কবি শঙ্খ ঘোষের জীবনাবসান

56
 সাহিত্য ডেস্ক: |  বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১ |  ১২:৫০ অপরাহ্ণ

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে শঙ্খ ঘোষের করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাতে আচমকা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।

Advertisement

বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাকে ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুর ১২টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান কবি। মৃত্যুকালে শক্তিমান এই কবির বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

করোনা আকারান্ত হওয়ার পরা হাসপাতালে যেতে চাননি। তাই কলকাতার বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তার। জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন কবি। গত জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাকে।

সৃষ্টিমুখর জীবন

১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্ম হয় শঙ্খ ঘোষের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর। কর্মজীবনে তিনি যাদবপুর ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।

তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানেও অধ্যাপনা করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ায় ‘রাইটার্স ওয়ার্কশপ’-এও শামিল হন। বছর দুয়েক আগে ‘মাটি’ নামের একটি কবিতায় ভারত সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠেছিলেন তিনি।

‘দিনগুলি রাতগুলি’র ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’
বাংলা কবিতার জগতে শঙ্খ ঘোষের অবদান কিংবদন্তিপ্রতিম। ‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবেও তার প্রসিদ্ধি সর্বজনবিদিত।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান, যা ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করেও সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে তাকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে তৎকালীন ভারত সরকার।

কবি চলে গেলেন, তবে রয়ে যাবেন পাঠকের অন্তরে। প্রেমে ও প্রতিবাদে, বিপ্লবে বা বিরহে বার বার তার কবিতার দুয়ারে যাবে বাঙালি।

এন-কে

Advertisement