একুশের পর রাত্রিকেও মায়ের কোল উপহার দিলেন ওসি আলমগীর

137
 জালালউদ্দিন সাগর |  শুক্রবার, এপ্রিল ৩০, ২০২১ |  ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ

এবার কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক রোজাইয়া রাত্রিকেও আদালতের মাধ্যমে মায়ের কোল উপহার দিলেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর। এর আগে ২০১৭ সালে ডাস্টবিন থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুড়িয়ে পাওয়া এক নবজাতককে আদালতের মাধ্যমে মায়ের কোল উপহার দিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। একুশের প্রথম প্রহরে সেই নবজাতককে উদ্ধার করেছিলেন বলে নিজেই তার নাম রেখেছিলেন একুশ।

Advertisement

গত ২৩ এপ্রিল, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর জিইসি মোড় এলাকার রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন চকবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর। পরে চিকিৎসার জন্য নবজাতকটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

শিশুটি সুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে নিঃসন্তান দম্পতির জিম্মায় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সে নবজাতককে লালনপালনের জন্য কামরুল হুদা ও ফারহানা আক্তার রূপা নামে এক দম্পতির জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

গতকাল ২৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে এই আদেশ দেন চট্টগ্রাম আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক ওসমান গণি। ২০ লক্ষ টাকা বন্ড জিম্মায় বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হুদা ও ফারহানা আক্তার রূপার কোলে জায়গা হয় শিশুটির। এসময় ভার্চুয়াল কোর্টে উপস্থিত ছিলেন শিশুটিকে লালন পালনের জন্য জিম্মায় নিতে আগ্রহী অপর আবেদনকারী ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনও।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রক্রিয়া শুরুর পর নিঃসন্তান দুই দম্পতি শিশুটিকে জিম্মায় নিতে আবেদন করেন আদালতে। তার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের আরআরএফ রিজার্ভ ফোর্সের উপ পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হুদা ও ফারহানা আক্তার রূপা দম্পতি এবং ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন। দুই দম্পতিই শিশুটিকে জিম্মায় নিতে যে কোনো পরিমাণের বন্ড দিতেও রাজি হন।

ভার্চুয়াল আদালতে দুই দম্পতির আবেদন শোনেন বিচারক। তাদের সাথে সরাসরি কথাও বলেন। ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনের স্ত্রী আদালতে উপস্থিত না থাকলেও সস্ত্রীক আদালতে উপস্থিত থেকে একটি সন্তানের জন্য নিজেদের আকুতির কথা জানান কামরুল হুদা ও ফারহানা আক্তার রূপা।

শুনানি শেষে আগামী ৩০ মে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও একজন উকিলসহ আদালতের সামনে শিশুটিকে সশরীরে অবস্থান নিশ্চিত করে ২০ লক্ষ টাকা বন্ড ও হলফ নামা তৈরির দিন ধার্য করে শিশুটিকে কামরুল হুদা ও ফারহানা আক্তার রূপা দম্পতির জিম্মায় দেন আদালত।

ওসি মোহাম্মদ আলমগীর সিএমপির আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর কর্নেলহাট এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করেছিলেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা শেষে আদালতের মাধ্যমে নবজাতক শিশুটিকে জিম্মায় নেন চিকিৎসক জাকির দম্পতি।

এসএম

 

Advertisement