সিডিএ’র খেয়ালখুশিতে পাহাড় কাটায় লিংক রোডে ধস!

173
 উদ্দীন রাকিব |  শুক্রবার, এপ্রিল ৩০, ২০২১ |  ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

১৬টি পাহাড় কেটে বায়েজিদ—ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মিত হলেও এখন সেই পাহাড়গুলোতে ধস শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি পাহাড়ের পাদদেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সড়কের একপাশ বন্ধ করে দিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা না মেনে পাহাড় কাটায় ধসের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটার উপর বিভিন্ন বিধি নিষেধ থাকলেও অভিযোগ আছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়াও লিংক রোডের দুপাশের পাহাড় কাটছে ভূমিদস্যুরা। আর এ কাজে সম্পৃক্ততা রয়েছে রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

Advertisement

অভিযোগ আছে- সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নামে বেনামে বায়েজিদ লিংক রোডের দু’পাশে পাহাড় দখল করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু পাহাড় কেটেও ফেলেছেন তিনি।

এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় পাহাড় কেটে রিসোর্ট গড়ে তুলছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স। ২০১৯ সালের শেষের দিকে রিসোর্টের নির্মাণ কাজ শুরু করে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স’র অধ্যাপক মো. দানেশ মিয়া সিটিজিনিউজকে বলেন, সঠিক নিয়মে পাহাড় না কাটায় ভূমি ধসের আশঙ্কা এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা না মেনে পাহাড় কাটায় ধসের অন্যতম কারণ। এভাবে খাড়াখাড়িভাবে পাহাড় না কেটে ২৬ ডিগ্রি কোণে পাহাড় কাটলে এমন শঙ্কা তৈরি হতোনা। আমরা দেখেছি উন্নত বিশ্বেও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হয় এবং সেখানে ঝুঁকি এড়িয়ে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। যেহেতু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভুল করে ফেলেছে সেক্ষেত্রে তাদের করণীয় হবে পাহাড় গুলো যাতে আর ধসে না যায় রিটেইনিং ওয়াল ( ঠেস দেয়াল) তৈরি করে দেয়া। যদি তা দেয়া না হয় সামনে বর্ষাকাল, এই বর্ষাতেই এখানে ঘটে যেতে পারে যেকোনো ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট গড়েছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ২৬ ডিগ্রি কোণে পাহাড় কাটার নির্দেশনা থাকলেও সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়ালখুশিতে পাহাড় কেটেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ ।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী বলেন, আমরা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বারবার ২৬ ডিগ্রি কোণে পাহাড় কাটার নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়াল খুশিমতে ১৬টি পাহাড় ৯০ ডিগ্রি কোণে কেটেছে। সেজন্য এখন পাহাড়গুলোতে ধস শুরু হয়েছে। এর আগে চউক’কে পাহাড় কাটার দায়ে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫টি পাহাড়ে ধস শুরু হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে ইতোমধ্যে সড়কের কিছু অংশে যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক সহকারী প্রকৌশলী আসাদ বিন নূর সিটিজিনিউজকে, ৫টি পাহাড়ে ধসে যাওয়ার সংবাদ শুনে আমরা পাহাড়গুলোর পাশ দিয়ে যে রাস্তা গিয়েছে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। পাহাড়গুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সঠিক নিয়মে কাটার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পাহাড়গুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। তাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।

প্রায় ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক নির্মাণে দুই পাশে ৯০ ডিগ্রি কোণে পাহাড় কেটেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সংযোগ সড়কটি নির্মাণে প্রথম প্রকল্প নেওয়া হয় ১৯৯৭ সালে। তখনকার ৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি এখন ৩২০ কোটি টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এসএম

Advertisement