংঘর্ষে শ্রমিক সমর্থিত কিছু লোক এক পুলিশ সদস্যকে মারত্মকভাবে জখম করে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন। এছাড়াও আরও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

‘এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।’

 

 

 

 

Advertisement